somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লুঙ্গির রচনা ( একটি গবেষণাধর্মী ও ব্যতিক্রমধর্মী পোস্ট )

২৪ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
.
.
.
.
.
.
.

ভূমিকা ঃ মানুষ একটি সভ্য জাতি , প্রাচীন কাল থেকে তারা নিজেদের লজ্জা নিবারনের জন্য ও নিজেদের সোন্দরজ প্রকাশের জন্য বিভিন্ন কাপড় পরিধান করে আসছে , তেমনি একটি কাপড় হচ্ছে লুঙ্গি । পড়তে সহজ ও শরিরের নিচের অংশ ঠান্ডা রাখতে ইহা খুব ভাল কাজ করে । গরমের দিনে , শোবার বিছানায় ও বাথরুমে যে কোন জায়গায় ইহা আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দেয় ।



লুঙ্গি কি ? ঃ লুঙ্গি একটি পরিধেয় বস্তু যা মানুষের গায়ের নিচের অংশ ঢাকতে সাহায্য করে থাকে । এর মাধ্যমে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে যেমন ঘুরে বেড়ানো জায় , তেমনি লজ্জাও নিবারন করা যায় । এটি প্রধানত ছেলে ও পুরুষের পোশাক হলেও বর্তমানে মেয়েরা যে হারে ছেলেদের কাপড়ের উপর আক্রমন চালাচ্ছে তা অদুর ভবিষ্যতে সর্বজন পরিহিত পোশাকে পরিনত হতে পারে ।



গঠনঃ লুঙ্গি দেখতে অনেকটা বেলুনের মত , যা গোলাকার এবং এর মাঝে পুরা ফাঁকা যেখানে মানুষের শরীর অবস্থান করে । ধুতি চাদরের মত হলেও ইহা স্কার্টের মতন করে গোল করে সেলানো থাকে। এর দু পাশে চোঙের মত খোলা , ইহা ইচ্ছামত উপরে – নিচে পরিধান করা যায় ।

উতসঃ গবেষণায় দেখা গেছে, এর সূচনা হয়েছে দক্ষিণ ভারতে বর্তমানে তামিলনাডুয়। ভেস্তি নামক এক ধরনের পোষাককে লুঙ্গির পূর্বসূরী বলে মনে করা হয়। ইতিহাসে উল্লেখিত আছে মসলিন কাপড়ের ভেস্তি পোষাক তামিল থেকে ব্যবিলনেরপ্তানী হত। ব্যবিলনের প্রত্নতাত্বিক নিবন্ধে 'সিন্ধু' শব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। তামিল ভাষায় সিন্ধু অর্থ কাপড় বা পোষাক। 'বারাদাভারগাল' নামের তামিলনাডুর জেলে সম্প্রদায় পশ্চিম আফ্রিকা, ইজিপ্ট বা মিশর এবং মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে লুঙ্গি রপ্তানীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সময়ের সাথে, সাদা কাপড়ে ফুল এবং অন্যান্য নকশা চিত্রিত হয়ে পরবর্তীতে লুঙ্গিতে পরিণত হয়েছে।

প্রচলনঃ বাংলাদেশ, ভারত , শ্রীলংকা এবং মায়ানমারে এর প্রচলন দেখা যায়। যদিও এটির সূচনা দক্ষিণ ভারতে কিন্তু এটি দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সম্প্রদায়ই ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে লুঙ্গি বার্মা, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় এটি বেশি জনপ্রিয় যে সকল অঞ্চল গরম এবং আর্দ্রতার কারণে আবহাওয়া অসহনীয় হয়ে উঠে সে সব অঞ্চলে এটি বেশি পরা হয়।

আবিস্কারঃ ধারণা করা হয় প্রাচীন যুগ থেকেই লুঙ্গির প্রচলন চলে আসছে , এর আবিষ্কারের কারন হিসেবে অনেক গল্প প্রচলিত আছে । তার মদ্য সবচেয়ে মজার ঘটনা হল “ একবার রাজা মেয়ের বিয়েতে পায়জামা পরে ছিলেন, খাওয়ার পর হটাত পেট মোচড়ালে তিনি বাথরুমে গিয়ে পায়জামার দড়ি খুলতে পারলেন না , অনেক্ষন ব্যর্থ চেস্টার পর ........... ( বাকিটা বুঝে নেন । এরপর রাজা দর্জিকে বলেন এমন কাপড় তৈরি করতে যা এই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দিবে “

প্রকারভেদঃ সাধারনত এক রঙের লুঙ্গি পরিধান করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন রঙের ও কাপড়ের লুঙ্গি বাজারে পাওয়া জায় । কাপড় ভেদেও লুঙ্গি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে ।





পরার নিয়মঃ একটি শুকানো লুঙ্গিটি নিয়ে তাতে প্রথমে এক পা, পরে আরেক পা ঢোকাতে হবে। দুই পা ঢোকানো হয়ে গেলে লুঙ্গি টেনে কোমর বরাবর আনতে হবে। তবে অনেকে লুঙ্গিকে মাথার ওপর দিয়ে গলিয়েও পরেন।এবার লুঙ্গির কোমরের কাছের ঘের ধরে গুটিয়ে একটা গিঁট মারুন। গিঁটটি মজবুত ও টেকসই হওয়া চাই। তবে এমন গিঁট মারবেন না যা আপনি পরবর্তীতে নিজে বা স্ত্রী/শালী/বান্ধবী/পাশেরবাড়িরভাবি প্রভৃতির সহায়তায় খুলতে অপারগ হবেন। অনেক মফিজ বেলট দিয়ে লুঙ্গি পরে, আপনিও চাইলে পরতে পারেন।


ব্যবহারঃ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পরা হয়। লুঙ্গি পরে কৃষি কাজ সহ সকল কাজ করতে সুবিধা হয় , ইহা ইচ্ছা মত ছোট – বড় ও উপর-নিচ করে পরিধান করে যায়

সুবিধাঃ লুঙ্গির বহুবিধ সুবিধার কারনে তা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে পরেছে , নিচে লুঙ্গির সুবিধা বর্ণনা করা হল
. ইহা পরতে খুব সহজ , কোন ঝামেলায় পরতে হয়না
. বিছানায় এর ব্যাপক সুযোগ – সুবিধা পরিলক্ষিত হয় ( বিস্তারিত বুঝে নিয়েন )
. ইহা হাওয়া চলাচলে সহায়তা করে , গরমের দিনে ভাল কাজ দেয়
. বাথরুমে ইহা অনেক ঝামেলা থেকে আমাদেরকে মুক্তি দান করে :-/:-/
. কাপড় পালটাতে ইহার ভাল বিকল্প কিছু নেই
. যে কোন সময় , যে কোন পরিস্থিতিতে ইহা ছোট – বড় ও উপর-নিচ করে সুবিধামত পরিধান করে যায় ( উল্টা-পাল্টা চিন্তা কইরেন না ) ;););)



অসুবিধাঃ সকল ক্রিয়ার যেমন সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে , তেমনি প্রায় প্রত্যক জিনিসের সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই আছে , নিচে লুঙ্গির অসুবিধাগোলো দেওয়া হল

. রাস্তার মাঝখানে অথবা যে কোন জায়গায় ইহা বাতাসে উপরে উঠে জেতে পারে
. যে কোন পার্টি বা অনুষ্ঠানে সবার সামনে ইহা খুলে জেতে পারে X(X(
. রাতে গড়াগড়ির সময় লুঙ্গি হারিয়ে জেতে পারে :P:P:P
. ছোট ভাইয়ের ( !! ) উপস্থিতি সহজেই বুঝা যায় :-*:-*


উপসংহারঃ লুঙ্গি একটি খুব উপকারি বস্তু । ইহার সঠিক ব্যবহার করলে ইহা আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান করে এবং অনেক কাজ সহজ করে দেয়
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×