somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্তানৃত্য ।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসক্ত এক দৃশ্যের মুখোমুখি- আষ্টেপৃষ্ঠ অদ্ভুত অলংক্রিয়া, নিরপরাধ। নীরবতার শীতল শুভ্র বরফ গলে গলে পড়ছে চারপাশ জুড়ে । মৃত্তিকা নিজস্ব নীরবতা ভেঙ্গে উঠে দাঁড়ালো, সে আঁকলো আপন অবয়বে অজস্র মুখশশী মানব রূপ, চন্দ্র ঠেলে দিলো দেহগুলোয় একগুচ্ছ সোনালি কিরণ । আলো সংগোপন করে দেহগুলো যেন সাজলো রাত্রির পূর্ণাঙ্গ জ্যোৎস্নায় । পায়ের শিকল বন্ধনী ছিঁড়ে বাদ্যযন্ত্র সকল বেরিয়ে আসলো মৃত্তিকার দীর্ঘায়িত ফাটল আঁচড়ে । দৃশ্যমান- সুশৃঙ্খল দীর্ঘ বৃত্তান্ত- ধুলো মানব এবং ধুলো বাদ্যযন্ত্রের !

প্রথম নীরবতা এখনো ভাঙ্গে নি, এই নীরবকে সঙ্গী করে এতো আয়োজন হলো, যেন বহুদূর কোথাও শোরগোলের রাজ্যকে বেঁধে রেখে লুন্ঠন করা হয়েছে চির নিস্তব্ধকে ! থমকে আছে সবকিছু, কঠিনতর থেকে কঠিনতর । ধূলো মানব এক পা সামনে এগিয়ে উঁচুতে সমর্পণ করে রেখেছে, এ যেন অপেক্ষা হাত থেকে কোন শাদা রূমালের পতনে । ধুম ধুম... ধুম ধুম ! অতি সূক্ষ্ম মোহনীয়তায় ধীরে ধীরে দেহগুলো তাদের দোলাচ্ছে, ঠিক মিলিয়ে বাদ্য যন্ত্রের সুরের বিন্দু বিন্দু প্রতিটি ঝংকারের সাথে । দেহের সমগ্র ভাঁজে ভাঁজে সুগঠিত নৃত্য খেলা করছে !

মৃত্তিকার হৃদয় সুখে কাঁদছে, ধীরে ধীরে নৃত্যের বেগ বাড়ছে, দেহ বেয়ে ঝরছে ছাই রঙের জল । এ যেন মৃত্তিকা বহু শতাব্দী পর সময়কে কবজা করে উঠে দাঁড়িয়েছে, সে ইতিহাস জিজ্ঞেস করার সুযোগ এখনো হয়ে উঠে নি । আমি ছিলাম অধরা তাই তারা বেঁধে রেখেছে আমায় তাদের রাজ সিংহাসনে। উপভোগের কেন্দ্র বিন্দু শুধুই আমি । কর্ণের প্রতিটি শব্দ তরঙ্গের সাথে তাদের মোহনীয় নৃত্যের সুখ খেলা করে যাচ্ছে । আহা ! এমন সুখ কোথা থেকে আসছে, তারা কীভাবে এতো সঠিকভাবে সুখ দিতে পারে, যেখানে এক বিন্দু ঘোলা জল নেই ! আমি থাকতে চাই এখানে, আমি এখানেই থাকতে চাই, এভাবে বন্দি হয়ে অজস্রকাল ! আমাকে কেঁড়ে নেওয়ার রং কে আমি চিরতরে ভুলে যেতে চাই । হে মৃত্তিকা ! আমায় আপন করো তোমাদের সুখের অঙ্গে, তোমাদের এই নৃত্যাসরে, তোমাদের এই বিনম্র ছন্দের কোলাহলে....

খুলে যাচ্ছে আমার সকল বাঁধন ! না, না... খুলে যেও না হে বাঁধন, করুণা করো আমায়, আমি চাই না যেতে এই মায়া পূর্ণিমার যত্ন ফেলে ।করুণার তোয়াক্কা হয় নি, একে একে সকল বাঁধন খুলে শূন্যে ভাসিয়ে দিলো ওরা আমায় । তারা গহীন বুক উজাড় করে তাদের শেষতক সুখের যন্ত্রণা আমায় দিতে লাগলো, আমি চক্ষু প্রসারিত করে দু'হাত ঠেলে দিয়ে কপালের ভাঁজ খুলে উপভোগ করতে লাগলাম প্রাণময় এক অজানা বিস্তৃত উদ্যান ! আমি অনুভব করছি আমার দেহের প্রতিটি আস্তরণ খুলে পড়ে যাচ্ছে, সেখানে কোন হাড় নেই, নেই কোন খুলি, নেই কোন চামড়া আবৃত মসৃণতা, আছে শুধু ধূলার মৃত্তিকা । আমি মৃত্তিকার স্তূপ হয়ে সম্পূর্ণ আঁচড়ে পড়লাম শূন্যের এক অমীমাংসিত পেয়ালায় । চূর্ণ হয়ে রইলো আমার দেহের প্রতিটি সুখ ।

ওরা আমার স্তূপে খুঁড়ে খুঁড়ে কী যেন খুঁজেছিল, ওরা পেয়েছিলো একমুঠো কালো রং । ওরা বিস্বাদী যন্ত্রণায় তা বহুদূর ছুঁড়ে ফেলে দিলো, কান্নার জল গায়ে মেখে ওরা আবারও নিমজ্জিত হলো ওদের আদিম সজ্জায়, অজস্র অপেক্ষায় । ওরা পায় নি ঠিকানা খুঁজে আমার এ দেহে, ওরা খোঁজ করেছিলো একমুঠো সোনালী বর্ণের...



**একটি 'কল্পনাপ্রধান পাঠ' রচনা !

কিছু শব্দার্থঃ আষ্ঠেপৃষ্ঠ- সারা দেহ জুড়ে । অলংক্রিয়া- অলংকরণ বা সাজানো । মুখশশী- চাঁদের মত সুন্দর মুখ ।


ছবি কৃতজ্ঞতা- নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:১৬
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×