somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[is=#FF0000] wc

১৭ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কোন স্বপ্নই তোমাকে ঘিরে সহজে সত্যি হতে চায়না। দিনের পর দিন গোপনে গভীরে কী আশ্চর্য্য এক আকুলতায় নিরন্তর অপেক্ষায় থাকে আমাদের চোখ। তোমার সাফল্য-সম্মান চেয়ে কতোবার বাঙালী হৃদয় অদ্ভুত কোমলতায় ভেতরে ভেতরে কষ্টে কেঁদেছে। কিন্তু তারপরেও তুমি থেকে গেছো- অলক্ষ্যেই, তোমার নাম শুধু আলোচিত হয়েছে আমাদের নিদারুন সব ব্যর্থতায়, নিন্দিত কলঙ্কময় কর্মকান্ডের লজ্জিত অবগাহনে ...।

তুমি আলোচনায় উঠে এসেছো দুনর্ীতিতে বার বার শীর্ষে উঠে, তুমি বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই পেয়েছো নিদারুণ হত দরিদ্র এক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তার দেশ হিসেবে। আমাদের কোন স্বপ্নই তাই -তোমাকে ঘিরে খুব বেশী সার্থকতার পাখা মেলতে পারেনি। কোন অপ্রত্যাশিত সুন্দর প্রাপ্তির আনন্দে তাই ভীষণ খুশিতে আমরা কাঁদতে পারিনি বহুকাল....।

কিন্তু, তারপরেও... যখন হঠাৎ হঠাৎ এমন এক একটা পৃথিবী কাঁপানো সাফল্যের দিন আসে... যখন হঠাৎ হঠাৎ এভাবে তুমি উজ্জল আলোর ঝলকানি হয়ে ঝলসে ওঠো, যখন সহস্র চীৎকারে... আনন্দে... উল্লাসে বুঝিয়ে দাও- 'আমরাও পারি'....'আমরাও গর্জে উঠতে পারি.. অনাবিল উৎফুল্লতার অযুত সাফল্যে'... তখন অজান্তেই আনন্দ-আবেগে চোখ ভিজে ওঠে আমাদের...। আমাদের আনন্দঅশ্রূ তোমার বিজয় ছড়ানো পথে মুক্তোর কণার মতো না বলা সহস্র কথার ফুল হয়ে ফুটে ওঠে।

তুমিতো এভাবেই বিস্মিত বিশ্বকে বারবার জানিয়ে দিয়েছো- দেখো, শুধু 'আমি' মানেই ভয়ার্ত ুক্ষুধা, দারিদ্রতা আর দূনর্ীতির জরাগ্রস্ততা নয়, .... দেখো, শুধু আমি মানেই- সাইকোন, বন্যা, ভুমিধস আর দুর্বিষহ দূর্ভিক্ষ নয় । আমার রক্তে, অনুভবে মিশে আছে বার বার গর্জে ওঠার ইতিহাস- আমার আনন্দে, অনুভবে মিশে আছে- শত বিহ্বলতায়ও ভেঙ্গে না পড়ে সুতীব্র সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জগত কাঁপানো সব ঐতিহাসিক কাহিনী। ....বায়ান্নয় নিজের ভাষার অধিকার প্রাপ্তিতে বুকের রক্ত ঢেলে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের আছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো অনুপম এক ঐতিহাসিক অহঙ্কার। আমরাতো শুধুই ব্যর্থতা আর বিশৃঙ্খলতার দায় এতো দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে পারিনা।... অন্তত একবার তো বদলে যেতে হবেই আমাদের....! অন্তত একবারতো তোমাকে ঘিরে দেখা স্বপ্নটা ... সত্যি হওয়া উচিত....!

হয়তো একারণেই এমন এক একটি সাফল্যের মহেন্দ্রক্ষণ আসে আমাদের জীবনে...। আকাশ, অন্তরীক্ষ্য, অন্তর্জাল আনন্দে উদ্বেলিত করে তুমি তাই মাঝে মাঝেই এভাবে সাফল্যের শীর্ষ চূড়া ছুঁয়ে আমাদের খুব ঋণী করে তোল। যেন বলতে চাও... বায়ান্নতে-তো এরকম দৃঢ়তাতেই ঘুরে দাড়াতে পেরেছি আমরা, একাত্তরে , সংগ্রামী সব প্রহরে ...আমরাতো বারবার নতুন শপথে যূথবদ্ধ হয়েছি এভাবেই.... !

যে সাফল্য মুহূর্তে আকাশ ও মাটির পৃথিবী কাঁপিয়ে দেয়- অমূল্য অসামান্য অনুভবে, আমিতো তাকেই বলেছি- জীবনের সবচেয়ে প্রিয় 'শুভ্র এক কবিতা' আমাদের..., যে সাফল্য আমাদের সকল দীনতার ভার কিছুটা লাঘব করে আমাদের নৈপুণ্যকে তুলে ধরে 'খেলা' নামক মহিমাময় শিল্পের অঙ্গনে, আমিতো তাকেই দুচোখে ধারণ করেছি - জীবনের সবচেয়ে অমূল্য 'আনন্দ অশ্রূ ' হিসেবে !

প্রিয় দেশ, আসলে মিথ্যে বলেছিলাম, কোন স্বপ্নই তোমাকে ঘিরে সহজে সত্যি হতে চায়না ...। আসলে দেখি... এতোসব সীমাবদ্ধতার পরেও অনেক স্বপ্নই তুমি সত্য করেছো ! আমাদের অনেক প্রত্যাশাকেই তুমি পূরণ করেছো উজ্জল মায়াবী প্রশংসনীয় আকুলতায়। বিশ্বকাপ ঘিরে সাফল্য পাওয়া আমাদের দীর্ঘ দীপ্র স্বপ্নটিকে আমি তাই কান্নার আধার হিসেবে বুকের নিবিড়ে বেঁধে রাখতে চেয়েছি। প্রিয় দেশ, আজ না হয় অনেকক্ষণ কাঁদলামই তোমাকে নিয়ে..। এমন বৈরী ব্যস্ততায় কতোকাল তোমাকে নিয়ে একফোঁটাও কাদতে পারিনি। কতোকাল আমি জড়াতে পারিনি- তোমার ভাল-মন্দের এককণা ভাবনারও সাথে!...

আজ না হয় একটি দিন শুধূ ব্যতিক্রমই হলো। ক্ষতি কী ? তোমার এমন একটি অন্যরকম মুহূর্তের জন্যই তো অপেক্ষা করেছি এতোকাল! তোমার এমন একটি মুহূর্তের জন্যই তো কতোবার লিখে রেখেছি-বিজয় আনন্দের সুরভি মেশানো অজস্র কবিতার কল্ল্লোলিত কথামালা !

প্রিয় দেশ.... কী যে সুখ, তোমার সাফল্যে-সম্মানে, হ্রদয়ে আনন্দ অনুভব নিয়ে- সুখী মনে কাঁদতে এভাবে....!


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×