
১২ বছর—সময়টা খুব কম নয়। ২০১৪ সালে যখন প্রথমবার মাইনক্রাফট ওপেন করেছিলাম, তখন গেমটার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। শুধু জানতাম একটা চারকোনা ব্লকের পৃথিবী, আর আমাকে বাঁচতে হবে। সেই থেকে শুরু। দেখতে দেখতে একটা গোটা দশক কেটে গেল এই পিক্সেল আর ব্লকের জগতে।
আজ পেছন ফিরে তাকালে প্রথম রাতের সেই অভিজ্ঞতার কথা ভেবে হাসি পায়। কাছে কোনো ভালো অস্ত্র ছিল না, কাঠের তরোয়াল আর মাটির তৈরি ৩×৩ একটা ছোট গর্ত বানিয়ে লুকিয়ে ছিলাম। বাইরে জম্বি আর স্কেলিটনের সেই অদ্ভুত সব শব্দ শুনে পুরো রাত কাটানো—ওই যে প্রথম ভয় আর থ্রিল, সেটাই হয়তো আমাকে এই গেমে আটকে রেখেছিল।
আজ আমি একজন এক্সপার্ট। এখন আর রাতের অন্ধকারের ভয় আমাকে কাবু করে না। শত শত ব্লক মেপে তৈরি করা বিশাল সব অটোমেটিক রেডস্টোন ফার্ম, ড্রাগন ফাইট, কিংবা এন্ডারের আকাশে এলাইট্রা (Elytra) নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়ে বেড়ানো—এগুলো এখন আমার হাতের মোড়ক। এখন আমি ব্লকের যেকোনো টেক্সচার বা শব্দ শুনেই বলে দিতে পারি মাটির নিচে কী অপেক্ষা করছে। কিন্তু সত্যি বলতে, কৌশল আর দক্ষতার চেয়েও মাইনক্রাফট আমাকে যা দিয়েছে, তা হলো অনুভূতি।
১০ বছরে এই ডিজিটাল জগতে অসংখ্য স্মৃতি জমেছে। কত শত সুন্দর সূর্যাস্ত যে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখেছি! কতবার মাইনিং করতে গিয়ে সব ডায়মন্ড লাভায় পড়ে ছাই হয়ে গেছে আর আমি স্ক্রিনের সামনে স্তব্ধ হয়ে বসে থেকেছি! সেই হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট কিংবা টানা কয়েক সপ্তাহ খেটে বিশাল কোনো ক্যাসল (Castle) বা বেস বানিয়ে দাঁড়িয়ে দেখার আনন্দ—এগুলো কোনো স্ক্রিপ্টেড গেমের অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।
মাইনক্রাফট শুধু একটা গেম নয়, এটি আমার একটা বড় শিক্ষক। এই গেম আমাকে ধৈর্য শিখিয়েছে। একটা বিশাল প্রজেক্ট বানাতে যখন হাজার হাজার ব্লকের প্রয়োজন হয়, তখন একটানা মাইনিং করে যাওয়ার যে ধৈর্য, তা বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলে। রেডস্টোন লজিক গেইট বানাতে গিয়ে কত ভুল হয়েছে, আবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে—এই সব অভিজ্ঞতাই একজন প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পরিপক্ব করেছে।
সি৪১৮-এর সেই বিখ্যাত 'Subwoofer Lullaby' গানটা যখন হঠাৎ ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে, তখন আজও হঠাৎ কেমন যেন মনটা শান্ত হয়ে যায়। গেমের গ্রাফিক্স যতই সাদামাটা হোক না কেন, এতে যে আবেগ আছে, তা কোনো অতি-বাস্তবসম্মত হাই-এন্ড গেমে পাওয়া কঠিন।
আজ দশ বছর পর দাঁড়িয়েও যখন গেমটা চালু করি, সেই প্রথম দিনের উৎসাহটাই টের পাই। এই পিক্সেলের জগতে বেঁচে থাকার যে আনন্দ, নিজের একটা পৃথিবী গড়ে তোলার যে স্বাধীনতা—তা আর কোথাও পাইনি। মাইনক্রাফট আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ছিল, আছে এবং হয়তো আরও বহু বছর থাকবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


