সব সকাল সবার জন্য শুভ হয়না। সব দিন সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনে না।
কিন্তু আজকের দিনটা বোধহয় অন্য রকম ।
একেবারেই অন্য রকম ! ব্যতিক্রম একটা দিন।
আজ যেন সবার জন্যই আনন্দ।
আজ যেন অজস্র 'শুভ' সব উপাদান, প্রকৃতি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে , শুধু আমাদের জন্যই।
এই দুর্দশা, দুঃখ নিপীড়িত দেশটির স্বপ্ন দেখা প্রত্যাশী মানুষগুলোর জন্যই !
কী আশ্চর্য্য সকাল এক। প্রকৃতি যেন খুব যত্ন করে সাজিয়েছে এ সকাল।
আমি খুব অবাক চোখে আজকের রোদের উজ্জলতা প্রত্যক্ষ করলাম। ঢাকার আকাশে এমন ঝলমলে রোদ অনেকদিন দেখিনি। এমন রোদের সঙ্গে এমন উপচে পড়া আনন্দ, কবে আর প্রত্যক্ষ করেছে, ব্যস্ত নগরবাসী?
কবে এমন খুশির বন্যা নগরীর জঞ্জাল, যানজট উপেক্ষা করে পৌছে গেছে অপরূপ আনন্দের অনন্য গ্রহলোকে?
কবে এমন খুশিতে ভিজেছে চোখ, জনে জনে, দীপ্ত অাঁখিতে?
দিন আজ বিজয়ের। দিন আজ মুক্তির । দিন আজ স্বাধীনতার। এমন অনিন্দ্য এক অপরূপ স্মৃতিচারী দিনের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো এক গৌরবান্বিত প্রাপ্তির স্মৃতি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার এইটে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
26 শে মার্চের এই অনন্য দিবসের সাথে আরো এক অসাধারণ অর্জনের আনন্দ!
তবে আর আমরা অকারণ থমকে যাবো কেন?
আমরাতো এখনো চমকে দিতে পারি এই ভুমিতল, এই বিমুগ্ধ বিশ্বকে!
তাহলে থামবো কেন?
কেন অযথাই লুকাবো অগি্নগিরি, আমাদের দূর্বার কর্মযজ্ঞের দিপ্তীময় বিভা?
বলছিলাম আজ সকালের কথা। কতো 'শুভ' আর কতো 'আনন্দ'ই না পরতে পরতে মিশেছিলো আজকের এই 'অন্য' সকালে। খুব গান শুনতে ইচ্ছে করছিলো।
খুঁেজ খুঁজে বের করলাম সেই সিডি, যেখানে ধারণ করা আছে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব আগুনঝরা দিনগুলোর অনন্য সাধারণ সব গান।
এই গানগুলোকে আমি ঠিক গান বলিনা। আমি এদের নাম দিয়েছি 'অগি্ন পুলক'। যখন শুনি, আমি এক আগুনঝরা স্মৃতির পুলকে বার বার শিহরিত হই।
পৃথিবীর যে কোন শিহরণ, স্মৃতির পুলক তার কাছে নিতান্ত এক শিশু।
গান শুনতে শুনতে চোখ গেল সংবাদ পত্রের দিকে । ক্রিকেটের অসাধারণ প্রাপ্তির খবরের সঙ্গে আরো একটি খবর চোখে পড়েছে সবার। স্বাধীনতা পদক-2007 প্রদানের অনুষ্ঠানে ধ্বনিত হয়েছে এক আশাবাদ। ভীষণ প্রত্যাশিত এক আশাবাদ।
বলা হয়েছে- এবারের সংগ্রাম হবে সমাজের সর্বস্তরে নীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।...
নীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে দীর্ঘদিনের জরাগ্রস্ত দুনর্ীতিপূর্ণ এই দেশ। আমাদের প্রাণে নানা আশা জাগে একারণেই। সারা দেশ হঠাৎ যেন যাদুর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে....। পরিবর্তন আর সংস্কারের ঢেউ ধীরে ধীরে পাল্টে ফেলছে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ সব অতীত। আর হয়তো দুণর্ীতিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার নির্লজ্জ কৃতিত্ব আমাদের মুখ অধোগামী করবে না।
কেউ কেউ অন্য কথাও বলেন। তারা এই পরিবর্তনের ভেতর অন্য ছায়া খোঁজেন । তারা নিরুৎসাহিত করতে চান- আমাদের স্বপ্ন দেখতে....। কিন্তু এই দেশ, এই জাতি- স্বপ্ন দেখার জাতি। স্বপ্ন দেখে দেখে ঠকতে ঠকতেই তো আমরা এতোদূর এলাম। স্বাধীনতার পর থেকে যে যখন কর্তৃত্বে ছিলেন, তারাই স্বপ্ন দেখিয়েছেন জনগনকে। সেই স্বপ্ন আর আশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করে স্বপ্নে বিভোর হয়েছেন অনেকেই। তাই এতোবার যাদের স্বপ্ন দেখার অভ্যাস, তারা আরেকবার স্বপ্ন দেখলে ক্ষতি কি? আরেকবার ঠকলেই বা -কি আর এমন- আসবে যাবে?
আমাদের স্বপ্ন আসলে কখনোই থেমে থাকেনা। কতোবার কতো ভাবে কতো পবিত্র মনে সুন্দর সাফল্যময় একটি দেশ এর স্বপ্ন আমরা দেখেছি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজো পরিপূর্ণতার ছোঁয়া পায়নি। ...একটি সুনদর ফুলকে বাঁচাবার জন্য একাত্তরে যে যুদ্ধ আমরা শুরু করেছিলাম- তা শুধু বারবার প্রলম্বিত হয়ে থেমে গেছে। থমকে গেছে।...
সুপার এইটে উঠতে পারার মতো বাংলাদেশের অপূর্ব অশেষ প্রাপ্তি- মনে তাই আশা জাগালো আবার ! সত্যিই বোধহয় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র। সব যেন বদলে যাচ্ছে রাতারাতি। সত্যিই বোধহয় পাল্টে যাচ্ছে দেশ, সেইসঙ্গে পুরো জাতি....। আমাদের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ, জরাগ্রস্ত নৈতিকতা ও পুরাতন সকল অভ্যস্ততা... পারবো তো বদলাতে সব সঠিকভাবে ? পারবো কি সকল অবকাঠামো থেকে সরাতে অনিয়ম, অনিশ্চয়তার ছায়া-- শেষতক সার্থকভাবে?
স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি? আরেকবার নাহয় আশায় বুক বাঁধি। ক্ষতি কি?
বদলে যাক দেশ। বদলে যাক জরাজীর্ণ মানুষের বোধ।
খুব প্রখর উজ্জল রোদ আজ শহরে। এমন উজ্জলতার ভেতর এক অনাবিল প্রাচুর্য্যের আনন্দ আছে।
আনন্দ আছে শীতল ধারার অফুরান বৃষ্টির ভেতরেও....।
তকে কি খুব আনন্দ জাগানো বৃষ্টিও নামবে আজ শহরে?......
নামুক না....। একবার অঝর ধারায় শহর ভেসে যাক প্রশান্ত অবগাহনে।
স্বচ্ছ ধারার এক পূর্ণ প্রশান্তির বৃষ্টি নামুক সারা শহরে।...
আমরা পেতে রাখবো মুখ- অনন্ত আশায়- আকাশের দিকে।
কতোদিন...! আহা, কতোদিন এমন বৃষ্টি নামেনি পথে পথে.....!
.........................................................
রচনা: 26 শ মার্চ, 2007
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



