somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখনও তোমায় খুঁজে বেড়াই, তুমি কোথায়?

২৭ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন এক অজানা কারণে আমার দাদি আপু আমাকে অনেক ভালবাসতো। অনেক ভালবাসতো বললে কম হয়ে যাবে। অনেক শব্দটা কতবার ব্যবহার করলে তার ভালবাসা পরিমাপ করা যাবে তা আমার জানা নেই। আমার দাদি আপুর অনেক নাতি-নাতনি ছিল অনেক বলতে অনেক। তাদের সবার মধ্য থেকে আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে না অনেকটা প্রকাশ্যেই অনেক বেশি ভালবাসতো। আর সবাই ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই দেখত। আমার বয়স যখন ১৩ তখন আমার দাদি মারা যায়। ছোট বেলা থেকেই আমার দাদি আপু গ্রামে থাকতো আর আমি ঢাকায়। আমার গ্রামে আসার খবর পেলেই দিন গুনা শুরু করত। আর মাত্র ১৫ দিন আর মাত্র ১৪ দিন.......আর মাত্র ২ দিন। আর আমি আসার আগের রাতে তো বেচারির ঘুম হারাম। আমি তখন লঞ্চে গ্রামে যেতাম সে লঞ্চ র্টামিনালে এসে আমার জন্য অপেক্ষা করত। লঞ্চ থেকে নামার পর প্রায় ঘন্টা খানেক আমাকে বুকে জড়িয়ে কান্না করত। তার কান্নায় আমার টি-শার্ট ভিজে চুপু চুপু হয়ে যেতো আর আমিও সমানে কান্না শুরু করতাম। আমাদের দুজনের কান্না কাটিতে আশেপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে যেত। সবাই আমাদের ভালবাসা দেখে কিছুটা অবাক হত। তারপর একসাথে আমরা সবাই মিলে বাড়ির দিকে রওনা হতাম। বাড়ির দিকে যেতে যেত এইবার আমাদের (আমার ও আমার দাদি আপুর) কি কি প্লান তা শেয়ার করতো। আমারা দুইজন হাত ধরে কথা বলতে বলতে হেটে হেটে বাড়ির দিকে রওনা হতাম। বাড়িতে ফেরার পর একে একে আমাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতাম। আমরা মূলত বড়সি/ছাবি দিয়ে মাছ ধরা, কাঠ বাদাম সংগ্রহ করে তা খাওয়া, জঙ্গল থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল সংগ্রহ করে তার খাওয়া ও সবার মাঝে বিলানো, আশে-পাশের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরতে যাওয়া এবং সবার বাড়িতে গিয়ে মজার মজার খাবার খাওয়া। আমার দাদি আপু জমিদারের কন্যা ছিলেন এবং তার সবচাইতে পছন্দের মানুষ ছিলাম আমি তাই আমার কদরও অনেক বেশি ছিল। আর সারাক্ষণ গল্প করা আমাদের গল্প তার মারা যাবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত চলমান ছিল। তার মৃত্যুর পরও আমি একা একা তাকে কল্পনা করে অনেক গল্প করতাম। এখন ব্যাপার একবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। আমি যখন একা থাকি প্রায়ই তার কথা মনে পরে। মাঝে মাঝে তাকে আমার খুব কাছে আশে পাশে ফিল করি। আমি যখন গ্রামে যেতাম আমাকে এক সেকেন্ডর জন্যও চোখের আড়াল হতে দিত। আমি অন্য কারও সাথে বা কাজিনদের সাথে খেলছি তাও দূর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। আমি ব্যাপারটা খেয়াল করতাম। আমার যখন ঢাকাতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হত বেচারি খুব মনমরা হয়ে যেত। সবাই বলত রাজু তুমি যতদিন তোমার দাদি আপুর সাথে থাকো আমাদের মনে হয় সে জীবিত থাকে। তুমি যাবার পর সে আবার আগের মত মনমরা হয়ে যাবে। আমারও খুব কষ্ট হত এই কথাগুলো শুনে। আমি তাকে আমাদের সাথে মাঝে মাঝে নিয়ে আসতাম ঢাকায়। কিন্তু তাকে কোনভাবেই ঢাকায় রাখা যেত না। তাই সে আবার গ্রামে ফিরে আসতো কিন্তু তার মনটা পরে থাকতো আমার কাছে। তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার ব্যাপারটা আমি কোনভাবেই বর্ণনা করতে পারবো না। একদিন হঠাৎ করে আব্বু বললো দাদি আপু অসুস্থ গ্রামে যেতে হবে। আমরা সবাই সাথে সাথে গ্রামেও উদ্দেশ্যে রওনা হলমা। আমি লঞ্চ র্টামিনাল থেকে নেমে দাদি আপুকে খোঁজা শুরু করলাম কোথাও পেলাম না। এই প্রথম আমাকে সে রিসিভ করতে আসলো না। আমি এই প্রথম একা একা লঞ্চ র্টামিনাল থেকে বাসার দিকে রওনা হলাম। সে টানা ২ দিন অসুস্থ থাকার পর আমরা গ্রামে তার কাছে যাই। আমি যাবার পর আমার দাদি আপুর রুম থেকে সবাই চলে গেল। আমি আস্তে আস্তে গিয়ে তার কাছে গিয়ে বসে তার হাতটা ধরলাম। আমি যাবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে কোন প্রকার মুভমেন্ট করতে পারছিল না এবং কোন কথাও বলতে পারছিল না। শুধু একবার বলেছিল "রাজু রাজু"। আমি গিয়ে তার হাতটা ধরার পর সে অস্পষ্ট স্বরে একবার বলল, "রাজু"। আমি বললাম, "হ্যাঁ" আমি রাজু। তারপর সে আবারও স্পষ্ট স্বরে বলল, "রাজু রাজু"। আমি আর কিছু বললাম না শুধু তার হতটা ধরে বসে রইলাম। তার কিছুক্ষন পর আমার দাদি আপু মারা যায়। কিছুক্ষন পর তার রুমে অনেক মানুষ আসে। আমাকে সেখান থেকে বের করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। আমি বাইরে এসে পুকুর পারে বেঞ্চে একা একা বসে ছিলাম। এর পর আমার আর তেমন কোন কথা মনে নেই। শুধু এতটুকু মনে আছে ওইবার ঢাকার ফেরার সময় কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেউ কান্না করে নি, পিছন দিকে থেকে কান্না জড়িত চেহারায় আমার দিকে তাকিয়ে ছিল না। আমাকে কেউ এমন বিদায় দিতে আসে নি যাকে দেখে আমার মনটা ভারী হয়ে উঠে। আমি আমার দাদি আপুকে খুব মিস করি। কি হত যদি সে আর কিছু দিন বেচে থাকতো। আমার এখন খুব আফসোস আমার দাদি আপুর যদি কাছে যদি একটা স্মার্টফোন, একটা ল্যাপটপ, একটা ফেসবুক একাউন্ট থাকতে আমি একটা মুহুর্তও তার কাছ থেকে আলাদা থাকতে পারতাম না। আমি জোর গলায় বলতে পারি আমার দাদি আপু আমার যতটা কেয়ার করতো এই পৃথিবীতে আর কারও পক্ষে আমার প্রতি এতটা কেয়ার কার সম্ভব নয়। কই তার কাছে তো কমমিউনিকেশনের কিছুই ছিল না। যদি থাকতো কি করতো একমাত্র আল্লাহ্ ই জানে। আমি জানি আমার দাদি আপু অনেক ভাল আছেন। কারণ উনি অত্যন্ত ভালো একটা মানুষ ছিলেন। আমিও চাই তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। উনিও হয়তো আমাকে অনেক মিস করেন। আমাদের ভালোবাসাটা না হয় এভাবেই থেকে যাক। কিছু কিছু জিনিস এভাবেই থেকে যাওয়া ভালো।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×