সরকার আর বিসিবির চরম গলাবাজি আর সীমাহীন অব্যস্থাপনার নমুনা বিশ্বকাপ ক্রিকেট, টিকিট নিয়ে মানুষের উন্মাদনার কথাতো সবারই মনে আছে, বিশ্বকাপের মূল খেলার টিকিট লাভে ব্যার্থ হয়ে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচের ২ টা টিকিট কিনেছিলাম সিটি বাংক থেকে কিন্তু ভাউচার নিয়ে যে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে তা ছিল চিন্তার বাইরে, প্রতিটি স্তরে স্তরে অব্যস্থাপনা আর নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ছিল চোখে পরার মত, গতকাল আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের খেলা দেখতে, ভোগান্তি যেন আমাদের সাথে লেগে ছিল শুরু থেকেই, প্রথমে আমি আমার অফিস থেকে বের হয়ে বউকে তার অফিসের সামনে থেকে তুলে নিলাম, তার পরি ভোগান্তি যেন শুরু. আমাদের দেশের মহারাজ সিএনজিওয়ালারা কেউ মিরপুর যেতে রাজি হলেন না, অনেক কষ্টে একজন মিশুক ভাইকে অনুনয় বিনয় করে তিন গুন ভাড়ায় রাজি করিয়ে মিরপুর রওনা দিলাম আর ভাবলাম ভোগান্তি আপাতত শেষ, এবার মজা করে খেলা দেখব কিন্তু বিধাতা সামনে যে আরো কত কি রেখেছে তা জানা ছিল না.
বিগত দিনগুলাতে টেলিভিশনে বি সি বি কর্তা মাহবুব আনাম সাহেবের ব্যাপক চাপাবাজিতে অসস্থ হয়েছিলাম, তিনি বলেছিলেন টিকিট কাউন্টার পর্যাপ্ত আছে স্টেডিয়াম এর সাথে এবং প্রত্যেকের টিকিট সংরক্ষিত আছে কিন্তু বাস্তব পুরা আলাদা, স্টেডিয়াম পৌছানোর পরে শুনলাম কাউন্টার মোটেও কাছাকাছি নয় ১২ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে দিয়ে গেলাম ইনডোর স্টেডিয়াম কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ, মাত্র একটাই টিকিট কাউন্টার, হাজার মানুষ বিসৃন্খল ভাবে কাউন্টার দখল করে রেখেছে কিন্তু পুলিশ নিশ্চুপ, যাদের কাছে ভাউচার ছিল তারা সব থেকে বেশি অসহায়, ভাউচারধারিদের জন্য ছিল না কোনো আলাদা লাইন, আর এভাবে উস্সৃন্খল ৪/৫ হাজার দর্শক ঠেলে কাউন্টার এর কাছে যাওয়া ছিল অসম্ভব, আমার মত অনেক কেই দেখলাম যারা ভাউচার নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছে কিন্তু টিকিট পাস্স্ছে না, অনেকখন ভলান্টিয়ার দের সাথে বাকবিতন্ডার পরে তাদের ও পুলিশের সহায়তায় টিকিট পেলাম কিন্তু কাউন্টার এ ভাউচার এর বিপরীতে কোনো টিকিট সংরক্ষিত দেখলাম না, সবাইকে বান্ডিল থেকে টিকিট খুলে খুলে দেয়া হস্স্ছিল, কোনো সিট নাম্বার, ব্লকের বালাই ছিল না
এরপর মাঠ এ গেলাম তখনও কাহিনী অনেক বাকি ছিল, স্টেডিয়াম গেটে বিশাল লাইন , সবাইকে ১/২ ঘন্টার বেশি সময় লাইন করে দাড়িয়ে থাকতে দেখলাম কারণ আর কিছুই না , গেটে আয়েসী ভঙ্গিতে তারা একটা একটা করে টিকিট স্কান করছেন আর ঢুকতে দিস্স্ছেন, এতক্ষণে খেলার ১৫ ওভার শেষ, এরপর শুরু হলো নিরাপত্তার নামে দর্শক নাজেহাল, প্রথমে আমাকে সিকুরিটি ডোর পাস করতে হলো তারপর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে আবার চেক, তারপর যেভাবে আমার পকেট আর শরীর চেক করা হলো মনে হলো আমি মাত্র ধরা পরা কোনো সন্ত্রাসী বা ছিনতাইকারী, ব্লগের ভাইরা যাদের সাথে মেয়ে দর্শক থাকবে তারা সাবধান কারণ মেয়েদের ভোগান্তি ছিল চরমে, আমার স্ত্রীকে প্রথমে একটা সাদা কাপড় ঘেরা ব্লকে নিয়া হলো সেখানে তার সব শরীর চেক করা হলো, যেহেতু তাকে আমি অফিস থেকে নিয়ে গেয়েছিলাম তাই তার কাছে অনেক নিত্য ব্যবহার্য জিনিস ছিল, প্রথমে ওর ব্যাগ থেকে ফেস পাউডার আর চিরুনি বের করে ফেলে দিল তারা, এগুলা নাকি বহন যোগ্য নয়, যাই হোক এই যাত্রায় ছাড়া পেলাম আমরা, এবার গ্যালারি গেট, এখানেও আবার সিকুরিটি গেট তারপর মেটাল ডিটেক্টর এবং শরীর তল্লাসী, এখানে আমার বউকে আবার তল্লাসী করা হলো. এবার ওর ব্যাগ থেকে আই লাইনার, লিপজেল, লিপগ্লস, লিপস্টিক, ছোট হাত আইনা, পানির বোতল আর একটা ৪ জিবি পেন ড্রাইভে বের করে ফেলে দিল, আমার সামনের জনের কামেরা নিতে দিলেও তার সাথে ব্যবহার করার কামেরা জেলটি তারা ফেলে দিলো. মোটামুটি ২ হাজার টাকার জিনিস বাইরে ফেলেই আমাকে ঢুকতে হলো, যা কিনা খেলা শেষে আর কিছুই ফেরত পায়নি, যদিও লিপস্টিক, লিপজেল, পেন ড্রাইভ কি করে বিপদ্জক হয় আমার জানা ছিল না.
অবশেষে গ্যালারি তে ঢুকলাম. এখানে সিট নাম্বার বা ব্লকের কোনো বালাই নাই যে যেভাবে পারছে বসে খেলা দেখছে, কাউকে সিট ব্যবস্থাপনা তদারকি করতেও দেখলাম না, গ্যালারির ভেতরের পরিবেশ অনেক ভালো থাকলেও খাবারের দাম ছিল বাইরের থেকে ৩/৪ গুন বেশি.
এই ছিল আমার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, ভাই আপনারা যারা খেলার ভাউচার পেয়েছেন একটু কষ্ট হলেও আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করুন এবং কমপক্ষে খেলা শুরুর ৩/৪ ঘন্টা আগে মাঠে যাবেন আর সাথে পরিবারের বিশেষ করে নারী দর্শকদের বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


