সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:২৯
কলংকিত প্রেম
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
রাত প্রায় গভীর। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার জন্য দোকান বন্ধ করলাম। তখন অনেকেই চলে গেছে যার যার গন্তব্যে। শুধু আমিই একজন যে এখনও বাড়ী ফেরা হয়নি আমার। হাতের গড়ির দিকে থাকালাম। রাত 2 টা 30 মিনিট। মার্কেটের সামনে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। এমনি মুহুর্তে একজন পাগলের বেশে এসে বলল 'প্লীজ টেইক মি ইউর মেচেস' আমাকে কি আপনার মেচটি দিবেন? প্রথমে লোকটির মুখের দিকে থাকালাম। অপরিচিত কখনও দেখিনি মনে হলো। কিন্তু চেনার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ মনে দাগ লাগলো। চেনা চেনা মনে হচ্ছে। খুব ভালো করে দেখলাম। পকেট থেকে মেচটি বের করে দিলাম। লোকটি থেংকস বলে টস করে আগুনের ফোলকা দিলো সিগারেটের মুখে। খুব মজা করে টান দিলো সিগারেটে, যেন অনেন ধরে মেচ খুজছিল। এতনে আমি তার মুখের দিকে থাকিয়ে মনে পড়ে গেল সেই চেনা মুখটি। এমনি সামস্ত দেহ আমার শিউরে গেল। এ যে আমার খুব ঘনিষ্ট ফ্রেন্ড মোহন। চোখের পানি তখন টলমল করছে আমার। তাকে আমার বুকে টেনে বললাম, মোহন কেমন আছিস তুই? এতদিন তুই কোথায় ছিলি? কিন্তু সে আমাকে কোন কথা বলছেনা। এমনি সময় মনে পড়ে গেল তার বড় ভাইয়ের কথা । এ ব্যাপারে আমাকে মোহনের বড় ভাই সব খুলে বলেছিলেন। আমি বুঝতে পাড়লাম যে মোহন আমার কথা শুনলেও সে আমাকে চিনবে না। বা আমাকে মনে করতে পারবে না। দীর্ঘদিন পর বন্ধুকে কাছে পেয়ে তার সাথে সুখ দুখের কথা বলতে পারছিনা সেই দুঃখকে মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়েছিলো আমার। বুক ফাটা কান্না আসেব কিন্তু কাদতে পারছিনা। মোহনের হাত ধরে তাকে নিয়ে এলাম আমার দোকানে। আবার সাটার খুললাম। তাকে বললাম তুই আমাকে চিনতে পেরেছিস? সে বলল না। আমি আমার নাম বললাম। সে অনেন চিন্তা করল। তার পর বলল। হে শাহাব উদ্দিন কেমন আছো। আমি তার সাথে সিলেটর ভাষায় কথা বলছিলাম। কিন্তু সে আমার সাথে শুদ্ধ ভাষা ও ইংরেজী বলছিল। সে যদিও বলেছিল কেমন আছ। কিন্তু আসলেই সে আমাকে মনে করতে পারছিল না। দীর্ঘ আধ ঘন্টা আমি তার মুখের দিকে থাকিয়ে রইলাম। কি সুন্দর চেহারা ছিল তার। সারা শ্রীমঙ্গল শহরে একটা ভালো ছেলে ভাল গুনের অধিকারী ছিল সে। কখনও তাকে খারাপ আচরন করতে দেখিনি। সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছিল, কিন্তু ছোট বা বড়দের সামনে সিগারেট ধরাত না। দীর্ঘ 7 বছরের বন্ধুত্ব ছিলো আমার সাথে তার। খুুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক। এর পর চাকুরীতে যোগ দেবার পর তার সাথে প্রায় অনেকদিন দেখা নেই। মাঝে মাঝে অনেক কে জিজ্ঞেস করতাম তার কথা। একদিন তার বড় ভাইএর কাছে জিজ্ঞেস করলে। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, সে সব কথা। আমি শুনে ছিলাম। মোহন আজ একজন নেশাগ্রস্থ মানুষ, মাতাল, পাগল, পৃথিবীতে সে আর বাঁচতে পারবে না। তার একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে আর বেশি দিন বাচবে না সে। কিন্তু কেন মোহনের এমনটি হলো? সে কেন নেশাগ্রস্থ হলো?। প্রেম এই প্রেমই তাকে আজ এ পৃথিবীতে কলংকের বোঝা দিয়ে বিদায় দিতে বাধ্য করেছে। শহরের এক নামীদামী বড় লোকের মেয়ের সাথে গড়ে উঠে মোহনের প্রেম। ক্রমে ক্রমে গভীর থেকে আরোও গভীর তবে এ প্রেম মোহনের মাঝে ছিল পবিত্র। সাপ্তাহে বা মাসে একবার দেখা হত দু'জনের । প্রতিদিন ফোনে কথা হত অবিরাম। মোবাইলে প্রেমের কথাবাতর্া হলেও প্রেমের গভীরতার শেষ ছিল না। কোন রাত নেই যে কথা হয়নি দু'জনের। কিন্তু বাধা একটাই। ভাই শহরের নামীদামী লোক এবং মতাধর বটে। সে জানতে পারলে সমস্যা হবে। তারপরও গোপনে চলছিল অনেক দিন। হঠাৎ জানতে পারে সে ভাই। শুরু হয়ে যায় প্রেমের পথে বাধা। মোহনকে ডেকে তার প্রেমিকার ভাই ।নেক মারধর করে। বলে আর কোন দিন যেন তার বোনের সাথে দেখা সাাত বা কর্থাবার্তা না হয়। যদি হয় তাহলে কেটে কেটে নধীতে ভসিয়ে দিবে। এরই মাঝে প্রেমিকার ভাই একটা মামলায় জড়িয়ে চলে যেত হলো জেলে। সুযোগ চলে আসে মোহনের মাঝে। আবার শুরু হয় প্রেম। আস্তে আস্তে আরোও গভীর। প্রেমিকার ভাই দীর্ঘ 2 বছর জেল কাটার পর যখন চলে আসল তখন আবার জানতে পারে বিষয়টি। মোহনকে ধরে নিয়ে যায়। পায়ের তলা থেকে মাথা পর্যন্ত এমন কোন জায়গা বাকি রাখেনি যে আঘাত করেনি সে। অনেক মারধর করে মোহনকে। আঘাত পেয়ে মোহন ভেঙ্গে পড়ে। চিকিৎসা দেওয়া হয় পুরো 2 মাস। এরই মাঝে প্রেমিকার ভাই তার বোনকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগে। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বার্তা পাকা হয়ে যায়। মোহন চলে যায় তার প্রেমিকা সুমি'র বাসায়। সুমির ভাইএর কাছে বলে আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। সে জানতে চায় কি কথা। সে বলে আপনার বোনকে আমি ভালোবাসি। আর আপনার বোন আমাকে ভালোবাসে। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আমাদের প্রেমকে আপনি গলাটিপে হত্যা করতে পারেন না। সুমির ভাই বলে কই আমার বোনত তোমাকে ভালোবাসে না। মোহন বলে তাহলে আপনি তাকে আমার সামনে আনুন। সে আমার সামনে বলুক সে আমাকে ভলোবাসে না। হাফিজ (সুমির ভাই) বোনকে ডেকে নিয়ে আসে। বলে তুই কি তাকে ভালো বাসিস। মোহন সুমির দিকে থাকায়। মোহনের অসহায় ভরা মুখটির দিকে থাকিয়ে সুমি এক বাক্যে বলে উটলো না। আমি মোহন কে ভালোবাসি না। এই মুহুর্তে মোহন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । হাফিজ তখন তাকে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। জ্ঞান ফিরে আসার পর হাফিজ আবার তাকে মারধর করে। আর কোন দিন যেন তার এই আশে পাশে না যায় হুশিয়ার করে দেয়। মোহন মার খাওয়ার পর বাসায় চলে আসে। মোহন কি করবে? কাঁদতে কাঁদতে বুক বাসায়। চুখের পানি সব কিছুর সমাধান দিতে পারে না। আগামী শুক্রবার সুমির বিয়ে জানতে পারে মোহন । সে অবস্থায় সে কি করবে। দীর্ঘ 6 বৎসরের প্রেম সে কিভাবে ভুলবে। তা কখনও সম্ভব নয়। প্রেম বিচেছদ যেমন মেনে নিতে পারছে না তেমনি মেনে নিতে পারছে না ভুলে যেতে। মেনে নিতে পারছে না সুমির বিয়ে। বুক ভিষন কষ্ট। কি করে সে কষ্ট দূর করা যায়। সে সময় এক বন্ধু তার সাথি ছিল । সে তাকে নিয়ে যায় মদের পাট্টায়। তাকে বলে মদ খেলে কিছুটা ভালো থাকবি। মোহন বলে না আমি এসব খাব না। জোড় করে তার বন্ধু তাকে মদ পান করায়। মোহন বুঝতে পারে এই মদই তাকে দিতে পারে শান্তি। আস্তে আস্তে মোহন সেটিকে বরন করে নেয়। না মদ তো তাকে পারে না সামাল দিতে। মদের নেশায় তার কষ্ট দূর করা সম্ভব নয়। সে বাড়াতে থাকে মদের মান ও সংখ্যা। এক পর্যায়ে মদ থেকে হেরোইন। হে হোরোইন সে রেগুলার ব্যবহার করতে থাকে। এমনিতেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি করেন মোহনের বড় ভাই দোলন। ডাক্তার জানান, অতিরিক্ত নেশা করার ফলে মোহনের একটি কিডনি ও একটি বাল্ব নস্ট হয়ে গেছে। দোলন ভাই'র মাথায় বাজ পড়ে। কি করবেন তিনি । মোহনদের তেমন ধন সম্পদ নেই। চিকিৎসা করানোর জন্য বাসার সামনে কিছু জায়গা ছিল ওটা বিক্রি করেন দোলন। চিকিৎসা করান প্রায় 3 ল টাকা খরচ করে। মোহন মোটামোটি সুস্থ হয়ে আসে। কিন্তু সুস্থ হয়নি তার মন। কিছুতেই মানতে চায়না তার পাগল মন। কই মোহন তো কোন অশি্নল প্রেম, স্বার্থতার প্রেম করেনি সে প্রেম করেছিল পবিত্র মন নিয়ে। আশা ছিল সুমিকে নিয়ে বাধবে সুখের ঘর। কিন্তু তা আর হল না। সুমির নিজ মুখে তার প্রেমকে অস্বীকার করাই সব চেয়ে বেশি আঘাত দেয় মোহনকে। তারপর বিয়ের সানাইয়ের সুর বাজিয়ে সুমি চলে গেল পরের ঘরে। এটা কিভাবে মেনে নিবে সে। তা কখনই সম্ভব নয়। মোহনের জন্য শহরের হাজার হজার বন্ধু দোয়া করে খোদার কাছে হে আল্লাহ তুমি মোহন কে শান্তি দাও। মোহন আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে । হঠাৎ তার মধ্যে দেখা দেয় পাগলামী। সবাইকে চিনতে পারছে না সে। কি বলছে তা পরস্কার নয়। এমন অবস্থায় দোলন ভাই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার তাকে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে বলে জানান। মোহন সব ভুলে গেছে কিছুই মনে নেই তার। পাগলামী করতে থাকে মোহন। আবার চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এত টাকা পাবেন কোথায় দোলন ভাই্। বিষয়টি চিন্তা করেন মোহনের সব বন্ধুরা মিলে চাঁদা তুলেন মোহনের জন্য। মোহনের নাম শুনে সবাই চাঁদা দেয় মোহনের চিকিৎসার জন্য। শহরের সবার প্রিয় ছিল মোহন। চাঁদা তুলে প্রায় 2 ল টাকা হয়ে যায়। এ নিয়ে মোহনকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কোন ফল হয়নি। সুমি আজ বড় সুখেই আছে। কিন্তু মাহন? মোহন আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। কথায় কথায় ইংরেজী বলে, আর সিগারেট খুঁজে, নেশায় মগ্ন থাকে। কাউকে চিনতে পারে না । এমন কি আমাকে ও চিনতে পারে নাই। সে দুঃখ কে মেনে নিতে পারেনি আমি। ভীষন কষ্ট পাই। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। কেঁদে কেঁদে রাত কাটিয়েছি। ধিক্কার সেই কলংকিত প্রেমের, ধিক্কার সেই সুমি নামের মেয়ের, ধিক্কার সেই নস্টামী প্রেমের। প্রেম নেই প্রেম নেই। এটি আজ চলে গেছে অনেক দুরে। আপনার মোহন কে দেখলে বা মোহনের হিস্টরী শুনলে না কেঁদে পারবেন না।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।