পুরোটা শরত তোমার অপেক্ষায় আছি ঠায়,
আর কিছুই কাজ নেই; রাখিনি হাতে।
মাঠে মাঠে শিশির কুড়িয়েছি; গোধূলী থেকে ভোর, কাজ ছিলনা যে!
শিশিরদানা গেঁথে গেঁথে চাদর গড়েছি এক শাদা আনকোরা।
ঝাঁপি ঝাঁপি শিউলি কঁচলে দিয়েছি ভাঁজে ভাঁজে,
প্রানপণ সুরভিত করেছি ওকে; যেমনটি তোমার পছন্দ ।
তারপর,
হেমন্তের হিমে হলদেটে চরাট লেগেছে ধবধবে শাদার গায়ে;
শীতের ঘোলাটে কুয়াশায় কেমন গুলিয়ে উঠেছে বুনোটের ঠাঁসা গাঁথুনি।
বসন্তের শতরঙ থেকে কত করে বাঁচিয়ে রেখেছি চাদরখানি!
তুমি যে এখন আর রঙীন পরনা!
গ্রীষ্মের ঝাঁঝালো আলোয় ঝাঁঝরা হয়েছে, ফিকিয়ে গেছে;
শিশিরকণারা চুপসে গেছে অশ্রুকণার মত।
শেষে এসে, বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে কান্নায় ভিজে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ম্লান,
শেওলার রাজত্বে ক্লান্ত শিউলি; আর ক্ষয়িষ্ণু তোমার চাদরখানি, আমার হাতে বোনা।
আবার এসেছে শরত, কাশের রূপোরঙ রেনুগলো ভাসছে বাতাসে।
প্রসবাসন্না গর্ভবতী শিউলিগাছেরা; হাতের কাজও গুছিয়ে এনেছি সব।
ভেবোনা। আবার গড়ব চাদর, ঠিক তেমনটি।
হাতে যে কাজ নেই তেমন!
[আমার খুব কাছের বন্ধু 'রনি'র লেখা। সে এখন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।]
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



