৭.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা রাজনীতির খেলার মাঠ ছাড়াও সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত হয়।
দেশের কবি-সাহিত্যিক দের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও চেতনা নিয়ে নানা কিছু লিখে থাকেন। আমাদের এ লেখা-লেখি অনেক ক্ষেত্রেই ২৬ শে মার্চ বা ১৬ ডিসেম্বর নির্ভর। তবে এর অনেক ব্যতিক্রমও আছে।
লেখালিখি অনেক সময়ই ব্যক্তিপূজায় চলে যায়। বংগবন্ধু শেখ মুজিব বা মেজর জিয়া কেন্দ্রিক, লেখকদের মাঝে পার্টিজান মনোবৃত্তি বেশ লক্ষনীয়। তবে এটাও লক্ষনীয় যে এ ধরনের লেখা-লেখিতে সাধারন মুক্তিযোদ্ধা বা বীরাংগনা তেমন আসেই না। অনেক সময়ই যুদ্ধের বর্ননা যেভাবে দেয়া হয় সেভাবে দেয়া হয়না ৭১ এ ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১ কোটি শরনার্থির কথা !
আমাদের সাহি্ত্যের জগতে যে সব তথাকথিত বিশাল মানুষরা রয়েছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ যুদ্ধের অভিগ্যতা নেই। আমার চেনা ও জানা মতে কবি রফিক আজাদ ছাড়া আর কাউকেই দেখিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে।
কবি রফিক আজাদ যখন রাইফেল হাতে টাঙাইল ফ্রন্টে ঠিক তখন কবি শামসুর রাহমান দৈনিক পাকিস্তানে কর্মরত বা সৈয়দ হক পায়ের আওয়াজ মার্কা লিখেছেন লন্ডনে বসে।
বাস্তব অভিগ্যতা ছাড়া এই সব লেখককে শুধু আবেগ সম্বল করে লিখে যেতে হয়।
শারিরীক স্বামর্থ থাকা ও অনেকের পিছুটান না থাকলেও অজানা কারনে তারা যুদ্ধে যাননি। যুদ্ধের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে লেখা ও নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে লেখার মাঝে অনেক ফারাক রয়েছে।
তাদের চেতনার ব্যপারে কোনো প্রশ্ন তুলছি না, সেটা তোলাও ঠিক হবে না। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি শুধু কলমবাজি করলেই চেতনার প্রকাশ হয়ে যায় না। বাস্তব জগতেও সেটা প্রমানও করতে হয়, যার সুযোগ সে সময় কি তাদের অনেকের ছিলো না?
৮.
মধ্যবিত্য সমাজে অনেকের কাছেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা এক ধরনের ফ্যাশনের মতো। আমার কাছে এটাই মনে হয় আজকাল।
পত্রিকার পাতায় ফিচায় বা বড় বড় কলাম লিখতে পারে অনেকেই কিন্তু পত্রিকার পাতায় যখন কোনো হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা কথা বলা হয় তখন জানতে ইচ্ছে হয় ঠিক কয়জন সেই সব কলাম বাজ সেই মুক্তিযোদ্ধার পাশে এসে দাঁড়ান !!
পত্রিকার পাতায় মুক্তিযোদ্ধাদের দারিদ্রের কথা বা মুক্তিযোদ্ধা পিতার সামনে মেয়েকে ধর্ষন করার খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়।
" ব্যাড নিউজ ইজ গুড নিউজ " । আর আমরা মধ্যবিত্য কলামপেশী বা ব্লগারুরা সেটা নিয়ে বড় বড় কথা বলি কিন্তু পাশে এসে দাঁড়াতে বল্লে নানা কারনে সেটা এড়িয়ে যাই।
চেতনার কথা শুধু কলমের নিভে না এসে বাস্তব জগতে তার প্রয়োগও করতে হয়। এটাও মনে রাখতে হয়।
৯.
মুক্তিযোদ্ধার চেতনা বড় বড় কথা দ্বারা প্রকাশ করতে হয় কাজ দ্বারা। এটা আমি বেশ কবার বলতে চেয়েছি।
তবে এরও অনেক ব্যতিক্রমটা বলছি এখন।
আমাদের এই ছোট্ট সবুজ দেশটিতে অনেক নিরব যোদ্ধা রয়েছেন যারা চেতনা বুকের ভেতর লালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘরে দেখেছি অনেকেই অনেক টাকা দিয়েছেন কিন্তু নাম প্রকাশ করেননি। এই সব নিরব চেতনার সৈনিকদের চেতনার কি মুল্য নেই? অবশ্যই আছে। এই সব নিরব সৈনিকদের সংখ্যাই কিন্তু বেশি।
---------
এ সিরিজ কোনো গবেষনা না, একান্তই ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা।
চলবে........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




