somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কথাকথিকেথিকথন
আমার একটি দুঃখ আছে, নাম তার 'সুখ' ! যার পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হচ্ছি আমি নিত্যি বেহুশ !!( [email protected] )

হৃদয়ের লাশ।

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দু'টি হৃদয়ের দু'হাতের মধ্যে দূরত্ব কতটুকু কিংবা দু'কনিষ্ঠা আঙ্গুলের মাঝে ? এভাবে চলতে চলতে একদিন দু'কনিষ্ঠা আঙ্গুলের আলতো ঘর্ষণে দু'হৃদের মধ্যে আগুন ধরে গেল, অজানা শিহরণের আগুন ! হন্যে হয়ে, রাতভর, নিদহীন দু'হৃদ খুঁজতে থাকে কোথায় তার উদ্ভব...এক বিকেলে দু'জন দূরত্বে দাঁড়িয়ে, নিশিকাব্যের মত, নিশ্চুপ । কিন্তু তারা পুড়ছে একে অপরের অনুভবে ! অতঃপর একটি নিচ্ছিদ্র প্রেম অনুরাগ...এভাবে দু'টি হৃদয় তাদের অনুভব লিখতে লিখতে হারিয়ে গেল...

নিবিড় পর্যবেক্ষণে পড়ে আছে হৃদয়।কিছুক্ষণপর অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা হবে। তারা হৃদয়ের মধ্যে তোমাকে জীবিত দেখে কৃত্রিম শ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলো হৃদয়টাকে । কিন্তু তাদের সময় ফুরিয়ে গেছে, অপেক্ষমান আছে আরো হাজারো মুমূর্ষু হৃদয়। তুমি বরং তাদের কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে হিমঘর থেকে হৃদয়ের লাশটা নিয়ে যেও। তখনও তুমি দেখবে হৃদয়ের সেই লাশে শুধু তুমি অজস্ররকমভাবে বেঁচে আছো। মূলত তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে বলেই সেই হৃদয়ের মৃত্যু ঘটেছিলো। ধীরে ধীরে হৃদয়ের সমস্ত প্রাণ শুষে নিয়েছিলে তুমি। অতঃপর তোমার সান্নিধ্যে তার কিছু রেখে যাওয়া। তুমি এই শুকনো অনুভূতিহীন হৃদয়টাকে যত্ন করে রেখে দিও....

হীমঘরের অপরপ্রান্ত থেকে অভিমানী আওয়াজ ভেসে আসলো...

তোমার কী মনে পড়ে না তুমি বলেছিলে, 'তোমার আমার মৃত্যু হলে আমাদের প্রেম বেঁচে থাকবে কীভাবে ! আমি চাই আমাদের প্রেম আমাদের শিহরণ জীবন্ত রেখে বেঁচে থাকুক অনন্তকাল... । তাই আমরা দেহভস্ম নিয়ে যে যার মত বেঁচে থাকি, একসাথে আমরা আমাদের হৃদয়ের মৃত্যু উদযাপণ করি, শত বিহঙ্গের পালক ঝরে পড়বে আমাদের ঘিরে, আমরা ডুবে যাব পালকের ভাঁজে! কেউ আর জানতে পারবে না দেহের অন্তরালে আমরা আত্মহত্যা করেছি ! আমাদের নামে আর কোন বদনাম রটবে না । তুমি কী জানো পৃথিবীতে এমন অজস্র মানুষ ঠিক এভাবে আত্মহত্যা করে বেঁচে আছে । অথচ তাদের আত্মহত্যার খবর পৃথিবীতে বেখবর !'

প্রিয়তম, তোমার পূর্বে আমি এখানে পৌঁছে গেছি। অথচ তুমি ভুলে গেলে তোমার কথা । আমার জানা নেই হৃদয়ের অভিশাপ পুষে রেখে তুমি কতকাল এভাবে আমাকে আগলে রেখেছিলে! তবে আমি এই মৃত হৃদয়েও তোমার চক্ষের বিষাদভরা জল অনুভব করেছি । আমার আত্মচিৎকারে এই হিমঘরের সমস্ত হৃদয়ের লাশ বিব্রতবোধ করেছিল । আমি অপেক্ষায় ছিলাম আমাকে এভাবে বিষাদের বাঁধনে বেঁধে না রেখে তুমি আসবে কবে এখানে, কত প্রহর মরে গেল... চেয়ে দেখো চারপাশে, এখানে কত প্রশান্তি ! হৃদয়ের কত লাশ অথচ নিস্তব্দ! জানো তোমার দুঃখে আমি একটুও কাঁদি নি কারণ তবে তো তুমি কান্নার সমার্থক হয়ে যাবে ।কিন্তু আমার কাছে তুমি তো বিষাদ নও, তুমি হলে অজস্র কালের একত্রিত সুখ। আমি চেয়েছিলাম, আমার হৃদয়ের মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেবো তোমার হৃদয়ের অনন্ত পথ.... সে সময় আমার এসে গেছে । এখানে কেউ আমাকে আর রুখতে পারবে না তোমার প্রতি আগ্রাসী অগ্রসরে। আমার দেহ পৃথিবীর ধোঁকা হয়ে থাক । এখানে আমরা আমাদের দু'টি হৃদয় দিয়ে প্রেমস্বর্গ গড়ে তুলবো...


ছবি বন্ধু- গুগল ইমেইজ !
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৮
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×