somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘টালসিংকি’ - দুই রাজধানী এক অর্থনৈতিক অঞ্চল।

২১ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডয়শেভেলের ওয়েব সাইটে এই নিউজটা পড়লাম। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং লাগায় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।



উত্তর ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের দুই দেশ এস্তোনিয়া আর ফিনল্যান্ডের দুই রাজধানী তাল্লিন আর হেলসিংকির মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার আর ১০০ মিনিটের৷ লোকমুখে ইতিমধ্যেই তাদের নাম হয়েছে ‘টালসিংকি’৷


যুক্তি আছে এই নামের পিছনে৷ সপ্তাহান্তে এস্তোনিয়া আর ফিনল্যান্ডের হাজার হাজার মানুষ বাল্টিক সাগর পারাপার করে৷ এক ভাষা পরিবারের মানুষ তারা৷ ফলে সমস্যা হয়না৷ এবার বাল্টিক সাগরের নীচে একটি রেলওয়ে টানেল যুক্ত করবে টালিন আর হেলসিংকি'কে৷

সকাল ন'টা৷ একটা এক্সপ্রেস ফেরি যাচ্ছে তাল্লিন থেকে হেলসিংকি৷ সমুদ্র শান্ত৷ আকাশ খুবই পরিষ্কার৷ আধ ঘন্টা আগে এই ফেরি তাল্লিন বন্দর ছেড়েছে৷ ঠিক সাড়ে দশটায় পৌঁছে যাবে ফিনল্যান্ডের রাজধানী৷ জানালার ধারে দুটি ভাল সিট দখল করে আছেন দুই তরুণ ব্যবসায়ী৷ সমুদ্র দেখার সময় তাদের নেই৷ ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত তারা৷ দুজনেই একটি ফিনিশ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার৷ বৈঠক আছে তাদের হেলসিংকিতে৷ টানেলের কথা পড়েছেন তারা খবরের কাগজে৷ দুই রাজধানী শহরকে বড় এক মেট্রোপলিটান নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা এটা৷ একজন বললেন:

‘‘প্রতিদিন মূলত ফিনিশ ট্যুরিস্টরাই তাল্লিন আসেন এবং আমাদের শহর তা থেকে খুবই লাভবান হয়৷ অন্যদিকে এস্টনিয়ার বহু মানুষ হেলসিংকিতে এবং সম্ভবত অন্যান্য ফিনিশ শহরেও কাজ করে৷''

ফেরিটায় যাত্রীদের ভিড়৷ হবারই কথা৷ সপ্তাহান্ত পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে এবার হেলসিংকিতে নিজ নিজ কাজের জায়গায় ফিরছে তারা৷ আছে নির্মাণ কর্মী, বাস ড্রাইভার, অন্যান্য পেশার মানুষ৷ প্রতি সোমবার সকালের ছবিটা এরকমই৷ প্রতি মাসে ৪০ হাজার মানুষ টালিন আর হেলসিংকির মধ্যকার ৮০ কিলোমিটার পথ পারাপার করে৷

উত্তরপূর্ব ইউরোপের এই রাজধানী অঞ্চলকে ভাগ করে রেখেছে সমুদ্র৷ ফলে ফিনল্যান্ড আর এস্তোনিয়ার বহু মানুষ রঙ্গ করে এই এলাকার অভিন্ন নাম দিয়েছে ‘টালসিংকি'৷ দুটি দেশের দুই রাজধানী৷ কিন্তু একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল৷ এটাই সেখানকার মানুষের জন্য দৈনন্দিন চালচিত্র৷ ২০০৪ সালে প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পায়৷ চার বছর আগে শেঙ্গেন এলাকায় তার যোগ দেয়ার পর থেকে সীমান্তে কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই৷ চলতি বছরের গোড়াতে এস্টনিয়ায় ইউরো মুদ্রাও চালু হয়ে গেছে৷ এই অভিন্ন মুদ্রার কারণে অনেক কিছুই সহজ হয়ে গেছে দুই দেশের মধ্যে, মনে করেন এস্তোনিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাইনার কাটল৷ তিনি বলেন. ‘‘এই ‘টালসিংকি' কথাটা কিন্তু দারুণ৷ শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, বিজ্ঞান ক্ষেত্রে সহযোগিতারও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হবার অল্প পরে এস্তোনিয়ায় ফিনল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের আসাটা ছিল খুবই গুরুত্বের৷ আর এই সহযোগিতাটা এখনও পর্যন্ত খুবই ঘনিষ্ঠ রয়ে গেছে৷ জার্মানি ছাড়া এস্তোনিয়ার রপ্তানি পণ্য যাচ্ছে মূলত ফিনল্যান্ড আর সুইডেনে৷ আমার জন্য তাল্লিন থেকে এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর টার্টুতে যাওয়ার চেয়ে হেলসিংকিতে যাওয়া অনেক সহজ৷ তাল্লিন বন্দর থেকে খুব দূরে নয় আমার বাসা৷ বলতে গেলে আমি থাকি ‘টালসিংকি'তেই৷''

তবে রাইনার কাটল মনে করেন, এই অঞ্চলকে প্রকৃত মোট্রোপলিটান এলাকা হতে হলে প্রয়োজন ইউরোপের সঙ্গে এর পরিবহন কাঠামোর ঘনিষ্ঠ যোগ৷ কিন্তু সেক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে৷ এই ঘাটতি মূলত পূরণ করবে ‘রেল বাল্টিকা' নামের নতুন রেললাইন৷ এই লাইন যাবে ওয়ারস থেকে লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়া হয়ে তাল্লিন পর্যন্ত৷ ‘রেল বাল্টিকা'র শেষ অংশ হিসেবে থাকবে বাল্টিক সাগরের নীচে একটি টানেল মারফত তাল্লিন আর হেলসিংকির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ৷ হেলসিংকির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ডেমস ইন্সটিটিউট'এর প্রতিষ্ঠাতা, সমাজতাত্ত্বিক রোপে মোকা বলছেন:

‘‘এররকম একটি রেল টানেল নির্মাণ করাটা খুবই বাস্তবসম্মত হবে৷ আমি তো বলব, বৃহত্তর হেলসিংকি এলাকার আরও অগ্রগতির জন্য এটা জরুরি৷ এধরনের একটি সংযোগ নিয়ে যদি কিছু বলতে হয় তাহলে বলব - অন্তত ফিনিশদের দৃষ্টিতে এ টানেল হবে শুধুই তাল্লিনের দিকে নয়, অনেক বেশি ইউরোপের দিকে প্রবেশেরই পথ৷ আমাদের জন্য প্রশ্নটা হল - আমরা কি সেন্ট পিটার্সবার্গ'এর একটি উপশহর হতে চাই নাকি পুব আর পশ্চিমের মধ্যকার এক সংযোগস্থল হিসেবে দ্বৈত মেট্রোপলিটান নগরী হতে চাই৷'

নব্বই কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই টানেল৷ বিশ্বে এধরনের টানেলের ক্ষেত্রে তা হবে দীর্ঘতম৷ বছর দশেক লাগবে টানেল তৈরি হতে৷ তার আগ পর্যন্ত তাল্লিন আর হেলসিংকির মধ্যে নিত্যদিনের যাতায়াতকারীদের জন্য ফেরিই ভরসা৷


সূত্র: এখানে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×