somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মেঘের রাত্রি

২৫ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আজকাল ভালো আছি .....
তুকে ছাড়া রাত গুলো আলো হয়ে আছে ...
আমি আজকাল ভালো আছি।

অনুপমের গাওয়া গানটা শুনছিল মেঘ আর নীরবে চোখের অশ্রু ফেলছে...
মেঘ চট্টগ্রামের এক প্রাইভেট ভার্সিটির দ্বিতীয় year এর ছাত্র।
মেঘ আর রাত্রির পরিচয় আজ থেকে চার বছর আগে কক্সবাজারে হয়েছিল।
পরিচয়টা ছিল এমন -
রাত্রি তার পরিবারের সাথে কক্সবাজার গিয়েছিল ঘুরতে আর মেঘ গিয়েছিল তার বন্ধুদের সাথে celebration করতে।সকালে রাত্রি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে বিচে গেলো কিন্তু ভীড়ের মাঝে সে তার পরিবারের মানুষদের হারিয়ে ফেলল।অনেক খুজার পরেও যখন রাত্রি কাউকে খুজে পেলোনা তখন ভয়ে সে একটা ঝাও গাছের নিছে দাড়িয়ে কান্না করা শুরু করলো।মেঘ রাত্রির সেই কান্না খেয়াল করলো এবং রাত্রিকে তার পরিবারের মানুষদের খুজে দিল।যদিও মেঘ এর মধ্যে খেয়াল করেছিল যে রাত্রি কথা বলছেনা কিন্তু মেঘ ভেবে নিয়েছিল হয়তো ভয়ে কথা বলছেনা।
এভাবেই রাত্রি এবং রাত্রির পরিবারের সাথে মেঘের পরিচয়।সব চেয়ে মজার ব্যপার হল রাত্রিদের বাসাও Chittagong এবং তাও মেঘ এর বাসা থেকে অনেক কাছে।রাত্রির পরিবারের কাছেই জানতে পারে যে রাত্রি কথা বলতে পারেনা।
মেঘ আর রাত্রি পাশাপাশি থাকলেও কেউ কাউকে ছিনত নাহ যার কারনে মেঘ জানত নাহ যে রাত্রি কথা বলতে পারেনা।
Chittagong আসার পর থেকেই রাত্রি আর মেঘের মাঝেই চিঠি আদান-প্রদান শুরু হল।এভাবেই তাদের অচেনা সম্পর্কটা বন্ধুত্বের সম্পর্কে পরিনত হল...
এভাবে কেটে গেল একটা বছর্।
রাত্রি মেঘের প্রতি এবং মেঘ রাত্রির প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ল।তারা একজন আরেকজন এর অনুপস্থিতি অনুভব করা শুরু করল।খাতার খালি জায়গায়,হাতের তালুতে একজন আরেকজন এর নাম লিখত।তারা বুঝতে পেরেছিল এটাকেই বলে ভালোবাসা।মেঘ অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু রাত্রি বুঝেও না বোঝার অভিনয় করে যেত।
১৩ই ফেব্রুয়ারি মেঘ রাত্রিকে চিঠি পাঠাল যেখানে লেখা ছিল-
রাত্রি অনেকদিন ধরেই কিছু কথা বলতে চাইতেছিলাম কিন্তু বলা হচ্ছেনা আর বলার জন্য perfect দিন আর জায়গা খুজে পাচ্ছিলাম নাহ।
কথাগুলো কালকে বলতে চাই।কাল সকাল ১১টায় ডিসি হিলে আমি তোমার অপেক্ষা করব।লাল শাড়ি পরে এসো আমি সাদা পাঞ্জাবি পরে আসব...
১৪ই ফেব্রুয়ারি লাল শাড়িতে রাত্রি এলো।মেঘ অদ্ভুতভাবে চেয়েছিল রাত্রির দিখে মানুষ এতো সুন্দর কেমনে হয়।তারপর রাত্রি যখন মেঘের কাছাকাছি এলো তখনি মেঘ একগুচ্ছ লাল গোলাপ রাত্রির হাতে দিলো এবং sign language দিয়ে ম্যাজিকাল তিনটা শব্দ বলল।রাত্রিকে মেঘ বোঝালো যে সে sign language শিখেছে রাত্রির সাথে আজীবন থাকার জন্য।রাত্রি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলোনা এবং সে প্রথমবার মেঘকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল।
এভাবেই মেঘ আর রাত্রির ভালোবাসা শুরু।।
বৃষ্টিটে হাত ধরে ভেজা,নেভালের সন্ধ্যার বাতাসে হারিয়ে যাওয়া।
এগুলোর মাঝেই মেঘ আর রাত্রি তাদের আনন্দ খুজে নিত।
রাত্রি আজ নেই তবুও মেঘের ভালোবাসা রাত্রির জন্য এক চিমটিও কমেনি।
২০১২ সালের ১৯ই জুন রাত্রি সবাইকে ছেড়ে চলে যায় আল্লাহর কাছে।
মানুষ এত নিষ্ঠুর কেমনে হয়।
একদিন কিছু লোক সরকারি অফিস থেকে আসছে বলে রাত্রিদের ঘরে ঢোকে।ঘরে রাত্রি ছাড়া কেউ ছিলোনা।রাত্রিকে কে একা পেয়ে তারা রাত্রিকে rape করে এবং তারা যাওয়ার আগে ফ্যানের সাথে রাত্রিকে ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যাই।
রাত্রি নেই তবুও মেঘ রাত্রিকেই ভালোবাসে।কারণ মেঘ জানে রাত্রিও শুধু কেই ভালোবাসে।এখনো মেঘ সেইসব জায়গায় যায় যেখানে রাত্রি আর মেঘ সময় কাটাত।কারণ মেঘ যে রাত্রির গায়ের গন্ধ পায় সেখানে গেলে।মেঘ ভেঙ্গে পরেনি কারণ মেঘ জানে রাত্রি সব সময় তার মেঘের সাথেই থাকবে।রাত্রি সব সময় বলত মেঘ অনেক বড় কিছু হবে তাই মেঘ কে যে বাচতে হবে রাত্রির সপ্ন পূর্ণ করতেই যে মেঘকে বাচতে হবে।
রাত্রি বেচে থাকবে সবার মাঝে শুধুমাত্র মেঘের মাধ্যমে।
রাত্রির জন্য মেঘের শেষ কথা-
আমি দেখিনি,আমি শুনিনি...
আমি বলিনি অনেক কিছু...
আমি জানিনি আমি বুঝিনি...
তবু ছুটেছি তোমার পিছু...
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×