somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বউ

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- শ্রাবণ একটু নিচে যা তো বাপ।
- সোহাগকে বলো।
- ও পারবে না। তুই যা।
- আমি ঘুমাচ্ছি এখন। পরে যাব।
- এখন যেতে বলেছি, এখনই যাবি। নো এক্সকিউজ।
- প্লিজ আম্মু।
- এইনে টাকা। কেজি কয়েক গরুর মাংস আনবি।

আমি কম্বলের মধ্যে থেকে ইঁদুরের মতো মাথা বের করে দেখলাম আম্মু রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। বিছানায় উঠে বসলাম। দেখলাম এক হাজার টাকার তিনখানা চকচকে নোট। দ্রুত বেগে নোটগুলো পকেটের চিপায় নিয়ে বিছানা ছাড়লাম। দাঁত ব্রাশ করতে করতে ভাবলাম এই সাত সকালে গরুর মাংস কেন? মেহমানদারী করবে টরবে নাকি? আমাকে ব্রাশ করতে দেখে আম্মু বিরক্তির স্বরে বললো, এখনো যাসনি? দাঁত কি পরে এসে মাজা যাবে না?

আমি ব্রাশ মুখের মধ্যে নিয়ে নিচে নামতেছি আর গান গাচ্ছি "আমি তোমায় ভালোবাসি, জগতে হইয়াছি দোষী।" সিড়ির মোড় ঘুরতেই লে হালুয়া। একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে চিৎ পটাং হয়ে ইচ্ছে করেই শুয়ে পড়লাম। যাতে মেয়েটা আমাকে কিছু না বলতে পারে। নয়তো একগাদা কথা শুনাবে, "কানা নাকি? চোখ কি পকেটে নিয়ে হাঁটেন? মেয়ে দেখলেই..." ইত্যাদি ইত্যাদি।

মেয়েটা আমার হাত ধরে টেনে তুলে বললো, লাগেনি তো? আমি মেয়েটির দিকে চেয়ে আছি। অসম্ভব সুন্দরী। মেয়েটি আমার বউ। একমাস হলো বিয়ে করেছি। আমি বললাম, আচ্ছা সুজানা এতো সকালে গরুর মাংস দিয়ে কী হবে?
- কে সুজানা?
- তুমি।
- পাগল টাগল নাকি?
- এই এই তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? আমি শ্রাবণ।
- আমি মহাপ্লাবন। মেয়ে দেখলেই বউ ভাবতে ইচ্ছে করে না?
- দেখো বউ সাত সকালে মশকরা কইরো না।
- ধুর যত্তসব পাগল ছাগল।

বউ উপরে চলে গেল। আমি রাস্তার ওপাশে থাকা মাংসের দোকানে গিয়ে চার কেজি মাংস নিলাম। মাংস নিয়ে রাস্তার এ পারে আসতেই দেখি সুজানা দাঁড়িয়ে আছে। আমি তার হাতে মাংস দিয়ে বললাম, যাও এগুলো নিয়ে উপরে যাও।
সে চুপচাপ আমার হাত থেকে মাংস নিয়ে উপরে চলে গেল। আমি পাশের একটা দোকান থাকে ছোট ভাইয়ের জন্য কয়েকটা চকলেট নিলাম। কারণ তাকে দিয়ে আজ একটা কাজ সম্পন্ন করাব।
.
বাসায় ঢুকতেই আম্মু বলে উঠলো, কিরে এখনো যাসনি মাংস কিনতে?
- গেছিলাম তো।
- তাহলে মাংস কই?
- কেন? সুজানা মাংস নিয়ে বাসায় ফেরেনি?
- সুজানা কে?
- সুজানা কে মানে? তোমার বেটার বউ।
- কি? তুই বিয়ে করেছিস? ও শ্রাবণের বাপ শুনছো, তোমার ছেলে নাকি বিয়ে করেছে।
- আম্মু তুমি চিল্লাছো কেন? তোমার পছন্দেই না বিয়ে করলাম।

আম্মুর চেঁচামেচি দেখে সোহাগ ছুটে এলো। এসেই আমার হাত থেকে চকলেটগুলো ছোবল দিয়ে নিয়ে বললো, কী হয়েছে ভাইয়া? আম্মু এই সাত সকালে চেঁচাচ্ছে কেন?
- আরে দেখ না আমি সুজানার কাছে মাংস কিনে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আর আম্মু বলে সুজানা আবার কে?
- হ্যাঁ তাইতো! এই সুজানা কে?
- সোহাগ ফাইজলামি করিস না। সুজানা তোর ভাবি। তুই না বিয়েতে তোর ভাবির সাথে ছবি উঠলি? দেখাবো ছবি?
- হু দেখাও।

আমি মোবাইল বের করে ছবি বের করতে গিয়ে দেখি ছবি নেই। আরে ছবি গেল কোথায়? গ্যালারি ভর্তি না ছবি ছিল? গেল কোথায় সব? আর এসব কী হচ্ছে আমার সাথে? নিশ্চয়ই আম্মু মজা করছে। কিন্তু এই সুজানাটা গেল কোথায়? সে এলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
.
বাসা থেকে বের হয়ে এসেছি। পুরো মাথাটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। ৬০ ফিটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। ভাবছি আজ আর বাসায় যাব না। হাসানকে বললাম, দোস্ত আজ তোদের ওখানে থাকা যাবে?
সে না করল না। কিন্তু সিয়াম বললো, কিরে আজ বোধ হয় ভাবির সাথে ঝগড়া হয়েছে?
আমি বললাম, আরে না তেমন কিছু না।

হাসানের ওখানে আর যাওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলে সুজানা দরজা খুলে দিলো। আমাকে দেখে বললো, সারাদিন কোথায় ছিলে? আর ফোন বন্ধ করে রেখেছো কেন?
- কেমন আছো সুজানা? তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।
- বলো।
- তুমি কিন্তু দেখতে সুন্দর। তুমি চাইলে আমি তোমাকে সাজিয়ে রাখতে পারি।
- কী বলছো এসব?
- আমার টাকা পয়সার অভাব নেই।
- আমি তোমার বউ।
- আরেব্বা বিয়ে না করতেই বউ?

সুজানা আম্মুকে ডাকতে লাগলো। আমি বললাম, তুমি চাইলে আমরা বিয়ে করতে পারি।
আম্মু এলে সুজানা বললো, মা দেখেন আপনার ছেলে কীসব আবোলতাবোল বকছে।
- কী হয়েছে?
- আম্মু সুজানা মেয়েটা অনেক সুন্দর না?
- হ্যাঁ।
- তোমার বউমা হিসেবে কিন্তু মন্দ হবে না।
- কী বলছিস এসব?
- তুমি আব্বাকে বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলো।
- পাগল হয়ে গিয়েছিস নাকি? সে তো তোর বউ। আবার বিয়ে কেন?
- আম্মু তোমার মাথা টাথা কি ঠিক আছে? সে আমার বউ হলো কবে? সে তো আমার বান্ধবী।
- তোর বান্ধবী তো আমাদের বাসায় কী করছে?
- বেড়াতে এসেছে। তুমি বিয়ের ব্যবস্থা করো। আমি একটু রেস্ট নেই।

রুমে এসে দরজা লাগিয়ে লুঙ্গি পড়ে কিছুক্ষণ ডান্স দিলাম। কেমন লাগে এখন? সকালে আমাকে বলদ বানিয়েছো। এখন কেমন লাগছে বলদ সাজতে? সকালে বললে সুজানা আবার কে? আর এখন বলছো সুজানা আমার বউ।

খানিকবাদে সুজানা রুমে এলো। আমি বললাম, কী ব্যাপার বিয়ের আগেই তুমি আমার রুমে কী করো? লোকে মন্দ বলবে। যাও বাইরে যাও। আগে বিয়েটা করে নেই।
- এই লক্ষ্মী বর, তুমি কি কিছু খেয়ে এসেছো? উল্টাপাল্টা কীসব বলছো?
- দেখো সুজানা, আম্মু দেখে ফেললে প্রবলেম হয়ে যাবে। বাইরে যাও।

আমি হাত ধরে টেনে তাকে রুম থেকে বের করে দিলাম। আজ রাতে আম্মুর কাছে ঘুমা। আমার সাথে নাটক করিস হ্যাঁ? আজ কার বুকে মাথা রাখবি?
.
রাত আনুমানিক এগারোটা কিংবা সাড়ে এগারোটা। ফোনের রিংটোনে ঘুম ভাঙলো। আম্মু কল করেছে। আমি রিসিভ করলাম।
- শ্রাবণ সুজানাকে তোর কাছে নিয়ে যা। মেয়েটা কান্না করছে।
- ছিঃ আম্মু ছিঃ, একটা বেগানা নারীকে এতরাতে আমার কাছে রাখবো কেন? লোকে জানলে কী হবে ভেবেছো?
- সে তো তোর বউ?
- সকালের কথা ভুলে গিয়েছো আম্মু? সারাদিন না খেয়ে ছিলাম। নিজের হাতে গরুর মাংস কিনলাম। অথচ খেতে পারলাম না। তোমরা আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছিলে।
- আচ্ছা বাবা সরি। এখন তোর বউকে তুই নিয়ে যা।
- পাঠিয়ে দাও।

খানিক পর সুজানা দরজায় নক করলো। আমি দরজা খুল দিতেই সে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করলো। বললো, সরি শ্রাবণ একটু মজা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মজা করতে গিয়ে তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। তুমি বসো, আমি খাবার নিয়ে আসছি। গরুর মাংস পোলাও সব রেখে দিয়েছি তোমার জন্য।
আহা আহা! অথচ বউটা জানে না আমি বাইরে থেকে বিরিয়ানি খেয়ে এসেছি।
.
বউ
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩১
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×