আমাদের দেশে টিভি টকশো গুলো যেনো আমন্ত্রিত অতিথিকে অপমান করার জন্যই আয়োজিত হয়। মিডিয়াগুলোর প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে বিজ্ঞাপন প্রচার করা। তাদের ৪০ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপন থাকে ২০মিনিটের।
অনুষ্ঠান শুরু করে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে টকশো র বিষয় উল্লেখ করে বলা হয় এখন . . . . . . বিরতি নেয়া হচ্ছে। ঠিক ৪মিনিট পর ফিরে আসছি আমরা। এভাবে চলতে থাকে অনুষ্ঠান।
অতিথি যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অবতারণা করেন, তখনই আসে . . . . . বিরতি।
অতিথিকে তার বক্তব্য শেষ করতে না দিয়ে উপস্থাপক তার নিজের মতামত তুলে ধরতে থাকেন। একজন তার কথা শেষ করতে না করতে বলা হয়, এখন আমরা জনাব . . . . এর কথা শুনবো। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি ? এবার তাকেও তার কথা সম্পূর্ণ শেষ করতে দেয়া হয় না। তার আগেই আসে ছোট্টো একটা বিরতি।
এসব টিভি টকশো তে যাদের আমন্ত্রণ করে আনা হয় তারা হন অনেক উচ্চপদস্থ কেউ। কেউ সাবেক রাষ্ট্রদূত, কেউ ব্যারিষ্টার, কেউ সমাজসেবক, কেউ খেলোয়ার ও এমন আরো অনেকে।
এইসব নামি দামী এবং সম্মানী ব্যাক্তিকে উপলক্ষ করে যে টকশো আয়োজন করা হয়, সেখানে তাদেরকেই অপমান করা হয় তাদের গুরুত্ব না দিয়ে।
সেদিন দেখলাম, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিফোন কোম্পানীর সৌজন্যে যুদ্ধপরাধী নিয়ে একটি টকশো র আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠানের শেষপ্রান্তে একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত বললেন, আমি এক লাইনে একটা শেষ কথা বলতে চাই। তিনি কথা বলতে বলতে উপস্থাপক বললেন, এক লাইন হয়ে গেছে। এরপর ওনাকে অগ্রাহ্য করে উপস্থাপক তার মনমতো উপসংহার টেনে শেষ করে দিলেন।
বিজ্ঞাপন দেয়ার সময় অনুষ্ঠানের অফুরন্ত সময় ছিলো। কিন্তু অতিথির বক্তব্য উপস্থাপনে যথেষ্ট সময় একেবারেই ছিলো না।
এই টকশো গুলো দেখে মনে হয় টকশো র বিষয়: ‘কেমন করিয়া অতিথিকে নাস্তানাবুদ এবং বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




