somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার আর বিসিবির চরম গলাবাজি আর সীমাহীন অব্যস্থাপনার নমুনা বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১১

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকার আর বিসিবির চরম গলাবাজি আর সীমাহীন অব্যস্থাপনার নমুনা বিশ্বকাপ ক্রিকেট, টিকিট নিয়ে মানুষের উন্মাদনার কথাতো সবারই মনে আছে, বিশ্বকাপের মূল খেলার টিকিট লাভে ব্যার্থ হয়ে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচের ২ টা টিকিট কিনেছিলাম সিটি বাংক থেকে কিন্তু ভাউচার নিয়ে যে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে তা ছিল চিন্তার বাইরে, প্রতিটি স্তরে স্তরে অব্যস্থাপনা আর নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ছিল চোখে পরার মত, গতকাল আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের খেলা দেখতে, ভোগান্তি যেন আমাদের সাথে লেগে ছিল শুরু থেকেই, প্রথমে আমি আমার অফিস থেকে বের হয়ে বউকে তার অফিসের সামনে থেকে তুলে নিলাম, তার পরি ভোগান্তি যেন শুরু. আমাদের দেশের মহারাজ সিএনজিওয়ালারা কেউ মিরপুর যেতে রাজি হলেন না, অনেক কষ্টে একজন মিশুক ভাইকে অনুনয় বিনয় করে তিন গুন ভাড়ায় রাজি করিয়ে মিরপুর রওনা দিলাম আর ভাবলাম ভোগান্তি আপাতত শেষ, এবার মজা করে খেলা দেখব কিন্তু বিধাতা সামনে যে আরো কত কি রেখেছে তা জানা ছিল না.

বিগত দিনগুলাতে টেলিভিশনে বি সি বি কর্তা মাহবুব আনাম সাহেবের ব্যাপক চাপাবাজিতে অসস্থ হয়েছিলাম, তিনি বলেছিলেন টিকিট কাউন্টার পর্যাপ্ত আছে স্টেডিয়াম এর সাথে এবং প্রত্যেকের টিকিট সংরক্ষিত আছে কিন্তু বাস্তব পুরা আলাদা, স্টেডিয়াম পৌছানোর পরে শুনলাম কাউন্টার মোটেও কাছাকাছি নয় ১২ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে দিয়ে গেলাম ইনডোর স্টেডিয়াম কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ, মাত্র একটাই টিকিট কাউন্টার, হাজার মানুষ বিসৃন্খল ভাবে কাউন্টার দখল করে রেখেছে কিন্তু পুলিশ নিশ্চুপ, যাদের কাছে ভাউচার ছিল তারা সব থেকে বেশি অসহায়, ভাউচারধারিদের জন্য ছিল না কোনো আলাদা লাইন, আর এভাবে উস্সৃন্খল ৪/৫ হাজার দর্শক ঠেলে কাউন্টার এর কাছে যাওয়া ছিল অসম্ভব, আমার মত অনেক কেই দেখলাম যারা ভাউচার নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছে কিন্তু টিকিট পাস্স্ছে না, অনেকখন ভলান্টিয়ার দের সাথে বাকবিতন্ডার পরে তাদের ও পুলিশের সহায়তায় টিকিট পেলাম কিন্তু কাউন্টার এ ভাউচার এর বিপরীতে কোনো টিকিট সংরক্ষিত দেখলাম না, সবাইকে বান্ডিল থেকে টিকিট খুলে খুলে দেয়া হস্স্ছিল, কোনো সিট নাম্বার, ব্লকের বালাই ছিল না

এরপর মাঠ এ গেলাম তখনও কাহিনী অনেক বাকি ছিল, স্টেডিয়াম গেটে বিশাল লাইন , সবাইকে ১/২ ঘন্টার বেশি সময় লাইন করে দাড়িয়ে থাকতে দেখলাম কারণ আর কিছুই না , গেটে আয়েসী ভঙ্গিতে তারা একটা একটা করে টিকিট স্কান করছেন আর ঢুকতে দিস্স্ছেন, এতক্ষণে খেলার ১৫ ওভার শেষ, এরপর শুরু হলো নিরাপত্তার নামে দর্শক নাজেহাল, প্রথমে আমাকে সিকুরিটি ডোর পাস করতে হলো তারপর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে আবার চেক, তারপর যেভাবে আমার পকেট আর শরীর চেক করা হলো মনে হলো আমি মাত্র ধরা পরা কোনো সন্ত্রাসী বা ছিনতাইকারী, ব্লগের ভাইরা যাদের সাথে মেয়ে দর্শক থাকবে তারা সাবধান কারণ মেয়েদের ভোগান্তি ছিল চরমে, আমার স্ত্রীকে প্রথমে একটা সাদা কাপড় ঘেরা ব্লকে নিয়া হলো সেখানে তার সব শরীর চেক করা হলো, যেহেতু তাকে আমি অফিস থেকে নিয়ে গেয়েছিলাম তাই তার কাছে অনেক নিত্য ব্যবহার্য জিনিস ছিল, প্রথমে ওর ব্যাগ থেকে ফেস পাউডার আর চিরুনি বের করে ফেলে দিল তারা, এগুলা নাকি বহন যোগ্য নয়, যাই হোক এই যাত্রায় ছাড়া পেলাম আমরা, এবার গ্যালারি গেট, এখানেও আবার সিকুরিটি গেট তারপর মেটাল ডিটেক্টর এবং শরীর তল্লাসী, এখানে আমার বউকে আবার তল্লাসী করা হলো. এবার ওর ব্যাগ থেকে আই লাইনার, লিপজেল, লিপগ্লস, লিপস্টিক, ছোট হাত আইনা, পানির বোতল আর একটা ৪ জিবি পেন ড্রাইভে বের করে ফেলে দিল, আমার সামনের জনের কামেরা নিতে দিলেও তার সাথে ব্যবহার করার কামেরা জেলটি তারা ফেলে দিলো. মোটামুটি ২ হাজার টাকার জিনিস বাইরে ফেলেই আমাকে ঢুকতে হলো, যা কিনা খেলা শেষে আর কিছুই ফেরত পায়নি, যদিও লিপস্টিক, লিপজেল, পেন ড্রাইভ কি করে বিপদ্জক হয় আমার জানা ছিল না.

অবশেষে গ্যালারি তে ঢুকলাম. এখানে সিট নাম্বার বা ব্লকের কোনো বালাই নাই যে যেভাবে পারছে বসে খেলা দেখছে, কাউকে সিট ব্যবস্থাপনা তদারকি করতেও দেখলাম না, গ্যালারির ভেতরের পরিবেশ অনেক ভালো থাকলেও খাবারের দাম ছিল বাইরের থেকে ৩/৪ গুন বেশি.

এই ছিল আমার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, ভাই আপনারা যারা খেলার ভাউচার পেয়েছেন একটু কষ্ট হলেও আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করুন এবং কমপক্ষে খেলা শুরুর ৩/৪ ঘন্টা আগে মাঠে যাবেন আর সাথে পরিবারের বিশেষ করে নারী দর্শকদের বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:২৬
১৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×