আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের ৩৬৮ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা। পিতৃহীন পরিবারের ৬ নম্বর সন্তান। বলা যায় অভাবের মধ্য দিয়েই আমরা ৯ ভাই-বোন বড় হচ্ছিলাম। বাবা বহু পূর্বেই মাকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন, একবারও ভাবেননি পরিবারের এতগুলো সদস্য কী করে দিন যাপন করবেন। মায়ের কিছুই করার ছিলোনা, কয়েক বিঘা জমি ছিলো তা বিক্রি করেই আমাদের ভরণপোষণ করছিলেন। বহু কষ্টে মা প্রতিমাসে ৭০০ টাকা ডাকযোগে পাঠাতেন, কখনো নির্দিষ্ট সময়ে পাঠাতে পারতেন না। তাই পোষ্টম্যান মামার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হতো, আমাদের সময় প্রাইভেট পড়ানোর তেমন ভাবনা আমাদের মাথায় কাজ করেনি, করলে হয়ত প্রাইভেট পড়িয়ে কিছু টাকা রোজগার করে মাকে রেহাই দেওয়া যেত! অনেক দিনের কথা, সম্বোবতঃ দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিলো। অনেক রাত অবধী পড়ালেখা করে ঘুমিয়েছিলাম, ভোর রাতে হঠাত করেই আমার দরজায় কে জেনো ডাকছিলো, কিন্তু আমার খুব রাগ হচ্ছিলো, তাই তাকে বকা দিচ্ছিলাম! হলের নাইটগাড বলছিলো আমার মা নাকি এসেছে। তখন প্রচন্ড শীত।বাইরে হওয়া খুবই কঠিন। আর আমার মা ঢাকা তো দূরে থাক বগুরা শহরেও কোনোদিন একা গিয়েছেন কিনা সন্দেহও ! তাই বিশ্বাস করতে পাচ্ছিলাম না। অনেক রাগ করে লেপের মুরি থেকে উঠলাম, দারয়ানকে অনুসরণ করে মহসিন হলের ঠিক ডানপাশে হলের গেস্ট রুম, জড়সড় হয়ে বসে আছে আমার মা। তার সারা শরীর শীতে ঠকঠক করে কাপছে, আমি মাকে জড়িয়ে ধরলাম, অনেকক্ষণ কাঁদলাম । মায়ের শরীরের ঘ্রাণ পেয়ে যেনো খানিকক্ষণ ভুলেই গেলাম আমি যে বড় হয়েছি। মাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কেনো এসেছ মা! মা বললেন, বাবা এ মাসে আর টাকা জোগার করতে পারব না, তাই টাকা ডাকে দেইনি। যদি হাড়িয়ে যায়! মাকে ধরে আরো কিছুক্ষণ কাদলাম। হাউস্টিউটরকে জানিয়ে মাকে নিয়ে আমার থাকার রুমে নিয়ে গেলাম, গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলাম। তার পর দুপুর বারোটার হাসনা পরিবহণে বগুড়ার উদ্দেশ্যে তুলে দিলাম। আর এই হলো আমার মা।।
আলোচিত ব্লগ
আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন
=মনে রং নেই আর=

মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।