somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে এই স্বরস্বতি দেবী(বিতর্কিত হলে ও জানা দরকার)

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ স্বরস্বতি পূজা
কে এই স্বরস্বতি? (বিতর্কিত হলে জানা দরকার)
বেদের কিছু শ্লোকে সরস্বতী নদীর উল্লেখ
আছে। দেবী হিসেবেও বর্ণিত হয়েছেন
সরস্বতী।
अम्बितमे नदीतमे देवितमे सरस्वति |
– Rigveda 2.41.16
Best Mother, best of Rivers, best of Goddesses, Sarasvatī,
We are, as ’twere, of no repute and dear Mother, give thou
us renown.
अपो अस्मान मातरः शुन्धयन्तु घर्तेन नो घर्तप्वः पुनन्तु |
विश्वं हि रिप्रं परवहन्ति देविरुदिदाभ्यः शुचिरापूत एमि ||
– Rigveda 10.17
May the waters, the mothers, cleanse us,
may they who purify with butter, purify us with butter,
for these goddesses bear away defilement,
I come up out of them pure and cleansed.
–Translated by John Muir
আভিধানিক পরিভাষাঃ
সরস্বতীকে কখনো কখনো সারসবতী”
হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ
তিনি সার(গুন)+ স্বতি (নিজের) বা নিজের
গুনে গুণান্বিত। সংস্কৃত পরিভাষায় সরস্বতী
শব্দকে সরস+বতী বা জলপূর্ণ নদী হিসেবে
বর্ণনা করা হয়েছে। কোথাও সরস্বতীকে
“ব্রাহ্মী” বা ব্রহ্মার কন্যা আবার কোথাও
তাঁকে “ব্রাহ্মণী” বা ব্রাহ্মার স্ত্রী
হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও
“নারায়ণী” বা নারায়ণ ওরফে বিষ্ণুর স্ত্রী
আবার কোথাও তিনি “ভগবতী” “ভারতী”
হিসেবে বর্ণীত হয়েছেন। কোথাও তিনি
উন্মুক্ত বক্ষ (কুঁচযুগ শোভিতা) আবার কোথাও
তিনি “শ্বেতবসনা”। তিনি হংসাসনা,
পুস্তকহস্তে এবং বীনাবাদনী।
তার ধ্যানমন্ত্রঃ
“ওঁ তরুণ শকল মিন্দোর্ব্বিভ্রতি শুভ্র কান্তি,
কুচভরণমিতাঙ্গি সন্নিষন্না সিতাব্জে,
নিজকর কমলোদ্যল্লেখনী পুস্তকশ্রীঃ
সকল বিভবসিদ্ধৈ পাতু বগ্দেবতা নমঃ”।
নমস্কারমন্ত্রঃ
জয় জয় দেবীচরাচরসারে, কুচযুগশোভিত
মুক্তাহারে।
বীণাপুস্তকরঞ্জিত হস্তে , ভগবতী ভারতী
দেবী নমস্তে॥
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যেকমললোচনে,
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী
নমোহস্তুতে॥
সরস্বতীর জন্ম কাহিনীঃ
মিশর, গ্রীক, রোমান, অশিরিয়ান পৌরাণিক
কাহিনীর চরিত্রগুলির মতোই ব্রাহ্মন্য
সাহিত্যের চরিত্রগুলিও হেয়ালী এবং
স্ববিরোধিতায় পরিপূর্ণ। বিশেষত এই
চরিত্রগুলির জন্ম কাহিনী এমন “অসম
যৌনাচারে” ভরা যে তা বর্তমান নীল
ছবিকেও হার মানাতে পারে। বিশেষত
ব্রাহ্মন্যবাদী দেব দেবীর জন্ম
কাহিনীগুলি এমন কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল এবং
অনৈতিকতায় পরিপূর্ণ ধ্বংস করে দিতে
পারে মানবিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বোধ।
সরস্বতীর জন্ম কাহিনী এবং জীবন
কাহিনীও এই অবৈধ এবং অসম যৌনাচারের
সমন্বয়ে গড়া।
কয়েকটি বিশেষ পুরাণে সরস্বতীর জন্ম
কাহিনী পাওয়া যায়। এদের মধ্যে বিশেষ
ভাবে Aitreay Brahman III : 33 // Satapatha Brahman 1 :
4 : 7 : 1ff // Matsya Puran III : 32ff // Bhagabati Puran III :
12 : 28ff উল্লেখযোগ্য। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও
শ্রী কৃষ্ণের (বিষ্ণু) জিহ্বা থেকে সরস্বতীর
জন্ম দেখানো হয়েছে।
সরস্বতী পুরাণ মতেঃ
স্বমেহন বা হস্তমৈথুন করতেন ব্রহ্মা।
হস্তমৈথুনের পর নির্গত বীর্য তিনি একটি
পাত্রে জমা করতেন। একদিন ঊর্বশীকে
দেখে কামাতুর হয়ে পড়েন। অভ্যাস বশত
হস্তমৈথুন করে সেই পাত্রে রাখেন এবং
সেখানেই সরস্বতীর জন্ম হয়। তাই সরস্বতীর
কোন মা নেই।
আর একটি সূত্র থেকে পাওয়া যায়, ব্রহ্মার
বীর্যে মাটির পাত্রে জন্ম হয় ঋষি অগস্ত্য
এবং পরে অগস্ত্য জন্ম দেন সরস্বতীর। এই সূত্র
অনুযায়ী সরস্বতী একদিকে ব্রহ্মার নাতনি।
পিতা ব্রহ্মা ও কন্যার অবৈধ যৌনতাঃ
নিজের কন্যার রূপ দেখে ব্রহ্মা যৌন
লালসায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। তাঁকে
বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করতে ছুটে আসে। সরস্বতী
পিতার কামাতুর দৃষ্টি থেকে পরিত্রান
পাবার জন্য চতুর্দিকে ছুটে বেড়ান কিন্তু
পিতা তাঁকে চতুর্মুখ দিয়ে আকর্ষণ করতে
থাকে। শেষ পর্যন্ত হার মানে সরস্বতী।
পিতার বাহুবন্ধনে ধরা দেন। তারা একটি
গুহায় প্রবেশ করে। ১০০ বছর ধরে পিতা ব্রহ্মা
কন্যা সরস্বতীকে ধর্ষণ করে এবং সেই অবৈধ
সঙ্গমের ফলে স্বয়ম্ভূমারু’র (মনু) জন্ম হয়।
অন্য আর একটি সূত্র থেকে পাওয়া যায় যে
ব্রহ্মা ও সরস্বতীর অবৈধ যৌন মিলনের ফলে
একটি সন্তান মনু এবং একটি কন্যা শতরূপার জন্ম
হয়।
নিজের পুত্র মনু’র সাথে সরস্বতীর যৌনতাঃ
মৎস পুরাণে উল্লেখ আছে যে পিতা ব্রহ্মার
যৌনাচারে ক্ষিপ্ত হয়ে সরস্বতী তাঁকে
পরিত্যাগ করেন এবং পুত্র মনুকে নিয়ে
পালিয়ে যায়। যাবার আগে তিনি
ব্রহ্মাকে অভিসম্পাত করেন যে পৃথিবীতে
কোথাও তিনি পূজিত হবেন না। বেশ কিছু
পুরাণ বর্ণনা করেছে যে এই সরস্বতী তার
নিজের ছেলে মনুকে বিয়ে করেন এবং
তাদের প্রিয়ব্রত ও উত্তানপাদ নামে দুই পুত্র
ও আকুতি, দেবাহুতি ও প্রসুতি নামে তিন
কন্যার জন্ম হয়।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে সরস্বতীকে চঞ্চল,
কলহপ্রিয়া এবং কামার্ত নারী হিসেবে
বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে
যে, এই দেবী জন্মের পরের থেকেই
জন্মদাতা(বিষ্ণু)র প্রতি অতিশয় কামার্ত
হয়ে পড়েন। বিষ্ণুর শয্যায় লক্ষ্মীকে দেখে
ঝগড়া শুরু করেন। দুই সতীনের ঝগড়া এমন
পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিষ্ণু এদের অভিশাপ
দিয়ে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে দেয়।
বিষ্ণুর অভিশাপে সরস্বতী নদী হয়ে যায়
এবং লক্ষ্মী নদীর পাড়ে গাছ হয়ে যায়।
বিষ্ণু শিবকে এ কথাও জানায় যে এই দুই
নারীর কারণে পৃথিবীও যৌনতা ও কলহপূর্ণ
হবে। ওখানকার শান্তি বিনষ্ট হবে।
পরিশেষঃ
এতক্ষনে সরস্বতী সম্পর্কে আমরা নানা তথ্য
পাওয়ার পর নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছি যে
ব্রাহ্মনেরা কোন মহিমায় ভূষিত করে এই
বিদ্যার দেবী বা বিদ্যেধরীকে সৃষ্টি
করেছেন। এটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই
বিদ্যেধরীর পূজা বা প্রচারের সাথে
ব্রাহ্মন্যবাদের আসল দর্শন লুকিয়ে আছে যে
ব্রাহ্মন্য দর্শন সম্পূর্ণ ভাবে কল্পকাহিনী ও
হেয়ালীর উপর প্রতিষ্ঠিত। মেহেরগড়, হরপ্পা,
মহেঞ্জোদড়ো, ধলাভিরা, কালিবঙ্গান,
লোথাল, গঙ্গারিডি, পাণ্ডুরাজার ঢিবি
বা নাগা সভ্যতা নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক
গবেষণা যত এগোচ্ছে ততই শঙ্কিত হয়ে উঠছে
ব্রাহ্মন্যবাদ। অগত্যা বেদের কাল্পনিক
কাহিনীর উপর ভিত্তি করে টিকে থাকার
এই শেষ প্রচেস্টা। স্কুল কলেজ বা সরকারী
প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরস্বতী পুজা বন্ধ হয়ে
গেলে মরণাপন্ন ব্রাহ্মন্যবাদ তো আর্ত
চিৎকার করবেই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×