ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পরপরই একটা চাকরী পেয়ে গেল সজীব। তেমন আহামরি কিছু না। একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টীচার হিসাবে। সজীবের স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে। স্বপ্নটা এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে সে নিজেও বুঝতে পারেনি। সমস্যা একটাই, বিশ্ববিদ্যালয় টা ছিল দেশের আরেক প্রান্তে। সজীবের বাসা খুলনায়। চাকরি টা হলো সিলেটে। কিন্তু সজীব মহাখুশি। সিলেটের মত ছোট সুন্দর একটা শহরে থাকবে সে। নিজের একটা ছোট্ট জগৎ থাকবে তার।
বাবা মার মন তো মানতে চায়না। এতটুকু ছেলেটা এত দূরে চলে যাবে। কিছুতেই মানতে পারেন না তারা। তাদেরকে কে বুঝাবে যে ছোট্ট ছেলেটা আজ অনেক বড় হয়েছে। সে একজন ইঞ্জিনিয়ার। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। খুলনা থেকে সিলেট ৭০০ কিলোমিটার দূর। অনিশ্চিত আশংকায় কাপে পিতামাতার মন। তাদেরকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করিয়ে সজীব যাত্রা করে সিলেটের উদ্দেশ্যে।
সিলেটে পৌছে সে প্রথমে ডিপার্টমেন্ট প্রধানের বাসায় গেল। প্রধান তুহিন সাহেব মজার মানুষ। অনবরত কথা বলতে থাকেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ বছর ধরে আছেন। অল্প বয়সে মাথায় টাক পড়ে যাওয়ার কারণেই হোক আর যে কারণেই হোক তার ভিতর একটা সিনিয়র সিনিয়র ভাব আছে। যদিও তিনি সেটা লুকানর চেষ্টা করেন তার কথার মাধ্যমে। তুহিন স্যার কে আবাসন সমস্যার কথা বলার সাথে সাথেই তিনি ভার্সিটির কাছেই একটা বাসা ঠিক করে দিলেন। সজীব তার আরো ২জন কলিগের সাথে ওই বাসাতে ভাড়াটিয়া হিসাবে উঠে গেল।
ওদের বাড়িওয়ালী খুবই ভাল মানুষ। নিজের ছেলের মতই জানেন সজীবদের। কোন সমস্যা হলেই ছুটে আসেন। ব্যাচেলর বাসা। সজীব নিজে কোনদিন রান্নাঘরের দরজা মাড়ায়নি। কাজের লোক ছাড়া চলা মুশকিল। বাড়িওয়ালী খালাম্মা কে বলতেই একজন লোকের ব্যাবস্থা করে দিলেন। যতদিন কাজের লোক ছিলনা ততদিন খালাম্মা ওদেরকে রান্না করতে দেন নি। নিজেদের বাসায় খাইয়েছেন। লোকমুখে সজীব শুনেছিল সিলেটের লোকজন খুব আত্নকেন্দ্রিক হয়। এই খালাম্মা কে দেখে ওর সেই ধারনা ভেঙ্গে গেল। সিলেটে নতুন একটা জীবনের শুরু হলো সজীবের। এতদিন সে ছিল ছাত্র, আজ সে শিক্ষক।
আজ সজীবের প্রথম ক্লাস। এতদিন তো অনেক ক্লাস করেছে, অনেক ক্লাসরুমেই ঢুকেছে, কই কোনদিন তো এরকম অনুভূতি হয়নি সজীবের। কেমন যেন এক অদ্ভুত দূর্বলতা। যাই হোক, প্রথম ক্লাসে এরকম হতেই পারে। নিজেকে প্রবোধ দিলো সজীব। ঢুকে পড়লো ক্লাসরুমে। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



