অ্যালেক্স হেলির রুটস বইটি পড়ে এক নতুন অদ্ভূত অনুভূতির সম্মুখীন হলাম। ১৭৫০ এর দশকে আফ্রিকার জাম্বিয়া থেকে দাস ব্যবসায়ীরা চুরি করে নিয়ে আসে কুন্টা কিন্টে নামক একজন আফ্রিকানকে। অমানুষিক যাত্রা শেষে কুন্টাকে বিক্রি করে দেয়া হয় দাস রূপে। দাস হিসেবে দেয়া হয় কুন্টার নতুন নাম। কিন্তু কুন্টা যে বংশের ছেলে সেখানে রয়েছে বংশানুক্রমিক ভাবে মুখে মুখে সঞ্চিত তাদের পূর্বপুরুষের ইতিহাস। কুন্টা তাই কখনই মেনে নিতে পারেনা তার দাসত্ব জীবন। তাই সে পালায়, কিন্তু পালিয়ে যাবে কোথায় ধরা তাকে পড়তেই হয়,জোটে অকথ্য নির্যাতন। কিন্তু কুন্টা দমবার পাত্র নয়। আবার, আবার , আবার পালায সে, চতুর্থবার পালানোর পর শাস্তি স্বরূপ তার পায়ের পাতার অর্ধেক কেটে দেয়া হয় , শুরু হয় তার দাসত্ব জীবন।
কুন্টা বিয়ে করেন আরেক দাসী বেলকে, তাঁদের সন্তান কিসিকে কুন্টা তাঁর পূর্বপুরুষের কথা শোনায় ,
কিসির ভাগ্যে বিয়ে জোটেনা, কিন্তু লম্পট মনিবের ঔরসে তাঁর গর্ভে জন্মে একটি ছেলে সেই ছেলেকে কিসি পিতার গল্প শোনায়, আফ্রিকার গল্প শোনায় -- ক্রমে মার্কিন দেশে রাজনৈতিক হাওয়া পাল্টায় , ক্রমে দেশ স্বাধীন হয় , অনেক কষ্ট স্বীকার করা কাল চামড়ার দাসদের মুক্তির সম্ভাবনা তৈরী হয়। কিন্তু কুন্টার শুরু করা সেই মৌখিক কাহিনী চলতে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
এবং এরই ধারাবাহিকতায় হেলি ১৯৬০ এর দশকে এসে তাঁর নানী/দাদীদের মুখে মুখে সংরক্ষিত তাঁর পূর্বপুরুষের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার প্রয়াস পান। এ ব্যাপারে তাঁকে উৎসাহিত করেছিল রজেটা স্টোন আবিস্কার এবং সেই পাথরের গায়ে লেখার পাঠোদ্ধার।
দীর্ঘ গবেষণা ও কষ্টের পর লিখিত হয় রুটস।
হেলির মতে -----------সভ্যতার ইতিহাস সর্বদাই বিজয়ীর হাতে লিখিত হয়ে এসেছে, তবে কখনও কখনও অন্যদের ইতিহাস ও সভ্যতাকে মহৎ কিছু দেবার ক্ষমতা রাখে।
বারাক ওবামা যখন স্বাস্থ্য ইনস্যুরেন্স সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের এমনটাও বলতে শোনা গেছে, আফ্রিকার বাঁদর আফ্রিকায় ফিরে যাও। ওবামার নোবেল প্রাপ্তি ঠিক হল কি হয়নি সে প্রশ্নে যাচ্ছিনা ,কিন্তু মার্কিন মুলুকে যে আজও বর্ণবাদ কতটা প্রকট তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই একজন কৃষ্ণাঙ্গের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়াতে যেমন কিছুটা অবাক হতে হয়েছিল , তেমনি সেই অবাক হওয়ার পেছনে যদি আপনার আমার কোন সংগত কারন থাকে তো সেই কারণটাকে হাল্কা করে দেবার মত একটা উদ্দেশ্য এই নোবেল প্রাপ্তির পেছনে কাজ করতে পারে বলে মনে হয়। হয়ত বা আরেকটু গুছিয়ে লিখতে পারতাম , কিন্তু ব্লগ জগতে একদম নতুন কিনা তাই আরেকটু সময় লাগবে গুছিয়ে ওঠতে।১০.১০.২০০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


