somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য এক আনন্দ সকাল / সুনীল সমুদ্র

২৭ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( এ লেখাটি লেখা হয়েছিল 26 শে মার্চ ভোরে, যখন স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার এইটে উঠতে পারার আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছিলো সারা দেশ... । অনিবার্য ব্যস্ততার কারণে লেখাটি সেদিন এর পরিবর্তে আজ পোষ্ট করলাম....।)

সব সকাল সবার জন্য শুভ হয়না। সব দিন সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনে না।
কিন্তু আজকের দিনটা বোধহয় অন্য রকম ।
একেবারেই অন্য রকম ! ব্যতিক্রম একটা দিন।
আজ যেন সবার জন্যই আনন্দ।
আজ যেন অজস্র 'শুভ' সব উপাদান, প্রকৃতি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে , শুধু আমাদের জন্যই।
এই দুর্দশা, দুঃখ নিপীড়িত দেশটির স্বপ্ন দেখা প্রত্যাশী মানুষগুলোর জন্যই !

কী আশ্চর্য্য সকাল এক। প্রকৃতি যেন খুব যত্ন করে সাজিয়েছে এ সকাল।
আমি খুব অবাক চোখে আজকের রোদের উজ্জলতা প্রত্যক্ষ করলাম। ঢাকার আকাশে এমন ঝলমলে রোদ অনেকদিন দেখিনি। এমন রোদের সঙ্গে এমন উপচে পড়া আনন্দ, কবে আর প্রত্যক্ষ করেছে, ব্যস্ত নগরবাসী?
কবে এমন খুশির বন্যা নগরীর জঞ্জাল, যানজট উপেক্ষা করে পৌছে গেছে অপরূপ আনন্দের অনন্য গ্রহলোকে?

কবে এমন খুশিতে ভিজেছে চোখ, জনে জনে, দীপ্ত অাঁখিতে?

দিন আজ বিজয়ের। দিন আজ মুক্তির । দিন আজ স্বাধীনতার। এমন অনিন্দ্য এক অপরূপ স্মৃতিচারী দিনের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো এক গৌরবান্বিত প্রাপ্তির স্মৃতি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার এইটে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
26 শে মার্চের এই অনন্য দিবসের সাথে আরো এক অসাধারণ অর্জনের আনন্দ!
তবে আর আমরা অকারণ থমকে যাবো কেন?
আমরাতো এখনো চমকে দিতে পারি এই ভুমিতল, এই বিমুগ্ধ বিশ্বকে!
তাহলে থামবো কেন?
কেন অযথাই লুকাবো অগি্নগিরি, আমাদের দূর্বার কর্মযজ্ঞের দিপ্তীময় বিভা?

বলছিলাম আজ সকালের কথা। কতো 'শুভ' আর কতো 'আনন্দ'ই না পরতে পরতে মিশেছিলো আজকের এই 'অন্য' সকালে। খুব গান শুনতে ইচ্ছে করছিলো।
খুঁেজ খুঁজে বের করলাম সেই সিডি, যেখানে ধারণ করা আছে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব আগুনঝরা দিনগুলোর অনন্য সাধারণ সব গান।

এই গানগুলোকে আমি ঠিক গান বলিনা। আমি এদের নাম দিয়েছি 'অগি্ন পুলক'। যখন শুনি, আমি এক আগুনঝরা স্মৃতির পুলকে বার বার শিহরিত হই।
পৃথিবীর যে কোন শিহরণ, স্মৃতির পুলক তার কাছে নিতান্ত এক শিশু।

গান শুনতে শুনতে চোখ গেল সংবাদ পত্রের দিকে । ক্রিকেটের অসাধারণ প্রাপ্তির খবরের সঙ্গে আরো একটি খবর চোখে পড়েছে সবার। স্বাধীনতা পদক-2007 প্রদানের অনুষ্ঠানে ধ্বনিত হয়েছে এক আশাবাদ। ভীষণ প্রত্যাশিত এক আশাবাদ।
বলা হয়েছে- এবারের সংগ্রাম হবে সমাজের সর্বস্তরে নীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।...

নীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে দীর্ঘদিনের জরাগ্রস্ত দুনর্ীতিপূর্ণ এই দেশ। আমাদের প্রাণে নানা আশা জাগে একারণেই। সারা দেশ হঠাৎ যেন যাদুর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে....। পরিবর্তন আর সংস্কারের ঢেউ ধীরে ধীরে পাল্টে ফেলছে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ সব অতীত। আর হয়তো দুণর্ীতিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার নির্লজ্জ কৃতিত্ব আমাদের মুখ অধোগামী করবে না।

কেউ কেউ অন্য কথাও বলেন। তারা এই পরিবর্তনের ভেতর অন্য ছায়া খোঁজেন । তারা নিরুৎসাহিত করতে চান- আমাদের স্বপ্ন দেখতে....। কিন্তু এই দেশ, এই জাতি- স্বপ্ন দেখার জাতি। স্বপ্ন দেখে দেখে ঠকতে ঠকতেই তো আমরা এতোদূর এলাম। স্বাধীনতার পর থেকে যে যখন কর্তৃত্বে ছিলেন, তারাই স্বপ্ন দেখিয়েছেন জনগনকে। সেই স্বপ্ন আর আশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করে স্বপ্নে বিভোর হয়েছেন অনেকেই। তাই এতোবার যাদের স্বপ্ন দেখার অভ্যাস, তারা আরেকবার স্বপ্ন দেখলে ক্ষতি কি? আরেকবার ঠকলেই বা -কি আর এমন- আসবে যাবে?

আমাদের স্বপ্ন আসলে কখনোই থেমে থাকেনা। কতোবার কতো ভাবে কতো পবিত্র মনে সুন্দর সাফল্যময় একটি দেশ এর স্বপ্ন আমরা দেখেছি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজো পরিপূর্ণতার ছোঁয়া পায়নি। ...একটি সুনদর ফুলকে বাঁচাবার জন্য একাত্তরে যে যুদ্ধ আমরা শুরু করেছিলাম- তা শুধু বারবার প্রলম্বিত হয়ে থেমে গেছে। থমকে গেছে।...

সুপার এইটে উঠতে পারার মতো বাংলাদেশের অপূর্ব অশেষ প্রাপ্তি- মনে তাই আশা জাগালো আবার ! সত্যিই বোধহয় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র। সব যেন বদলে যাচ্ছে রাতারাতি। সত্যিই বোধহয় পাল্টে যাচ্ছে দেশ, সেইসঙ্গে পুরো জাতি....। আমাদের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ, জরাগ্রস্ত নৈতিকতা ও পুরাতন সকল অভ্যস্ততা... পারবো তো বদলাতে সব সঠিকভাবে ? পারবো কি সকল অবকাঠামো থেকে সরাতে অনিয়ম, অনিশ্চয়তার ছায়া-- শেষতক সার্থকভাবে?

স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি? আরেকবার নাহয় আশায় বুক বাঁধি। ক্ষতি কি?
বদলে যাক দেশ। বদলে যাক জরাজীর্ণ মানুষের বোধ।

খুব প্রখর উজ্জল রোদ আজ শহরে। এমন উজ্জলতার ভেতর এক অনাবিল প্রাচুর্য্যের আনন্দ আছে।
আনন্দ আছে শীতল ধারার অফুরান বৃষ্টির ভেতরেও....।
তকে কি খুব আনন্দ জাগানো বৃষ্টিও নামবে আজ শহরে?......
নামুক না....। একবার অঝর ধারায় শহর ভেসে যাক প্রশান্ত অবগাহনে।
স্বচ্ছ ধারার এক পূর্ণ প্রশান্তির বৃষ্টি নামুক সারা শহরে।...

আমরা পেতে রাখবো মুখ- অনন্ত আশায়- আকাশের দিকে।
কতোদিন...! আহা, কতোদিন এমন বৃষ্টি নামেনি পথে পথে.....!


.........................................................
রচনা: 26 শ মার্চ, 2007
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:১৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×