একটি রঙিন ঘুড়ি ছিল আমার
প্রতিদিন নাটাই হাতে
ঘুড়িটাকে উড়িয়ে দিতাম আমি নিঃসীম আকাশে।
ঘুড়িটা রোদ্দুরের পাখায় ভর করে
আকাশের প্রসারিত বক্ষ জুড়ে
উড়তে উড়তে ক্রমশ একটা বিন্দুতে পরিণত হতো।
তারপর হারিয়ে যেত আমার দৃষ্টির সীমানা থেকে।
আমি ছোট্ট দুটি হাতে দ্রুত নাটাইয়ের সূতো গুটাতাম।
ঘুড়িটা যাতে হারিয়ে না যায় কিছুতেই।
না, হারাতনা আমার ঘুড়িটা,
হারায়নি কোনদিন।
সেই ঘুড়িটা আজও উড়ে আমার মনের আকাশে।
কিন্তু বড় বিবর্ণ, বড় পাংসে এর রং।
দেখলে মনে হয় রংহীন একটা চৌকোণো কাগজমাত্র।
আমি আহত হই নিদারুণ।
কে ? কে এমনটি করল ?
আমার ঘুড়িটার সব রং মুছে দিল ?
সময় বলে, ভুলেছ কি সব ?
কোথায় ছিলে ? কোথায় এসেছ ?
কতদূর পেরিয়েছ ?
সব ভুলে গেলে ?
কি করে থাকবে তোমার ঘুড়িটার সেই রং ?
হ্যাঁ তাই তো !
আমার সব মনে পড়ে যায়।
সোনার নুপুর পায়ে সোনালী দিনে
সেই যে উড়িয়েছিলাম ঘুড়িটা !
সেটি এখন বয়সের ভারে বিবর্ণপ্রায়।
আমার এতদিনের পথচলার ইতিহাস সে।
সে তো বয়সের ভারে ন্যূজ হবেই।
বিবর্ণ হবে, রং মুছে যাবে।
তবু যে আজও আমার মনের আকাশে উড়ছে
এই তো ঢের !
আমি পরম মমতায় দু'হাতে
বুকের কাছটিতে ঝাপটে ধরি ঘুড়িটাকে।
আমার রংমাখা শৈশবের শাড়িতে
সোনালী দিনের পাড়ে মোড়া
আমার অতি ভালবাসার সুখের গৃহকোণ এই ঘুড়িটা।
আমি কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেবনা এই ঘুড়িটাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


