somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছুটা সময় ডিবির বিলে ......... সুমন্ত গুপ্ত

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুটা সময় ডিবির বিলে ......... সুমন্ত গুপ্ত

এ যেন শাপলার রাজ্য। লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা হার মানিয়েছে সূর্যের আভাকেও। বিলের জল প্রায় দেখাই যায় না। সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি। লাল শাপলার হাঁসি যে কোন মানুষকেই তার মনের বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়। বন্ধুরা আমি বলছি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাশাপাশি চারটি বিলের কথা সেখানে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। বিল গুলো এ রকম অপরূপ সাজে সেজে রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই বিল পরিচিতি পেয়েছে, ‘ডিবি বিল’ নামে। বিলগুলোর নাম হচ্ছে ডিবি বিল, কেন্দ্রী বিল, হরফকাটা বিল ও ইয়াম বিল। চারটি বিলের অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। প্রথমে এই বিল এর খবর পাই ফটো সাংবাদিক আনিস মাহামুদের কাছ থেকে এখনো ঐ স্থান টি ভ্রমণ পিপাসীদের চোখে পড়েনি।
আমি আর আমার ভ্রমণ সঙ্গী আমার মা, সিলেট শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিল । আগে থেকে বলে রাখা ভালো বিলের আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে পড়ন্ত রোদ পড়ার আগে যেতে হবে । আমাদের পৌঁছাতে একটু দেরীই হয়ে গিয়েছিল। যাত্রা পথে প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনার মন কেড়ে নিবে। গন্তব্য স্থল এ পৌঁছে দেখা পেলাম এক অপরুপ দৃশের ।দূর থেকে দেখলে সবুজের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র লাল লাল বৃত্ত দেখে ঠাঁহর করা দুরূহ জিনিষগুলো আসলে কি? দূরত্ব কমার সাথে সাথে একসময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফুলের অস্তিত্ব। আগাছা আর লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা। পূব আকাশে সূর্যের লাল আভা যেন হার মেনেছে রক্তিম শাপলার কাছে। প্রকৃতির বুকে আঁকা এ যেন এক নকশি কাঁথা। আগাছা আর লতা-পাতায়, বিলের হাজারো শাপলা, চোখ জুড়ায় পথচারীদের। বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। বিল এ যারা থাকেন তাদের জীবন আর জীবিকা বেশ ভিন্ন। তাদের এই বিল এর ওপর নির্ভর করে জীবন প্রবাহ করে। বিলে পৌঁছে দেখা পেলাম এক মহিলা শাপলা তুলছেন। উনাকে অনুরোধ করায় উনিই রাজি হলেন ডিবির বিল এর আশেপাশে ঘুরে দেখানোর জন্য । উনার নাম জিজ্জেস করায় বললেন সুচিত্রা দেবী। তিনি বললেন এ বিলে ঠিক কবে থেকে, শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা নিয়ে নেই সঠিক কোন তথ্য। তবে, স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই, এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা। প্রায় ৭০০ একর জায়গায় বিস্তৃত চারটি বিল। পুরো বিল ঢাকা পড়েছে শাপলায়। প্রস্ফুটিত শাপলা ফুল দেখতে অনেকটা আলোকরশ্মি বিচ্চুরিত নক্ষত্রের মতো। শাপলা ফুটে রাতের স্নিগ্ধতায় আর দিনের আলোতে আস্তে আস্তে বুজে যায়। একটি শাপলার স্থায়িত্ব এক নাগাড়ে সাত দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। শাপলা ‘নিমফিয়েসি’ গোত্রের দ্বিবীজ পত্রী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphacaae. ইংরেজি নাম-Water Lili. উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে শাপলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে আদিম দ্বিবীজ পত্রী হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘শাপলা’ শুধুই যে সৈন্দর্যের প্রতীক তা কিন্তু নয়। এর ঔষধি গুণ সম্পন্ন উপকারীতাও রয়েছে। এর বাহিরের পাপড়িগুলো অত্যন্ত কোমল। পুকুরে বা বিলে যখন আলো করে শাপলা ফুটে থাকে তখন সেই রূপের সাথে পৃথিবীর আর কোন ফুলের সৌন্দর্যকে তুলনা করা যায় না। সত্যিই এই শাপলার হাসি অতুলনীয় ।
একদিকে লাল শাপলার সমারহ অন্য দিকে মেঘালয় কন্যার অপরূপ রূপ যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। সুচিত্রা দেবী জানালেন যে বাংলাদেশ এর ওপারে ভারতের মেঘালয় এর মুক্তাপুর থানা অবস্থিত। এর পর আমরা গেলাম বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে এখানকার অধিবাসিরা বিভিন্ন ধরনের শাঁক সবজির গাছ লাগিয়েছেন ওপর প্রান্তে দেখা যায় ভারতের খাসিয়া অধিবাসিদের সুপারি এবং কমলার বাগান তবে বলে রাখা ভালো ভুলেও কেউ সাহস দেখিয়ে ও দিকে পা বারাবেন না।
এর পর গেলাম ডিবির হাওড় এ নৌকা করে ঘুরতে। হওর এর ভেতর নৌকা করে ঘুরার মজা ই আলাদা। আমরা দেখা পেলাম এক মাত্র মাঝি স্রীদাম বিশ্বাস এর। উনিই ডিবির বিল ঘুরিয়ে দেখালেন। এর পর আমরা গেলাম বিল অঞ্চল এর মানুষের জীবন ধারা দেখতে। সুচিত্রা দিদি নিয়ে গেলেন তাদের বস্তি তে। এখানকার সব মহিলারা হাতের কাজ করেন । বাঁশের টুকরি, ডালা, কুলা সব ধরনের বাঁশের কাজ করেন। আর এই বাঁশ গুলো বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে পাওয়া যায়। বিল বাসী মানুষের জীবন ধারণ বিচিত্র ডিবি হাওর এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌছায় নাই কিছু বাসায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ এর বাবস্থা করা আর খাবার পানি বলতে সুগভীর ইন্দিরার উপর নির্ভরশীল ঐ এলাকার মানুষজন। সময় পার হতে হতে কিভাবে যে মিশে গিয়েছিলাম জনপদের মানুষ গুলোর সাথে। তাদের আতিথিয়তা আমাদের অবাক করে দেয়। আমাদের শহর জীবনে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর যে সারা দিনই এক অচেনা ভ্রমণ পিয়াসির পিছনে ব্যয় করেন। দিনের শেষে গোধূলি লগ্নে আমরা চললাম আমাদের শহুরে গন্তব্বে ।



যাবেন কিভাবে ঃ
সিলেট শহরের বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে জৈন্তাপুর বাজারের পর কিছুদূর গেলে দেখা যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প ঐ পথ ধরে কিছু দূর গেলে দেখা মেলবে বিল এর । বাস / সি এন জি / প্রাইভেট গাড়ি করে সময় লাগবে এক ঘণ্টার মতো অথবা পুরো দিনের জন্য ভাড়া নিবে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।

কিছু গুরুত্ব পুণ্য তথ্য ঃ
বিল এর আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে রোদের তিব্রতা বাড়ার পূর্বে যাওয়ায় উচিত। সাথে হালকা খাবার ও পানি নিয়ে যাওয়া ভাল। রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচার জন্য ছাতা নেয়া যেতে পারে। তবে চিপস এর প্যাকেট , পানির বোতল যেখানে সেখানে ফেলে বিল এর পরিবেশ নষ্ট করবেন না। আরো একটা জরুরী কথা কেউ ভুলে ও ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন না।
মাঝি ঃ শ্রী দাম বিশ্বাস – ০১৭৫৪৭৮৫০০৬

সুমন্ত গুপ্ত, sumantasruti@ yahoo.com,

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×