
গত বছরের ২৮ আগস্ট নগর ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবে যোগদেন মাহমুদা বেগম এবং তার আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নগর ট্রাফিকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তাহমিনা তাকিয়া। তারা দুজনেই ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন।
৫ মার্চ দুপুরে অবরোধ-হরতালের মধ্যে নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, যানচলাচল স্বাভবিক রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসি মাহমুদা বেগম। এক হাতে ওয়াকিটকি আর অপর হাতে সিগনাল দিয়ে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন যানচলাচল। আবার কখনো-সখনো অধস্তন সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলদের নির্দেশ দিচ্ছেন ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণে।
তিনি জানালেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পুরো বিষয়টাই ব্যবস্পথানার বিষয়, নিয়ম ও আইন মানার বিষয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন নাগরিক সচেতনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশিংয়ে নারী-পুরুষ আলাদা বলে কিছু নেই। আমরা সবাই পুলিশ।
তিনি বলেন, সুুষ্ঠ ব্যবস্পথাপনা ও পর্যবেক্ষণ করাই আমার কাছ। বাকি কাজগুলো সার্জেন্ট ও কনেষ্টেবলরা করেন।
৬ মার্চ দুপুরে সকালে নগরীর খুলশী এলাকায় দায়িত্ব পালন করার সময় কথা হয় এসি তাহমিনা তাকিয়ার সাথে। নারী হয়ে ট্রাফিকে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, সিএমপিতে কর্মরত প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পুলিশের মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ২০০ জন। আমার চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে ভালো লাগে আর সেকারণেই পুলিশে আসা। আমি যখন ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে রাস্তায় নামি তখন অনেক পথচারীই বাহবা দেন-প্রশংসা করেন।
আইন সম্পর্কে আমাদের আরও পজেটিভ হতে হবে। আইন মেনে চললে রাস্তায় কোনো যানজট থাকবেনা বলে মনে করেন তিনি।
চলতি বছর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশে নারী সার্জেন্ট নিয়োগ দেয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এবছর নারী সার্জেন্ট পদের জন্য সার্কুলার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যে কোনো পরিস্থিতিতেই ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে রাস্তায় থাকতে হয় এই দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে থাকতে হয় তাদের।
এসি মাহমুদা বলেন,একজন পুরুষ ট্রাফিক কন্ট্রোলার যদি কড়া রোদের মাঝে দাঁড়িয়ে এ কাজ করতে পারেন তবে আমরা কেন পারবো না। নগরীতে বিকল্প পথ না থাকা ও রাস্তায় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক কন্ট্রোলে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আর প্রযুক্তিগত অভাব রয়েছে। ডিজিটাল যুগে আমরা ট্রাফিক কন্ট্রোল করি এনালগ পদ্ধতিতে অর্থাৎ হাত দিয়ে।
নগর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো নগরীকে দুইটি বিভাগে ভাগ করে চারটি জোনে বিভক্ত করেছে নগর ট্রাফিক বিভাগ। এই চারটি জোনের দুটির দায়িত্বে আছেন দুজন নারী ও অপর দুটি জোনের দায়িত্বে রয়েছেন দুজন পুরুষ।
ট্রাফিক পুলিশরা রাস্তায় শুধু ট্রাফিক কন্ট্রোলই করেন না যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরসন করার কিছু উপায়ও তারা বের করেন। যানজট নিরসনে নগরীতে আউটার রিং রোড করার প্রস্তাবনা নগর ট্রাফিক বিভাগের।
নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে হলে সিডিএ ,সিটি কর্পোরেশন ও টাফিক পুলিশের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়ে এসি তাহমিনা বলেন, সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে যানজট নিরসন সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে এসি মাহমুদা বলেন,নারী-পুরুষ কাধে কাধ মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীতে কাজ করছে। এখানে নারী- পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। একজন পুরুষ পুলিশ হয়ে যে কাজ করছেন একজন নারী পুলিশকেও ঠিক একই কাজ করতে হচ্ছে।
এই দুই নারী কর্মকর্তা সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অর্থ,প্রশাসন ও ট্রাফিক) এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, মাহমুদা বেগম ও তাহমিনা তাকিয়া এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন। তারা নারী হয়েও পুরুষ কর্মকর্তার মতো এ দায়িত্ব অনেক ভালোভাবে পালন করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নারী পুলিশ নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগমের বাবা এ এফ এম জাহেদুল ইসলাম অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকতা। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাসে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ২০১৩ সালে আমেরিকা থেকে সোয়াত ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে মাহমুদা বেগম সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগরের সহধর্মীনী ও এক সন্তানের জননী ।
ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টর্স করা বাংলাদেশ নারী পুলিশ নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্য সচিব ও সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার তাহমিনা তাকিয়ার বাবার নাম মোহাম্মদ ইউনুস। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পলিসির উপর প্রশিক্ষণ নিতে আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এই নারী কর্মকর্তা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





