somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমা কর আমায়

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
সাংবাদিক সেলিনা পারভীন প্রতিদিনের মত সেদিনও তার ৬ বছরের ছোট্ট ছেলে শাহীনকে আদর করছিলেন।তাকে ঘুম পাড়ানি গান শুনাচ্ছিলেন।ছেলে ঘুমালে মা তার কপালে আলতো করে চুমু দিলেন।হটাত দরজায় প্রচন্ড শব্দ হল।ছেলে শাহীনের ঘুম ভেংগে গেল।সেলিনা পারভীন দরজা খুললেন।সেখানে কিছু পাকিস্তান আরমি ও রাজাকারদের দেখতে পেলেন।রাজাকাররা তাকে বলল তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।সেলিনা পারভীন তাদের সাথে গাড়িতে উঠছিলেন।যাওয়ার আগে তিনি শাহীনকে বললেন বাবা তুমি ঠিক মত খেয়ে নিবে।আমি একটু পরই আসছি।সেই যে সেলিনা পারভীন গেলেন আর তিনি আসলেন না।পরে জানা গিয়েছে রাজাকাররা তাকে নির্মম অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে।শেষ পর্যন্ত তার লাশ ফেলে গেল রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে।যদিও সে লাশ আর চেনা যায়নি।এভাবে ১৪ই ডিসেম্বর একে একে দেশের সেরা সন্তানদেরকে হত্যা করতে হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল এই আলবদর বাহিনী,রাজাকার ও আলশামস বাহিনী।এসব কথা আমরা সবাই জানি। আমি কোনও ইতিহাস লিখতেও বসিনি।

পূর্ব পাকিস্তান আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।তিনি সেদিন বললেন দেশে কোনও যুদ্ধাপরাধী নেই এবং কখনও ছিলও না।এর দু দিন যেতে যেতে না যেতেই জামাতের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মোল্লা বললেন "মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সুন্দরী নারীর লোভে,হিন্দুদের সম্পদ লুঠ করার জন্য।তারা দেশ কে ভারত বানাবার ষড়যন্ত্রে এখনও লিপ্ত আছে।"বাংলাদেশর যে এই অবস্থা হবে তা সবাই জানতো।আজকে তাদের কত বড় সাহস তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে যাচ্ছে।তারা মিথ্যাচার করে চলছে।অদূর ভবিষ্যতে তারা হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের আল্লাহর নামে জবাই করা শুরু করবে।তারা আজ দেশের সর্বচ্চো পদে অসীন।৭১ এর পরাজিত শক্তিই যখন এদেশের মন্ত্রী হচ্ছে।দেশের গুরুতব পূর্ণ পদে আছে তখন তো তাদের এ সাহস হবেই। আমরা সবাই জানি যে ৭১ এ নিজামী,মুজাহিদেরা কি করেছিল।তারাই তখন হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছিল।এবং দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ও মেয়েদেরকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।আজ তারাই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি।আমার কাকু মুক্তিযুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।আমি দেখেছি আমার দাদুর অশ্রু ভেজা চোখ। মুক্তিযূদ্ধের অনেক পরে আমার জন্ম।মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা আমি আঁচ করতে পারব না তাও আমি জানি।আজকে আমরাই তো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রাপ্য সমমান দেই না।অথচ আজকে আমি বাংলায় ব্লগ লিখতে পারছি সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ,আমরা কি সেই কথা ভুলে গিয়েছি।আজ সাধীনতা বিরোধীরা এ দেশের ইতিহাস বদলে ফেলতে চায়।যখন বিজয় দিবসে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে তখন আমি জানি,তোমরা শুধুই এক ক্রর দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাক।সেই দৃষ্টিতে থাকে,ঘৃনা ও হতাশা।

আমি এক মুক্তিযোদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিসের জন্য আপনারা যুদ্ধ করেছিলেন?যদি জানতেন যে রাজাকাররা এদেশে এভাবে পতাকা বাহিত গাড়িতে চড়ে বেড়াবে আর মুক্তিযোদ্ধারা দু মুঠো ভাতের জন্য আবার যুদ্ধ করবে?তিনি আমার প্রশ্নের জবাবে তার লুংগী হাঁটুর উপর তুলে তার উরু দেখালেন।দেখলাম সেখানে মাংস নেই।এরপরই তিনি আমাকে তার বাসা থেকে বের হয়ে হতে যেতে বললেন।আমি মাথা নিচু করে চলে এলাম।কারণ আজকে রাজাকাররা তাদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে তার দায়ভার যে আমাকেও নিতে হবে।

হে মুক্তিযোদ্ধা তোমাদের অভিমানের জবাব আমি দিতে পারিনি সেদিন।হয়তো আমি অত্যন্ত ভীরু।তোমাদের জন্য কিছুই আমি করতে পারিনি।যদি এদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হত তাহলে আন্তত তোমাদের কাছে যাওয়ার সাহস করতাম আবার।

তোমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা আমার কাছে নেই।তবুও নির্লজ্জের মত বলছি ক্ষমা কর আমায়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×