somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের নিয়ম...............

২১ শে জুলাই, ২০১৪ ভোর ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লাবন্য.....এ....ই....ই...লাবন্য তোর স্যার এসেছে ।
-মা কোন স্যার ??????
-আজ থেকে তোমাকে নতুন স্যার পড়াবে ।
লাবন্য তৈরি হয়ে পড়তে গেল.........স্যার কে সালম দিয়ে চেয়ার টেনে বসল ।
স্যার : তোমার নাম কি?
লাবন্য: লাবন্য,স্যার আপনার নাম কি??
স্যার:আমার নাম পরাগ,আমি ফিন্যান্স এ বিবিএ পড়ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ।
লাবন্য:স্যার আমার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ার ইচ্ছা ।
স্যার :মন দিয়ে পড়লে হয়ে যাবে ।
পরাগ রিক্সয় উঠে সিগারেট ধরাল আর ভাবতে লাগল.....লাবন্যর কথা :|
লাবন্য কথা গুলো এত অধিকার নিয়ে কেন বলে???? শুধু যে আজ তা নয়,
আরো অনেক বার এরকম হয়েছে ।কোনদিন না পড়াতে যেতে চাইলে ও যেতে হয়।আমিই-বা কেন লাবন্যর ফোন এর অপেক্ষা করি?????
কেন কেন ????
লাবন্য: স্যার আপনি এ-সে-ছে-ন.....:D স্যার আপনি জানেন না আাপনি না আসলে আমার ভাল লাগে না, কষ্ট হয়......:((
স্যার:হুম জানি ,তাই তো চলে আসলাম ।আজ আমার অনেক কাজ ছিল তবু তোমার ডাক উপেক্ষা করতে পারলাম না ।
-ওকে কাল যে বিষয়ের ক্লাস টেস্ট আছে সেই প্রবলেম গুলো সলব্ করে চলে যাব।
লাবন্য: কাল কোন ক্লাস টেস্ট নেই ।
স্যার:তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছ????
লাবন্য:মিথ্যা না বললে আপনি আসতেন না ।
X(X(............X(X.........X(X..........X(X(................X(X(...........X(X(

৬ মাস পর.........
লাবন্য এবং পরাগ দু জন ই ভাললাগায় বিভোর ।
--পরাগ ভাললাগাটাকে ভালবাসায় রুপান্তরিত করতে চাইল.......B-)
বাইরে ঝড় বৃষ্টি এখন কমেনি, সেই বিকেল চারটে থেকে শুরু হয়েছে।
অনেক কষ্ট করে পরাগ পৌছাঁল লাবন্যর বাসায়,পড়ানো শেষ করে পরাগ বড় ১ টা খাম হাতে নিয়ে দাড়িয়ে...............বলল
লাবন্য এটা রাখ ।
লাবন্য : এটা কি স্যার????
পরাগ: মুচকি হেসে বলল খুলে দেখ????
লাবন্য নীল রং এর খাম টা খুলল .....তারপর বেরিয়ে আসল কমলা রং এর খাম , তারপর আবার বেরিয়ে আসল টিয়া রং এর খাম
লাবন্য আবার খুলল ,তারপর আবার বেরিয়ে আসল বেগুনী রং এর খাম
তারপর আবার ........এভাবে ক এক বার ....সবশেষ খামটি খুলে লাবন্য দেখল........
কিছু গোলাপ ফুল,১ টা হলুদ খাম (যে খাম গুলো অগে সরকারি ডাকে ব্যবহৃত হত) আর ১ টা কার্ড ।
এবার এই হলুদ খামটি খুলার আপেক্ষা.....
.................""তোমার সাথে আমি আমার আপন বৈশিষ্টের কিছু মিল খুজে
পেয়েছি তাই বাড়িয়ে দিলাম ভালবাসার হাত""..................

লাবন্য এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিল...স্যার কে লাবন্যর ও খুব ভাল লাগত,হয়ত এই দিনিটর জন্যই মনের অজাণ্তে লাবন্য অপেক্ষা করতে ছিল........:P
লাবন্য একটা চিরকুট দিল,শুধু লিখা ছিল........."yes"
শুরু হল ভালবাসা---বাসি....হাতে হাত,চোখে চোখ রেখে স্বপ্ন দেখাদেখি..........:DB-).
অনেক দরদ,অনেক মায়া মমতা দিয়ে পরাগ আগলে রাখতে লাগল লাবন্যকে......:|
এভাবে প্রেম চলতে লাগল.....।
..........।:........:)..............।:..............।:..............।:...............।:...........

লাবন্য যখন দশম শ্রেণীতে পড়ে তখন ওরা পালিয়ে বিয়ে করে ফেলল :P বাবা মা মেনে ও নিল...এক অনাবিল সুখের সংসার দুজনের .......ইচ্ছা হলে শশুর এর বাসায় থাকে, আবার ইচ্ছা হলে বাবার বাসায় থাকে ।কোন বাধা নেই,কারন দুই বাসা পাশাপাশি রোড় এ।লাবন্য ও পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে ,পরাগ মাল্টিন্যশনাল কম্পানীতে চাকুরী পেয়েছে ।দুই পরিবার এর অর্থনৈতিক অবস্থা ই ভাল..সবমিলে ওরা খুউব ভাল সময় পার করছিল ।

বিয়ের ২ বছর পর....X((

হঠাৎ একদিন লাবন্যর জ্বর হল,ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খেল,জ্বর ভাল ও হল,কিন্তু জ্বর ভাল হবার পর এলার্জির মত উঠল । আবার ডাক্তার দেখাল,
ডাক্তার বলল এগুলো এলার্জি নয় । ভিবিন্ন টেষ্ট করে ধরা পরল সরিয়াসিস নামক রোগ । বাংলাদেশে অনেক চিকিৎসা করাল কিন্তু পুরোপুরি ভাল হচ্ছিল না । বিভিন্ন দেশে থেকে ও চিকিৎসা করাল । তেমন কোন উন্নতি হল না কিছুদিন ভাল ,কিছুদিন অসুস্থ এভাবেই দিনগুলো যাচ্ছিল ।

লাবন্য তখন অনার্স ২য় বর্ষে পরে ..

কত স্বপ্ন ছিল মনের মাঝে ঘর আলো করে ফুটফুটে বাবু আসবে । কিন্তু অসুস্থতার জন্য মা হতে পরছিল না লাবন্য । পরাগ সব হাসিমুখে মেনে নিয়েছে,পরাগ শুধু বলে "লাবন্য তুমি শুধু সুস্থ ভাবে বেচেঁ থাক,আমার আর কিছু চাই না "তুমি ছাড়া আমি বাঁচব না লাবন্য "
এভাবে দিনগুলো যাচ্ছিল । লাবন্যর এবং পরাগের পরিবারে যে কেউ অসুস্থ হলে লাবন্যই সবাইকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যেত,সবার খু-উ-ব খেয়াল রাখত ।সবাই লাবন্যকে খু-উ-ব পছন্দ করত ।

------হঠাৎ লাবন্য ভীষন অসুস্থ হয়ে যায় ...তাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হয় ।লাবন্যর শরীরের অবস্থা খারাপ হতে থাকে ।সারা শরীরে কোন চামড়া ছিল না.....কি কষ্ট যে হচ্ছিল তা বর্ননাতীত.......:(( ক এক দিন পর তকে আইসিও তে নেয়া হয় ।পরাগ তখন পাগল প্রায়..পরাগ এর পাগলামী বাড়তে থাকে..পরাগ গাড়ির নিচে পরে মরে যাবে...লাবন্যকে ছাড়া সে বাঁচবে না......আইসিওর বাহিরে পরাগ কে পাহারা দেয় বম্ধুরা........আর ঐ দিকে লাবন্য আইসিও তে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে থাকে.........:-*আর পরাগ সুযোগ পেলেই নিজেকে শেষ করার চিন্তা করে.........এই বাঁচা মরার লড়াই এ লাবন্য বেচেঁ যায় ......লাবন্য ও পরাগ দু জন ই জীবনের নতুন মানে খুজে পায় ।

লাবন্য তখন অনার্স ফাইনাল দিয়ে বিভিন্ন চাকুরী খুজতে ছিল...।শুধু সময় কাটানোর জন্য, নিজেকে একটু ব্যস্ত রাখার জন্য ।সরিয়াসিস নামক রোগের সাথে লড়াই করে ই লাবন্য জীবনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করছিল,সেই সাথে ছিল পরাগ এর অসীম ভালবাসা যা তাকে লড়াই করার শক্তি দিত ।
লাবন্য কিছু দিন পরপর ই ভীষন অসুস্থ হত,কারন সরিয়াসিস নামক রোগ কখনো পুরোপুরি ভাল হয় না ।ঔষধ খেয়ে কমিয়ে রাখা যায় কিন্তু র্নিমূল করা যা্য় না ।

লাবন্য মাস্টার্সে ভর্তি হল,দিন গুলো যাচ্ছিল খারাপ ভাল মিলিয়ে..../:) ভেবেছে হজ্ব করবে , হয়ত শরীরে,মনে একটু শান্তি আসবে......হজ্বের প্রসেসিং শেষ হবার আগেেই লাবন্য আবার অসুস্থ হ্য় ....আবার আইসিওতে ভর্তি হতে হয়....এবার শরীরে সরিয়াসিস এর পরিমান কম কিন্তু প্রচন্ড শ্বাষ কষ্ট হচ্ছিল,তাপমাএা স্বাভাবিক এর চেয়ে অনেক কম,কার্বন-ডাই অক্সইড ভেতরে জমে আছে....(কারন অক্সিজেন নিতে পারছিল না ,কার্বন-ডাই অক্সইড ও ছাড়তে পারছিল না )।

লাবন্যর প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল.....।:((
পরাগ আইসিওর বাহিরে বসে আছে.....দোয়া পড়ছে....পরাগ মনে প্রানে বিশ্বাষ করছে প্রতি বারের মত এবার ও লাবন্য ভাল হয়ে যাবে ।হাসিমাখা মুখ নিয়ে তার হাতে হাত রেখে বাসায় যাবে....আর বলবে "আল্লার রহমতে তোমার দোয়া এবং ভালবাসায় এবার ও আমি বেঁচে আসলাম সোনামনি"........ঠিক এই মুহূর্তে নার্স এসে বলল আপনার পেশেন্ট আপনাকে ডাকছে.........পরাগ আইসিওর ভেতরে প্রবেশ করল....লাবন্যর মাথায় আলতো করে হাতটা রাখল ....লাবন্য চোখ মেলে তাকাল,প্রচন্ড শ্বাষ কষ্ট নিয়ে বলল "আমার খু-উ-ব কষ্ট হচ্ছে ডাক্তার কে বল লাইফ সার্পোট দিতে"
ডাক্তার লাইফ সার্পোট দিলো । পরাগ ডাক্তার কে বলল "যে ভাবে পারেন
লাবন্যকে বাঁচান....:(( ডাক্তার বলল "সরিয়াসিস এর জন্য যে ঔষধ লাবন্য খেত সেই ঔষধ লাবন্যর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে তাই অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না,অক্সিজেন নিতে পারছেনা,কার্বন-ডাই অক্সইড ও ছাড়তে পারছে না.......পালস্ ও কমে যাচ্ছে..তবে আমরা চেষ্টা করছি ।
পরাগ বলল লাবন্য কে ছাড়া আমার পৃথীবী অন্ধকার ।ওকে আপনার বাঁচিয়ে তুলতে হবে ।
আইসিওর বাহিরে পরাগ দোয়া পড়ছে....আইসিওর ভতরে লাবন্য লাইফ সার্পোটএ .......দুই জনই জীবন মৃত্যুর মাঝামঝিতে,শুধু ধরনটা ভিন্ন ।
লাইফ সার্পোট দেয়ার ১১ ঘন্টা পর ...................

লাবন্য আর বেঁচে নেই । সব মায়া মমতার বাঁধন কাটিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে............
পরাগের অবস্থা বর্ননাতী........:(( "প্রতিদিন কবর যেয়ারত করতে যায় আর ভাবে যদি একটু আলো দিয়ে তোমার কবরের অন্ধকার দূর করতে পারতাম"

১২ বছর এক সাথে পথ চলা........ তারপর এখন একা .........দুজনই একা ......
পরাগ ইহকালে একা........লাবন্য পরকালে একা ..........
কে কার কাছে যাবে ???????? একাকীত্বের যন্ত্রনা দূর করতে????
জীবন জীবনের নিয়মে চলে,আমাদের কিছুই করার নেই ।আমরা প্রভুর কাছে সমর্পিত ।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×