somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সূর্যালোক ।
"Beauty is truth. Truth is beauty’n’আমার এই দেহখানি তুলে ধর ।nতোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো।nনিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে।

মহিনের দিনগুলি

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘বাজান কই গেছিলা।’
:হাতজোড়া সামনে বাড়িয়ে কোলে উঠতে উঠতে মহিন বললো
‘আজ আমি তকমা(ছক্কা) মারছি ।’
:‘আমার বাজান বড় অইলে মেলা বড়ো বড়ো আরও তকম(ছক্কা) মারবো।’ মহিনের গায়ে স্নেহপরায়ন হাত বোলিয়ে শফিকের জবাব ।
মহিন কাচুমাচু শুরু করলো; কোল থেকে নামিয়ে দিলো শফিক । যেই না নামিয়ে দিলো, তখন বস্তাটা হাতে নিয়ে,এক হাতে হাফপ্যান্টটা উপরে তুলতে তুলতে দৌড়ে চলে গেল মাঠের দিকে ।
মহিনএকজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বয়সের তুলনায় এখনো ঠিকঠাকভাবে কথা বলতে শেখে নি। কথায় আড়ষ্টতা স্পষ্ট ।

হেমন্তের শেষাংশের বিকেল । মিষ্টি রোদে শস্যহীন সবুজ মাঠ হাসছে।সবুজ ,হলদে ঘাসগুলো প্রশান্তিচিত্তে খেয়ে যাচ্ছে গবাদি পশুগুলো ।
মহিন বস্তা ভরে শুকনো গোবর কুড়াবে । অনেকক্ষণ ধরে শুকনো গোবর কুড়াচ্ছে । কেউ কেউ তাঁর বস্তা থেকে শুকনো গোবর নিয়ে যাচ্ছে । এসব দেখেও মহিন বাঁধা দিচ্ছে না । একান্ত মনে নিজের কাজ করছে ।
একজন বললো ‘অই মইন্না,’ ‘তর বস্তা ভরতো না,বাড়িত জা গা, ‘
:কাআলহাও(কালকেও) খেলাত আমারে লইবি(নিবি)?
মহিনের চিন্তা আজকের মতই আরও ক্রিকেট খেলবে সে । সে সুযোগ পাই না খেলার । তাকে কেউ দলে নিতে চাই না ।

বস্তাটি মাথায় নিয়ে টলতে টলতে অস্তমান সূর্যের মুখ হয়ে বাড়ি যাচ্ছে । প্রতিদিন শুকনো গোবর সংগ্রহ করে মহিন। জমতে জমতে অনেকগুলো গোবর হয়েছে । টিলাটা বড় দেখায় এখন । নির্দয় শীতের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে । সকাল-সন্ধ্যা আগুন পোহাবে মহিন ।

টিপটিপ পায়ে চারদিকে তীব্র শীত হুমড়ি খেয়ে পড়ছে । রাতের শেষটাই শফিকের পরিবারের একদম ঘুম হয় না । মসজিদে আজান দিতেই উঠে পড়লো শফিক । খড়- কুটো,হেমন্তী নাড়া আর কিছু শুকনো গোবর পুড়িয়ে ,শীতকাতর দেহকে উষ্ণ করবে ।
:‘মহিন সজাগ হইছিস,’‘আয় রে বাজান আগুন ধরছি,’ সফিক বললো ।
:‘হু,’ ‘বাজান! বলেই ঘুমহীন রক্তাভ চোখ নিয়ে চলে আসলো অাগুনে পাশে ।
:এসেই মহিন বললো ‘আমার ঘুমতে আরি না (ঘুমাতে পারি),’
‘:আর কয়টা দিন কষ্ট করো বাজান শীত চলে যাবে,’ সফিক নিজের শরীরের চাদরটা মহিনের গায়ে দিতে দিতে দিতে বললো ।

আগুনে পুড়িয়ে মেরা পিঠা খেতে খেতে সূর্যালোক উকি দেয় উঠানপানে । তখন শফিক চলে যাই মাঠে ।আর মহিন, বাড়ির সামনে মেঠো পথে বসে আঁকুবুকি করতে থাকে ,সূর্যের তাপের প্রখরতায় শরীরটা চনমনে হয়ে উঠে তার । সময় গড়ানোর সাথে সাথে সমবয়সী ছেলে-মেয়েরা স্কুলগামী হয় । মহিনের তাড়া নেই স্কুলে যাওয়ার । একাকীত্বের খেলায় সময়টা ভালোই যাই মহিনের । একদিন স্কুলে যাওয়ার জোক পেয়ে বসলো । সেদিন চলে যাই স্কুলে । ময়লাটে কাপড়,শীর্ণ-জীর্ণ দেহ দেখে অনেকগুলো উৎসুখ চোখ চেয়ে থাকছিলো কিন্তু সে সবের প্রতি কোনো দৃষ্টি নেই । ক্লাসে গিয়েই অন্য একজনের বই নিয়ে বসে রইল বেঞ্চে । তারপর বই চুরির জন্য ছেলেটি খুব মেরে রক্তাত্ব করলো । মহিন একটি আঁচরও দেয়নি । বই রেখে দৌড়ে পালিয়ে এলো ।

শীত আসে,শীত যায় । মহিন সেই আগের মত খড়-কুটো ,গোবর কুড়ায় ।মহিনের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না । শীতের তীব্রতায় হাড় কাঁপুনি আসে । আগুন এখন নিজেই ধরাতে পারে । মাঝে মাঝে কেউ কেউ আসে আগুন পোহাতে । চলেও যায় । কিন্তু মহিনের উষ্ণতা গ্রহণ শেষ হয় না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সূর্য উঠে ।
সঙ্গহীন মহিন কতারোক্তি করে জিজ্ঞেস করে
‘বাজান আয়ে(আসে) না?’

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৭
২১টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×