ওগো গোধূলী বেলার পথিক
আমাকে তুচ্ছ ভেবে বিপন্ন সময়ের কাছে রেখে
এভাবে চলে যেওনা তুমি।
শুনে যাও কিছু তো আমার কথা।
সময়ের সাথে টিকে থাকার যুদ্ধে
আজ আমি পিছুহাঁটা সৈনিক। তাতে কি ?
আমারও একটা সুখময় শৈশব ছিল
স্বর্ণালী-বর্ণালী সময়কে আকীর্ণ করে।
প্রজাপতির রঙিন পাখায় আমার স্বপ্নকে
উড়িয়েছি কত ! বুনেছি স্বপ্ন কত !
পলাশ-শিমুলের মাঠে
মোঠেপথের বাঁকে
নীরুদের পুকুর পাড়ে
বরইতলীর হাটে
বাঁশঝাড় কিংবা উঠোন কোণে।
সেই সময়ের সাথে আলাপনে
খুঁনসুটি আর অভিমানে
কত যে ফুটিয়েছি ফুল
কোনদিন যাবেনা ঝরে।
অবাক হচ্ছো তুমি পথিক ?
চলে যাবে ভাবছো এখনও ?
কিন্তু যাবে কি করে ?
আমার বলার যে আরও রয়েছে বাকী !
আমার একটা দূরন্ত কৈশোরও ছিল।
ডানপিটে ছিল সময় যতটা
সে ছিল তার চেয়েও ডানপিটে ততটা।
অন্যের বাগানের ফল চুরি, ফুল চুরি
মাছ ধরা কিংবা পাখির ছানা চুরি
আরও কত কি !
আমার কৈশোর যেখানে, সেখানে
এসবের পদাংক এসেছি একেঁ রেখে।
ওরা আজও কাছে ডাকে মোরে
তাদের স্মৃতিমুখর অবারিত বাতায়নে।
সেই ফুল-ফল-পাখিডাকা মাঠ
সেই পানাপুকুর আর শাপরা ঢাকা পুকুর ঘাট
সেই বন-বাদাড় ঝোপ-ঝাড়
কিংবা গোধূলী বেলার হাট।
সেই রাখালিয়া গান আর
ভাটিয়ালী সুরে হারিয়ে যাওয়া গ্রামান্তর।
এসবই আমার স্বর্ণালী-বর্ণালী জীবনের
সুখ ভরপুর উপচেপড়া সময়ের প্রতিচ্ছবি।
তাহলে বুঝলে তো ফেরারী পথিক তুমি
কিছুতেই নই বিপন্ন আমি।
কিংবা নই কোন জীর্ণ সময়ের প্রতিচ্ছবি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




