somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই একই লাশ, একই রক্ত, একই শরীর! একই ভাবে একই কারনে খুন করা হয়েছে! অথচ ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকার কারনে আমরা দুই ধরনের কথা বলতেছি! কিন্তু কেন?

১০ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিটি রাত শুরু হয় ‘লাশ’ শব্দ টি শুনে। প্রতিটি সকালও শুরু হয় সেই একই বাক্য শুনে! আমরা হয়তোবা লাশ শব্দ টা শুনার পর একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলি! ক্ষণিকের একটু খারাপ লাগা! তারপর সেই লাশ যদি হয় কোন আস্তিকের তাহলে সেই লাশের কদর দিগুন বেড়ে যায়! তখন আন্দোলনকারীদের মনোভাব এমন যেন এমন একটা লাশই তারা খুজতেছিল, তাদের আন্দোলনকে আরও গতিময় করার জন্য! যেন লাশ বিহীন আন্দোলনে কোন ছন্দ নেই! আন্দোলনে ছন্দ ফিরিয়ে আনতে, আন্দোলনকে আরও চাঙ্গা করতে আরও নতুন কিছু শ্লোগান তৈরি করতে যেন লাশের কোন বিকল্প নেই! তাই এইরকম আরও কিছু লাশ হলে মন্দ হয় না!
আর যদি সেই লাশ টি হয় কোন নাস্তিকের, তাহলেতো আর রক্ষা নেই! পারলে যেন আমাদের সমাজের চুষিলরা সেই লাশ টিকে আর একবার লাশ বানিয়ে ছেড়ে দেয়! যদিও এই নাস্তিকের লাশ হওয়াটার কারন এই আন্দোলন, তারপরেও অনেকেই বলবেন, এই লোক নাস্তিক ছিল কিনা জানিনা, তবে সে কখনোই আমাদের আন্দোলনের সাথে জরিত ছিলোনা! তাঁকে আমরা চিনিনা! সে মরেছে তার কুকর্মের জন্য! যদিও আমরা হত্যা কে সমর্থন করিনা!
সেই একই লাশ, একই রক্ত, একই শরীর! একই ভাবে একই কারনে খুন করা হয়েছে! অথচ ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকার কারনে আমরা দুই ধরনের কথা বলতেছি! কিন্তু কেন? প্রশ্নের উত্তর খুব সোজা! আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য! লাশ টা একজন নাস্তিকের ছিল, এবং সেই নাস্তিক জীবিত অবস্থায় আন্দোলনের সাথে জরিত ছিল, এই কথা যদি একবার জামাত শিবির প্রমাণ করতে পারে তাহলে আবার তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষদের কে দার করিয়ে দিতে সক্ষম হবে! তারমানে আমরা যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছি আবার তাদেরকেই পূজা দিয়ে চলতেছি! ভয়ে নম নম রাম রাম করতেছি! তাহলে আন্দোলনের কি দরকার?
আন্দোলনের বিরোধী শক্তি সারাজিবন ছিল, থাকবে! তাইবলে প্রতিপক্ষ কে ভয় করে চলবো কেন? এই আন্দোলনের মানে টা কি? ভয় পেয়ে ঘরের কোনায় লুকিয়ে লুকিয়ে ফিস ফিস করে জয় বাংলা বলে আন্দোলন কখনো সফল করা যায়না! বরং নিজের দুর্বলতাই শত্রুপক্ষের কাছে প্রকাশ পায়! তাই এইভাবে লুকিয়ে বাচার চেয়ে চুটিয়ে একদিন বেচে থাকা অনেক ভালো!
ঠিক তখন আমি ভুলে যাই, আমি জানি কাদের বিরদ্ধে আন্দোলন করছি? কাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে যেয়ে আমার নাস্তিক ভাইটা যেন নির্মম ভাবে খুন হল?

মৃত্যুর পর আমার ভাইয়ের পরিচয় পাওয়া গেল আমার ভাই একজন নাস্তিক ছিল! কিন্তু জীবিত অবস্থায় যখন আমার এই নাস্তিক ভাই নিষ্ঠার সাথে আন্দোলনের সাথে জরিত ছিল, অফলাইন, অনলাইনে মুখে, কীবোর্ডে শ্লোগানের ঝর তুলত, তখন কেও আমার ভাইয়ের পরিচয় খুজতে যায়নি! কেও জানতে চায়নি এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর টা কি কোন নাস্তিকের, না কি আস্তিকের?
আমরা শুধু লাশ নিয়ে খেলতে জানি আন্দোলন করতে জানি। তাই একটা লাশ পড়লে আমাদের অনেক ভালো হয়। যে মায়ের বুক খালি হচ্ছে, যে ভাই তার ভাই কে হারাচ্ছে! তাদের কে আমরা কিভাবে সান্তনা দেই?
তোমরা দেশের তরে তোমাদের মহামূল্যবান জীবন দান করেছ, উৎসর্গ করেছো। তাই তোমাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ফল আজ আমরা ভোগ করবো ঠিকই কিন্তু এর মিষ্টি স্বাদ আমরা উপলব্ধি করতে পারবো কি? কিভাবে পারবো বল? মিষ্টি তৈরি করতে যে পরিশ্রম, যে তিক্ততা সেটা তো তোমরা তোমাদের রক্ত দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে গেছ!আমরা সত্যিই পারবোনা উপলব্ধি করতে ! ৭১ এর পরেও পারিনি, আজও পারবোনা! যদি পারতাম, তাহলে তোমাদের লাশ কে আজ কেও নাস্তিক ট্যাগ লাগিয়ে অবহেলা অবজ্ঞা করতে পারতোনা! তোমাদের সৃতির চিহ্ন শহীদ মিনারে গিয়ে কেও ভাঙচুর করতে পারতোনা! তোমার রক্তে অর্জিত ঐ লাল সবুজের পতাকা কেও অবমাননা করার সাহস পেতনা!
আমরা সত্যিই মিরজয়াফরিও জাতি! আমরা শুধু অর্জিত ফল ভুগ করতেই জানি, অর্জন করতে জানিনা, অর্জিত ফল সংরক্ষণ করতেও জানিনা! কেও ফল ছিনিয়ে নিয়ে গেলে শুধু ঘরের কোনায় বসে বসে চিল্লাইতে পারি!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×