somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রোগ্রামারদের স্বাস্থ্যকথন...

১০ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

  আপনি কি একজন প্রোগ্রামার? দিন রাত কোড বা প্রোগ্রাম লিখতে ব্যস্ত- হ্যা,তাহলে এই লেখাটি আপনারই জন্য। প্রোগ্রামারদের মধ্যে প্রায় সবার ভেতরই একটা স্বভাব লক্ষ্য করা যায় যে তারা দিন এর পর দিন নির্ঘুম থেকে এক মনস্থ্য হয়ে কোড লিখে প্রোগ্রাম বানিয়ে যান। আশে পাশের কোন কিছুর প্রতিই তখন আর তাদের বিশেষ ভাবাবেগ কাজ করে না। এক ধ্যানে প্রোগ্রাম লিখে যাওয়াটাই হচ্ছে তাদের কাজ। কিন্তু একজন প্রোগ্রামারও একজন মানুষ-রক্ত মাংসে গড়া স্বাভাবিক মানুষ। কিছু ব্যপার বা বিষয় মেনে না চললে একজন সাধারন মানুষের মত তাদেরও কিছু গুরুত্বপুর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।  আমাদের আজকের আলোচনা ঠিক তা নিয়েই তাহলে আসুন জেনে নিই একজন প্রোগ্রামার কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এবং কিভাবে তার প্রতিকার করা যায়ঃ

একজন প্রোগ্রামার বলতেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে উসখো খুসকো চুল –দাঁড়ি সমেৎ একজন লোক যিনি কিনা কম্পিউটার এর মনিটর এর দিকে চেয়ে,কি-বোর্ড চেপে এক নাগারে কোড লিখে যাচ্ছেন। কিন্তু না, প্রোগ্রামারদের আসল পরিচয় এর মধ্যে সীমাবদ্ব নয়। সারাদিন একনাগাড়ে কোড বা প্রোগ্রাম লিখে যেতে থাকলে এবং কোন নিয়ম কানুন না মেনে কাজ করে যেতে থাকলে শারীরিক এবং মানসিক –এই দুই ধরনের সমস্যারই সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে একজন প্রোগ্রামার এর। আসুন কিছু সমস্যার কথা যেনে নেই যে কি কি ধরনের সমস্যা হতে পারে-

শারীরিকঃ
১.নিদ্রাহীনতাঃ একজন প্রোগ্রামার যদি দিন রাত না ভেবে এক নাগাড়ে শুধু তার কাজ অর্থ্যাৎ প্রোগ্রাম বা কোডই লিখে যেতে থাকে তাহলে তার সব থেকে বড় যে সমস্যার সম্মুখীণ হতে হবে তা হল নিদ্রাহীনতা। একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক গড়ে ৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন কিন্তু একজন প্রোগ্রামার এর ক্ষেত্রে তা খুব কমই হয়ে থাকে যা তার মস্তিষ্কের উপর এক ধরনের বাজে অথবা নেগেটিভ প্রভাব ফেলে।

২.চোখের সমস্যাঃ একজন প্রোগ্রামার না দেখে কোড লিখছে বা কি লিখছে তা দেখতে পাচ্ছে না- একবার ভাবুন তো এমনটি হতে পারে নাকি? অবশ্যই না। হ্যা , চোখের সমস্যাও প্রোগ্রামারদের জন্য একটি প্রধান সমস্যা হতে পারে। একনাগাড়ে বেশীক্ষণ মনিটর এর দিকে তাকিয়ে তাকার ফলে চোখের দৃষ্টিক্ষমতা আস্তে আস্তে লোপ পেতে থাকে এবং অবিরত তা চলতে থাকলে এক সময় অন্ধত্ব্যে রুপ নেয়।

৩.অঙ্গ-জনিত সমস্যাঃ একজন প্রোগ্রামার সারাদিন বসে বসে কোড লিখে যাচ্ছেন- এর মধ্যেও এক ধরনের সমস্যায় তিনি পড়তে পারেন এবং তা হল মেরুদন্ডের,কাধের সমস্যা। হ্যা, সারাদিন বসে থাকার ফলে মেরুদন্ডে এবং কাধে ব্যাথার সৃষ্টি হতে পারে , যা পরবর্তিতে হাড় ক্ষয়ের মত বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৪.অতিরিক্ত ক্যাফেইন অথবা ধূমপানের প্রভাবঃ প্রোগ্রামারদের মধ্যে এই বিষয়টি প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় যে, তারা অনেক বেশি ধূমপান এবং কফি-প্রিয় হয়ে থাকেন। কিন্তু, অতিরিক্ত নিকোটিন এবং কফি থেকে গৃহীত অতিরিক্ত ক্যাফেইন দেহের সুবিশাল ক্ষতি করতে পারে যা এক পর্যায়ে ক্যান্সারে মোড় নেয়। এছাড়াও আরও অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে যেমন –অনিয়মিত পানি পান করা, অনিয়মিত মূত্রত্যাগ- এগুলোও দেহের মধ্যে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

মানসিকঃ
সারাক্ষন কোন বিষয়ের প্রতি লেগে থাকার দরুন মানুষের ভেতর অনেক মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় যেমন- বাহিরের কারো সাথে স্বাভাবিক যোগাযোগ না থাকার ফলে একজন মানুষ স্বভাবতই তার নিজেকে সম্পুর্নভাবে তুলে ধরতে পারে না,তাই বিমর্ষভাব চলে আসাটা অনেকাংশেই স্বাভাবিক। তাছাড়া মানসিক ভারসাম্য ব্যাহত হয় যা একজন প্রোগ্রামারকে প্রোগ্রামিং এ হয়তো মেলে ধরে কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে তাকে হেয় করে তুলে। আর অতিরিক্ত কাজের চাপ মানুষকে অমানুষিক করে তোলে ধীরে ধীরে।

প্রতিকারঃ জীবনের স্বাভাবিক ধারা মেনে চলুন- এর থেকে বড় কোন প্রতিকার স্বম্ভব নয়। দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম, এক নাগাড়ে বেশীক্ষণ বসে কোন কাজ না করা, ধূমপান আর ক্যাফেইন মিশ্রিত পদার্থ যতটা স্বম্ভব এড়িয়ে চলা , অতিরিক্ত পানি পান করা-শারীরিক সমস্যার সমাধান এতেই আর মানসিক দিক নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়- শুধু কোডিং বা প্রোগ্রামিং নিয়ে নয়- পরিবেশ নিয়ে ভাবুন, দৈনন্দিন জীবন যাপন নিয়ে কাছের মানুষদের সাথে কথা বলুন , গান শুনুন আর প্রান খুলে হাসুন- কেবল তখনই আপনি হবেন একজন সুস্থ্য-সুখী প্রোগ্রামার।

আপনার সামনের দিনগুলো শুভ হোক।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×