আজকের গল্প চকোলেট নিয়ে। আমার অনুজ সামিয়া তখনো জন্মেনি। আমরা তখন দু’ভাই বোন। এই আমি আর সুইট্যাপু। বাবা তখন সোহরাওয়ার্দী হসপিটালে, আর আমরা থাকতাম ঠিক গণভবনের উল্টোপাশের কোয়ার্টারে। মা সহকারী শিক্ষিকা সরকারী স্কুলে, মধ্যবিত্তের নীচের দিকে অবস্থান।
দু'টাকা দিতেন মাঝে মাঝে আম্মি, তাই দিয়ে চকোলেট কিংবা ছোলা খাওয়া যেত। অথবা ধরেন হাওয়াই মিঠাই, এখন যা ক্যান্ডি ফ্লস! এক টাকায় দিত ছয়টা অথবা চারটে করে গোল গোল বলের মত! তার কি স্বাদ! অথবা মাঝে মাঝে হাতে লাঠি নিয়ে একজন লোক আসতেন, তিনি চিনি/স্যাকারিন আর ময়দা দিয়ে ইলাস্টিক জাতীয় চকোলেট বানাতেন, তা দিয়ে আবার ঘড়ি, সাপ ইত্যাদি হত! তার মত মজার চকোলেট ক’জনেই বা বানিয়েছে! এক টাকার পাইপ আইস্ক্রীমের নাম ছিল ড্রিঙ্কা! খেলাধুলোয় ক্লান্ত বিকেলে উৎফুল্ল মন আনতে ড্রিঙ্কার জুড়ি মেলা ভার ছিল তখন।
একদিন সুইট্যাপু দেখি খুব সুন্দর একটা বোতল নিয়ে এসছে, বোতলের গায়ে লেখা ফক্স চকোলেটস! ভিতরে লাল-কমলা-বেগুনী বাহারি রকমের চকোলেট! আপু বড় করে গলার স্বর উচুঁ করে বলল, জানিস, এটা বিদেশী চকোলেট, সত্তুর টাকা দাম! পলিথিনে মোড়ানো প্রতিটি চকোলেটের গায়ে যেন বিদেশের গন্ধ! আহা! জীবনের প্রথম বিদেশী চকোলেট! আমরা খুব হিসাব করে খাই, ও একটা, আমি একটা! সত্তুর টাকা দাম! চকোলেট এর ব্যাপারে অতিরিক্ত লোভী ছিলাম আমি, এখনো আছি। ধুমায়ে চুরি করে খাওয়া শুরু করলাম সুইট্যাপুর ফক্স চকোলেট! আহা! সে কি স্বাদ, সে কি মজা! বিশেষ করে বেগুনীটা! এরপর আমরা দুজন মিলে টাকা জমাতাম, কবে সত্তুর টাকা হবে, কবে আরেক বোতল ফক্স চকোলেট আসবে!
আমি উগ্রবাদী চকোলেট খোর বলতে পারেন। স্নিকার, মার্স, টেবলরোন, গ্যালাক্সি চেনা শুরু করলাম, শুরু হল আমার চকোলেট অভিযান। সাফারী কিংবা ক্যাডবেরীর প্রতি আকর্ষণ বোধ করিনি কখনো! আমার ফ্রিজ ভর্তি এখনো কিন্ডারের বুয়েনো আর কিটক্যাট। আজিজ মিমির কথা মনে আছে আপনাদের? কিংবা কমলার কোয়ার ছবি দেয়া শুধু মিমি লেখা চকোলেট? অদ্ভুত সেই সব দিন গুলো!
সময় গড়িয়ে যায়। সেদিন ফক্স চকোলেট এর বোতল দেখি সুইট্যাপুর বড় মেয়ে সারাহ এর হাতে। এক ঝাঁক স্মৃতি চলে আসল মনে, সেই ফক্স চকোলেট, সেই টেস্ট, চকোলেট এর হিসেব নিয়ে সুইট্যাপুর সাথে ঝগড়া! আমি চাইতেই সে আমাকে একটা দিয়ে বলল, মামা চকোলেট বেশী খায় না, দাতে পোকা হয়! বলে বোতল নিয়ে দৌড়!

এখন আমার ফেভারিট চকোলেট বুয়েনো হলেও আমি ফক্স চকোলেট এর সেই শৈশব স্বাদ ভুলতে পারিনি, দোকানে দাম করেছিলাম, দুইশ ত্রিশ টাকা বোতল! কেউ না খেয়ে থাকলে খেয়ে দেখবেন, কি অদ্ভুত মজা ফক্সে!
নানা রঙের স্মৃতির পালক, যখন আমি ছোট্ট বালক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



