ওরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে আটকে পড়ে। না পাকিস্তান ওদেরকে ফেরত নেয়, না বাংলাদেশ তাদেরকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেয়। কিন্তু তবুও ওরা মানুষ। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার সবারই আছে। অবশেষে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর ওদেরকে এদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। এই নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে যতটা না তাদের বাংলাদেশী বানানোর প্রচেষ্টা, তার চেয়ে অনেক বেশী ভোটের ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহারের আশা। কারন ওদের গায়ে পাকিস্তানের সীলমোহর। ওদের বস্তির সামনে বড় করে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো “ষ্ট্রেন্দ্রেড পাকিস্তানিজ”
ওরা এখন একটু একটু করে বাঙালি হবার চেষ্টা করছে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা উর্দু আর বাংলায় কথা বলার প্রাণপণ চেষ্টা। মাঝে মাঝে হাসিই পায়। মাঝে মাঝে করুনাও হয়। কিন্তু মনে ভালবাসা জাগে কি?
ছোট খাটো ব্যবসা করে জীবনধারণ। দশ ফুট বাই দশ ফুট বস্তির ঘরে হালি হালি বাচ্চা কাচ্চা। ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই সবার ঘৃণাভরা চোখ। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। ওদেরকে কোন স্কুল নেয়না। ওরা অবাঙ্গালি।
একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বাংলাদেশে এবং খোদ রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালশীতে অবস্থিত বিহারী ক্যাম্প এক ধূসর অন্ধকারের জগত। না শিক্ষা, না উন্নয়ন, না আধুনিকতার কোনকিছুর আলোই এখানে পৌঁছায়না।
আতশবাজী ফোটানো থেকে সৃষ্ট গোলযোগের ফলো আপ হিসেবে আজ ভোরে ঘুমন্ত বিহারীদের ঘরগুলো বাইরে থেকে আটকে দিয়ে সেখানে আগুন দেয়া হয়। মৃত্যুচিৎকার কিংবা আহাজারি কোনকিছুই দুর্বৃত্তদের কানে পৌঁছায়না। ঘরের ভেতরে আটকে পড়ে একই পরিবারের ৮ জন সহ মোট ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এর মধ্যে আবার ৫ জনই শিশু। নারীও আছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যাচ্ছে না। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই হল আমাদের সভ্য হবার নমুনা। আমরা নাকি এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ভেতরে নাকি মানবতাবোধ জেগে উঠছে।
কারা এই পৈশাচিক আর মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাথে জড়িত আমরা এখনো তা জানিনা। তারা বাঙালি হোক কিংবা অবাঙ্গালি বিহারীই হোক তাদের দিকে তীব্র ঘৃণা আর ধিক্কারের থুথু। আবার তোরা মানুষ হ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



