


ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ অতিক্রম করছে। যুদ্ধের তীব্রতা না কমে বরং পারস্পরিক হামলা ও হুমকি আরও জোরালো হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর আতংক ক্রমেই বাড়ছে। ইরান জানায়, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই যুদ্ধ বিশ্বকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফেলে দিবে।
এই যুদ্ধ ও চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় দেশগুলোর উন্নয়নের গতি থেমে যাচ্ছে কিংবা ধীর হয়েছে।কোভিড ১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা আক্রমণ, সবশেষে ইরান আমেরিকা যুদ্ধ পৃথিবীর মানুষের মনের আনন্দের স্বতঃস্ফূর্ততায় আঘাত হেনেছে। এই রোজা ও ঈদে ইরানের মানুষ গাজার মানুষের মত শোচনীয় সময় পার করছে। সারা বিশ্বের শান্তি এখন একটা অশান্ত পরিস্থিতি পার করছে।
এই ঈদে আমাদের দেশে তেলের পাম্পে লাইন থাকলে ও মানুষ একটু আনন্দের জন্য ঘর ছেড়ে বের হয়েছে। ঢাকা শহরের দর্শনীয় জায়গা গুলোতে শিশু ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া। আমাদের দেশের এই আঠার থেকে বিশ কোটি মানুষের জন্য বিনোদনের জায়গা সীমিত। একটু খোলা মেলা পরিছন্ন পরিবেশ একটু আনন্দ হাসি ও বিনোদন কে না চায়।
আমাদের দেশ থেকে অনেক টাকা পাচার না হয়ে এই টাকা দেশে পর্যটন ও দীর্ঘ মেয়াদী বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ ও স্থাপনা তৈরিতে ব্যবহার হলে এর উদ্যোক্তারা দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হত এবং সাধারণ মানুষ তাদের নিত্য দিনের বাহিরে একটা নতুন পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিত ও আনন্দ করতে পারত।
চীনে তাদের দেশের দর্শনীয় স্থান গুলোতে আসা দর্শকদের ৯৯ ভাগ হল চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ। তেমনি ভাবে ইন্দোনেসিয়া ও মালয়েসিয়াতে ও পর্যটনের জন্য সুন্দর স্থাপনা আছে এবং সারা বছর ধরে সেসব জায়গায় স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটক ভ্রমণ করছে।
আমাদের দেশে এসব নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে এবং এই বিনিয়োগে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। টাকা পাচার করে বিদেশে থাকা ও সেখানে যাওয়া সামনের দিনগুলোতে নিরাপদ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। মধ্য প্রাচ্যের ডুবাই কাতারে আগে আপাত শান্তি থাকলে ও সামনের দিনগুলোতে এই নিরাপত্তা না ও থাকতে পারে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মানুষেরা ও নিজেরা বেশী ভাল নেই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের এই দেশকে কি করে আর ও সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় করা যায় সে দিকে দৃষ্টি ও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভ্রমণের জন্য স্থাপনা, পরিবহন, নিরাপত্তা ও প্রচারনা বাড়াতে আমাদেরকে একটা বাস্তবায়ন যোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কাজে নেমে যেতে হবে। নিরাপত্তা ও আর্থিক সাশ্রয়ী যে কোন স্থাপনায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যাবে ও প্রান জুড়ানো সময় কাটাতে পারবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। দ্রুত অর্থবান হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদেরকে পরিকল্পিত ভাবে দেশের ও মানুষের উন্নয়নে এগিয়ে আসার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কিছু কৃত্রিম স্থাপনা মিলিয়ে হৃদয় গ্রাহী পরিবেশ সৃষ্টি করলে মানুষ সেখানে যেতে চাইবে সেগুলো সব বয়সের মানুষকে টানবে।
নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা বাদ দিয়ে দেশের মানুষের আনন্দ বিনোদনের জন্য কিছু করা গেলে তা হবে একটা সার্থক অর্জন।আমাদের দেশে যাদের সামর্থ আছে তাঁরা এসব উদ্যোগ নিয়ে আগিয়ে আসুক এটাই সবাই চায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



