আজ পঞ্চম কিস্তি। আপনাদের ভালোলাগাতে কন্টিনিউ করে যাচ্ছি। আসলে লেখালেখি ছাড়া তেমন কোন কাজ করতে হত না।
হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা খুব ই কম। আমার হস্পিটালের সাথেই ছিল একটা গোল্ড মাইন। ব্যসিকালী মাইন কেন্দ্রিক লোকের চিকিতসা ব্যবস্থার জন্য ৮০০ লোকের ঐ শহরে দুটো মেডিকেল কলেজের মানের (আমাদের দেশের যে কোন মেডিকেল কলেজের চাইতে ১০০ গুন বেশী সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন) বিশাল হস্পিটাল ছিল, তাতে আইসিইউ, ডায়ালাইসিস সেন্টার সব ই ছিল! সে এক এলাহী কারবার!
২৩শে অগাষ্ট ২০১৪ ইং
আমার কেন আরব দেশের উপর এত রাগ? চলুন অল্প কিছু কারন আলোচনা করি।
এদেশে সৌদি মানেই রাজা।
আমি যে হাসপাতালের কর্মচারী সেখানে প্রচুর বৈষম্য। হাসপাতালের ডিরেক্টর আনোয়ার স্যার আর আমি বাংগালী। আনোয়ার স্যার এম আর সি পি করা, লন্ডন থেকে, ওনার বেতন ৩০ হাজার রিয়েল, আর টোটাল হসপিটালের ডিরেক্টর একজন সৌদি, সে কয়েকবারে পরীক্ষা দিয়ে কোনরকম ইউনি পাস দিসে। আনোয়ার স্যারের ছেলের সমান বয়সী হবে, তার বেতন ৭০ হাজার রিয়েল (১৪লাখ টাকা) কারন সে সৌদি
আমাদের হসপিটালে কোন সৌদি ডাক্তার নাই, আমরা সবাই আজনবী। আমরা সবাইকেই চিকিতসা দিই। এখানে ও চূড়ান্ত বৈষম্য।
আবার ধরেন কিছু গরীব, এতিম সৌদি মেয়ে নার্স আছে, এদের বেতন আমাদের মত জুনিওর ডাক্তারদের চাইতে বেশী! বেতন স্কেলে সৌদি আর আজনবীদের আকাশ পাতাল ফারাক!
হসপিটালে ওষুধ আসে, স্পেন, আমিরাত, কানাডা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকা প্রভৃতি ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড থেকে, ডাক্তার হিসেবে আপনি ইচ্ছামত মেডিসিন দিতে পারবেন না।
আমরাও কম না, আজনবীদের আমরা প্রেসক্রাইব করিনা, ডাইরেক্ট স্টোর থেকে দিয়ে দিই। কারণ ধরেন গ্যাষ্ট্রিকের যে ক্যাপসুল গুলোর দশতার পাতা আমাদের এখানে ৫০ টাকা, সেখানে আরব দেশে পরে প্রায় ৯৫০ টাকা! তাও এক পাতায় ৮টা থাকে, দশটা নয়!
সৌদিরা ইচ্ছেমত অফিস আসে যায়, সব তাদের চ্যাটের খুশির অফিস, আর আমরা ৮টা এক মিনিট এ ঢুকলে, মাফি ফায়দা! এবসেন্ট।
কাফালা নামক একটা ব্যাপার আছে। ওই ব্যাপারে আরেকদিন বলব, সৌদির বাঞ্চুরা কি পরিমাণ হাইওয়ান(পশু), খেলপ!!!(কুকুর)!
২৫শে অগাষ্ট ২০১৪ইং
জীবন এখানে পরস্পরের প্রয়জোনের। একজন টায়ার্ড হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে বাংগালীর প্রয়োজনে ভরা পেটে রান্না শুরু করেছে ইন্ডিয়ান! জিগেস করলে বলেছিল,
""আরে ইয়ার, আগার তুম কই খানা বানায়েগা তো ইসমে তুমহারা নেইবার কো ''হক'' বন যাতা হ্যায়! তুম পেট ভারকে শোয়েংগে ওর ও আদমি ভুখা নিদ যাতা তো আল্লাহ নারাজ হোংগে!""
একদলের খাওয়া শেষ, অন্যদল ভাল কিছু রান্না করেছে, আহবান জানাবে
''সাদিক তা'ল তা'ল, ফাদ্দা'ল''(বন্ধু এসো, তোমাকে স্বাগতম)!! ''
দিনের শুরুতে ব্রেকফাস্ট কেউ জুস কিনবা ফুড পাফ দিয়ে সেরে নিলেও, দুপুরে কিংবা রাতে কেউ না খেয়ে ঘুমাল কিনা সেদিকে সজাগ দৃস্টি সবার!
এই আমি রাত ১২টায় আরেক জনের জন্য আধমাইল দূর থেকে ভরা পেটে ৩০ কেজি ওজনের সিলিন্ডার কাধে করে এনেছি নির্দ্বিধায়। এক দেশের কেউ অসুস্থ হলে অন্য দেশের লোক ব্যাগ ভর্তি করে এনেছে খাবার! পয়সার অভাবে একজনের খাবার ভাগ করে খেয়েছে তিনজন!
এ এক বিশ্বজনীন পরিবার। এ এক ভালোবাসার বন্ধন!!হয়ত জীবন প্রবাহে অল্পকিছু সময়, কিন্তু বন্ধন? সুদৃঢ়!!
২৫শে অগাষ্ট ২০১৪ ইং
ইদানীং অভ্যাস খুব খ্রাপ হয়ে গেসে! রাস্তায় হাত উঁচু করে গাড়ি থামায়ে বাসায় আসি, লিফট নেয়ার ব্যাপারে বেশ রুচিবান হয়ে যাচ্ছি। ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি হতে হবে এবং অবশ্যই মুকায়েফ (এসি) অন থাকতে হবে!
গাড়ি করে তিন ভাগের দুভাগ রাস্তা আসার পর দেখি স্টেনগান হাতে আশকারী (গোয়েন্দা পুলিশ) দাড়ায়ে আছে। চেকপোস্ট! নামলাম, বলে
-জিব আকামা! (আকামা দাও)
-আকামা মাফি মজুদ, ফি যাওয়াযত! (আকামা নাই, পাস্পোর্ট আছে)
খুলল, মিনিট দুই দেখে আমাকে জিগেস করল
-তারিখ ফী? (ডেইট আছে?
-ফী!(আছে)
-মাশাল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ!! রো রো!! ( যাও, যাও!!)
এই হল জ্ঞান বুদ্ধি! আরবীতে লেখা ডেট একজন গোয়েন্দা পড়তে পারেন না! সেইম ঘটনা হসপিটালে ও দেখছি! হোয়াট ইজ ইয়োর নেম তো বলছিই!
আরেক দিন সৌদির গাড়িতে করে বাসার সামনে নেমে বললাম
-থ্যানকিউ!
উত্তর দিছে
-ভেরী মাচ! ভেরী মাচ!!
সামুর বোধয় আজ ডায়রিয়া হয়েছে, আমার ব্লগে ক্রমানুসারে বাকি পোষ্ট গুলো আছে। সেজন্য বাকি পর্ব গুলোর লিঙ্ক দিতে পারছি না! আমার নামের উপর ক্লিক করলেই ব্লগ চলে আসবে, সেখানে সিরিয়ালি চতূর্থ থেকে প্রথম কিস্তি লেখা আছে!
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! চতূর্থ পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! তৃতীয় পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! দ্বিতীয় পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! প্রথম পর্ব!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

