somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিক্ষিপ্ত খাতা : “বোরিং সাবিক”

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“বাবা চলো বৃষ্টিতে ভিজি, আজকে শরতের প্রথম দিন।”
ছেলের এই ঘোষণায় আমি চমকে উঠলাম। শরৎ এসেছে সেটা তো আমি টেরই পাইনি। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
— “আজকে শরৎ তোমাকে কে বলল?”


সাবিকের আঁকা একটি ছবি

ছেলে উত্তর দিলো খুবই ভদ্রভাবে,
— “স্কুল থেকে আপুমনিরা বলেছে।”
(ওদের স্কুলে ম্যাডামদের সবাই আপু মনি বলে ডাকতে হয়। শুনতে একটু মজাই লাগে, ম্যাডাম না হয়ে সবাই আপু মনি!)
আমি বললাম,
— “ও আচ্ছা…

ছেলে শরতের বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলো। আমি দেইনি। ঠান্ডা লাগলে তো ঝামেলা আমাদেরই সামলাতে হবে। তবে মনে মনে খুব খুশি হলাম। অন্তত ছেলের ভেতরে পুরোনো বাংলার টানটা এখনো আছে।

আমি নিজেও তো একসময় বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে ঢুকেছিলাম। আস্তে আস্তে ঢুকছিলাম, কিন্তু পুরোটা ঢোকার আগেই বের হয়ে আসতে হলো। বাধা-বিপত্তি সামলাতে পারিনি। আজকে যদিও আমি প্রতিষ্ঠিত, তবু পুরোনো দিনের কথা খুব মনে পড়ে। ছেলেকে যখন দেখি তখন মাঝে মাঝে অবাক হই। এই যুগে যেখানে এআই টেকনোলজি এসে গেছে, সেখানে আমার ছেলে উচ্চাঙ্গ সংগীতে মগ্ন। রবীন্দ্রসংগীত গাইছে, নজরুলসংগীত গাইছে। নিজের মতো ছবি আঁকছে, ক্রাফট বানাচ্ছে। আমার খুব ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে আফসোস হয়—যদি আবার ফিরে যেতে পারতাম। যে বাধাগুলো এসেছিল, কোনো না কোনোভাবে সামলে নিতে পারতাম হয়তো।

আমার মেয়েকে দেখে মাঝে মাঝে ভয় পেতাম। ভাবতাম, বাংলাদেশের পুরোনো ঐতিহ্য একদিন হারিয়ে যাবে। সে সারাদিন এআই নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ছেলেকে দেখলেই ভয়টা কেটে যায়। ও এআই–এর উপর নির্ভরশীল না। নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়। ভাবি—ওর মতো কেউ না কেউ থাকবেই, যারা পুরোনো সংস্কৃতিটা ধরে রাখবে।

ছেলেকে আমি বারবার বলেছি,
— “বাবা, বইও পড়তে হবে। শুধু ক্লাস টিচারদের উপর নির্ভর করলে হবে না। যাদের গান করছো, যাদের ছবি আঁকছো, তাদের সম্পর্কেও জানতে হবে।”
কিন্তু আফসোস, বই হাতে নিতে চায় না। বলে—বই পড়তে ভালো লাগে না। একাডেমিক বই ছাড়া আর কিছু পড়ে না। শেষমেশ আমি বিরক্ত হয়ে বলি,
— “যা ভাগ, যা খুশি কর।”

আমার ছেলে কতটা বোরিং, একটা উদাহরণ দিই।

আমরা প্রতি ৪–৫ মাস অন্তর পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাই। গাড়িতে ওঠার পর গান বাজানো নিয়ে শুরু হয় যুদ্ধ। আমার ছেলে ছাড়া বাকি সবার চয়েস প্রায় একই রকম। কিন্তু ছেলের পছন্দ একেবারেই আলাদা।
ও যখন বলে, “আমি গান সিলেক্ট করি,” আমরা সবাই একসাথে চিৎকার করি—
— “ও নোওওওওও, প্লিজ সাবিক!”
ছেলে তখন বিরক্ত হয়ে বলে,
— “কেউ আমার পছন্দের গুরুত্ব দেয় না।”
আমরা শান্ত করার জন্য বলি,
— “আচ্ছা দাও, তোমার গান দাও।”
তখন শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীত বা নজরুলসংগীত। একটু শোনার পর আমি শান্ত গলায় বলি,
— “বাবা, অন্য গান দাও না প্লিজ। আমার ঘুম পাচ্ছে। ঘুম পেলে কিন্তু অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যাবে।”

অ্যাক্সিডেন্টের নাম শুনে ছেলে ভয়ে আমাদের পছন্দের গান বাজায়। কিন্তু এখন আর ফাঁদে পড়ে না। বুঝে গেছে আমি ইচ্ছে করে বলি। এখন অ্যাক্সিডেন্টের নাম নিলেও শোনে না। আর আমাকে ২০০ থেকে ৪০০ কিমি ড্রাইভ করতে হয়। মেয়ে আর ওয়াইফ হেডফোন কানে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকে, সাবিক মাথা দুলতে থাকে, আর আমি একলা ড্রাইভার। আমার অবস্থা কেমন হয়, নাই বা বললাম।

মেয়েকে দেখে ভাবতাম, আমাদের ঐতিহ্য হয়তো মুছে যাবে। কিন্তু ছেলেকে দেখলেই মনে হয়—সব হারিয়ে যায়নি। এখনো কেউ কেউ আছে, যারা পুরোনো সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরবে।

বইয়ের কথা যখন এলো, আরেকটু বিরক্ত করি।

আমি কিছুদিন যাবত দুইটা বই নিয়ে কাজ করছি। একটা আমার লেখা, আরেকটা অনুবাদ। আমার লেখা বইয়ের পাণ্ডুলিপি অনেক প্রকাশকের কাছে পাঠালাম। সবাই বলল,
— “ভাই, বই বিক্রি দিন দিন কমছে। নতুন লেখকের বই এখন রিস্ক। যদি ৫০% শেয়ার করেন তাহলে ভেবে দেখতে পারি।”

অনুবাদের স্যাম্পল দিলাম। বললাম—মূল প্রকাশকের কাছ থেকে অনুমোদন নিন। স্যাম্পল দেখে অনেক প্রকাশক প্রশংসা করলো। তারপরও একই কথা—বই বিক্রি কমে গেছে, মূল প্রকাশক যদি টাকা চায়, তাহলে তো ভাই সমস্যা।

আমি ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ বই কিনে না—এটা আমি মানতে চাই না। যাই হোক, এআই–এর মাধ্যমে কিছু ডাটা কালেকশন করলাম। রিপোর্ট দেখে মাথা পুরাই উল্টোপাল্টা হয়ে গেলো।
বই বিক্রি এত কমে গেছে—এখনো আমি বিশ্বাস করতে পারি না।
এআই–এর রিপোর্টটা নিচে দিলাম।


অমর জায়গায় লিখে ফেলেছে আমার [/sb

ছোট্ট আরেকটি অনুরোধ , যদি সম্ভব হয় অনুরোধ টুকু রাখবেন
Follow my Facebook Page
facebook.com/kolomeamisumon
কলমে আমি - Sumon Bhuiyan


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামনে আসছে শুভদিন , জান্নাতের সুবাস নিন।

লিখেছেন সপ্তম৮৪, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

আর অল্প কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে প্রথমবারের মত সম্পূর্ণ সৎ এবং মেধাবীদের দ্বারা গঠিত সরকার।
মেধাবীদের বিপরীতে আছে একমাত্র শক্ত দল বিএনপি। বিএনপির জনসমর্থন প্রচুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×