somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সুদেব চক্রবর্তী
সিরাজগঞ্জে জন্ম, পৈতিৃক নিবাস মাগুরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে যুক্ত আছি। সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলাম। কবিতা, গল্প ও ফিচার লিখি।

ইঁদুর বিষয়ক গল্প, অতঃপর..।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প-১:

এক মুনি বনের মধ্যে আশ্রমে বাস করতেন। তার একটি ইঁদুর ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেল ইঁদুরটি বিড়ালকে ভয় পায়। তাই মুনি মন্ত্র বলে ইঁদুরটিকে বিড়ালে রূপান্তর করলেন। কিছুদিন পর আবার বিপত্তি। মানে বিড়ালটা কুকুর দেখলে ভয় পায়। তখন মুনি বিড়ালটিকে মন্ত্র বলে কুকুরে রুপান্তর করলেন। যাঃ বাবা ! কিছুদিন পর আবার সমস্যা। মানে কুকুরটি বাঘ দেখলে ভয় পায়। অবশেষে মুনি কুকুরটিকে মন্ত্র দ্বারা বাঘ বানিয়ে দিলেন।
অতঃপর একদিন বাঘটি মুনিকেই খেতে উদ্যত হল। উপায়ান্তর না দেখে মুনি তখন “পুনঃ মুষিক ভবঃ” অর্থাৎ আবার তুমি ইঁদুর হও বলে বাঘটিকে পুনরায় ইঁদুরে পরিণত করলেন।

এখন কথা হচ্ছে- এদেশের জনগন দিনে দিনে বুর্জোয়া শ্রেনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ইঁদুর থেকে হিংস্র জন্তুতে পরিণত হবার সুযোগ দিয়েছে এবং এখনও কিছু দলকানা বুদ্ধিজীবি তাদের পাশে থেকে আহ্লাদ দিচ্ছেন। এবং তারাও যখন এই হিংস্র জন্তুদের আক্রমনের শিকার হন তখন আক্ষেপ করেন। কিন্তু “পুনঃ মুষিক ভবঃ” মন্ত্রটি কি তারা জোরেশোরে বলতে পেরেছেন কখনও ?

গল্প-২:

‘চিৎকার’ ব্যান্ডের নাম আমরা কম বেশি অনেকেই জানি। তাদের গানও অনেকেই আমরা শুনেছি। ব্যান্ডটির নাম ‘চিৎকার’ রাখার পেছনে একটি দর্শন রয়েছে। এখানেও সেই ইঁদুরের প্রসংগ। গল্পটি চীনা ভাষা থেকে নেওয়া। একটি ইঁদুরকে একটি বিড়াল তাড়া করেছে। প্রাণভয়ে ইঁদুরটি ছোটাছুটি করছে। অবশেষে ইঁদুরটি একটি দেযালের সামনে বাধা পেল। পেছনে দেয়াল, সামনে বিড়ালের থাবা। ইঁদুরটি নিশ্চিত জানে সে মারা যাবে। তবু শেষ বারের মত সে একটি কাজ করবে। বলুন তো কি ? ঠিক ধরেছেন, জোরেশোরে একটা চিৎকার দেবে।

এখন কথা হচ্ছে- অপরাজনীতি, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, জ্বালাও পোড়াও সহিংসতা ক্ষমতার লড়াইসহ নানা অসংগতিতে আমাদেরও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- আমরা কি পারি না অন্তত জোরেশোরে একটা চিৎকার দিতে ?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×