১.
এটা প্যারিসের চারটা বড় রেলস্টেশন এর মধ্যে একটি নাম GARE DE I'EST। আমরা জার্মানি থেকে যাবার কারনে এই রেলস্টেশনে নামতে হয়েছে আবার যারা লন্ডন থেকে ফ্রান্স এ আসে তারা আবার পারিস PARIS NORD নামের আরেকটি রেলস্টেশনে নামে । আমাদের যাত্রা এখান থেকে শুরু ।GARE DE I'EST দেখতে খুব একটা ভালো যে তা না কিন্তু বিদেশী ভ্রমনকারীদের জন্য যথেস্ট ভালো কারন এখন থেকে প্যারিস ভ্রমনের সব রকম তথ্য খুব সহজে পাওয়া যায় আর প্রায় সবাই ইংরেজী জানে মোটামুটি । আমরা প্রথমেই ঠিক করলাম EIFFEL TOUR দিয়ে আমাদের প্যারিস ভ্রমনের শুভ সূচনা শুরু করবো আর তাই করলাম ।GARE DE I'EST রেলস্টেশন থেকে EIFFEL TOUR যেতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিটের মত ।এই ৩০ মিনিটের যাত্রা পথে যেকোন ভ্রমনকারীর প্যারিস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা জন্মাতে পারে ।যে টা আমার বেলাও হয়ে ছিলো। কারন প্যারিস EAST এর অংশটা খুবই নোংরা দেখতে অনেকটা গুলিস্তান এর মত ।কিন্ত যখন আপনি প্যারিস এর একটু ভেতরে দিকে চলে আসবেন তখন বুঝবেন প্যারিস কি জিনিস।
আমার দেখা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানী গুলো মধ্যে প্যারিসই এক মাত্র পারে ২৪ ঘন্টা বিনোদন দিতে পারে। প্যারিস এর কিছু ভয়ংকর খারাপ দিকও আছে । তা জানাছি একটু পারে ।আগে চলুন ভ্রমন শুরু করি.
এই সেই বিখ্যাত EIFFEL TOUR। এর চারপাশ ঘিরে সারা বছরই কোন না কোন আয়োজন থাকে ।শীত ,গ্রীস্ম ,বর্ষা সব সময় টুরিস্ট আসে এখানে।
উপরের ছবি গুলো প্যারিস এর বিখ্যাত অপেরা হাউস PALAS DE CHAILLOT এর । এই বিল্ডিং এর গায়ে দেখতে পাবেন অনেক চিত্রকর্ম ।
এই সাইন এর মানে কি আমার জানা নাই ।
এটাও একটা জাদুঘর নাম GRAND PALAIS। এখানেও পৃথিবীর বিখ্যাত সব শিল্পীর বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য প্রদশনী হয় । ভেতরে আমার যাওয়া হয়নি কারণ এই সব চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য কিছু বুঝি না ।
উপরের ছবিটা তে দেখনে পাবেন ফ্রান্স এর তৌরি প্রথম টংক ।
একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন প্রতিটি কামানের গায়েই আছে সুন্দর সুন্দর সব চিত্রকর্ম ।
উপরে ছবি গুলো GRAND PALAIS, MUSEE DE L'ARMEE(সমর অস্র জাদুঘর ) এর । এখানে মূলত সব পুরাতন সমর অস্র রাখা আছে ।ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ আছে তাই ভেতরের ছবি তুলতে পারিনি ।
প্যারিস এর প্রায় প্রতিটি রাস্তায় দেখতে পাবেন এই বকম অনেক সুন্দর সুন্দর সব ভাস্কর্য । প্যারিস কে শিল্প সাহিত্যের নগরী বলার যে শত ভাগ সার্থক ।
উপরের ছবি টা Saint-Germain-l'Auxerrois চার্চর । এই চার্চটি লুভর মিউজিয়াম এর বিপরীত অবস্থিত । এই চার্চটি প্রতিষ্ঠিত হয় সপ্তম শতাব্দীতে।
এটি লুভ্য় মিউজিয়াম এর প্রধান ফটক (দরজা )।এই রকম আরো দুটি দরজা ভেতর দিতে যেতে হয় মূল অংশে ।আধুনিক আর পুরাতন স্থাপনার একটা সুন্দর নিখুঁত সমাহার দেখনে পাবে ভেতরের অংশে ।চলুন দেখে আসি ভেতরে আছে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য ।
পিরামিডের মত দেখতে অংশটা আসলে মিউজিয়ামে মূল প্রবেশ পথ ।
এটা মিউজিয়ামের ভেতরে অংশ ।আমরা এখন কোন গ্যালারি প্রবেশ করিনি ।এই অংশে মূলত টিকিট বিক্রি , বিভিন্ন খাবারে ও শোপিস বিক্রি হয়।
এই রকম অনেক গুলো বারাব্দা আছে বিভিন্ন গ্যালারিতে প্রবেশ করার জন্য।আমরা মূলত মুনালিসার ছবি টা প্র্রথম তলার ই গ্যালারিতে রাখা আছে সেই দিকেই যাছি । আর যাবার পথে দেখতে থাকেন বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর চিত্রকর্ম আর ভাস্কর্য ।
আমরা এখন চলে এসেছি সেই বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রকর্মের গ্যালারিতে যা প্রধান ও মূল আকর্ষণ লুভর মিউসিয়ামের । সুতরাং সব ব্লগার ভাই বোনের আপনারাও জাপিয়ে পরুন যার যার অস্র নিয়ে মুনালিসার ছবি তুলতে ।আমি অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম ওই ছবিটার দিলে ,কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য কিছু বুঝলাম না শুধু দেখলাম চোখের উপর ভ্রু ছাড়া এক রমনী মিষ্ঠি হাসি দিয়ে বসে আছে .....এর চেয়ে বেশি কিছু মাথায় ডুকলো না । এখন আপনারা দেখেন ।
মিউজিয়ামের সব ছাদ জুড়ে আছে সব অদ্ভুত সুন্দর সব কারুকাজ ।
সব শেষের ছবিটা মিউজিয়ামের পেছনের দিকের অংশ ।
এই বার কিছু লুলু মার্কা ছবি না দিলেই না । কারণ সারা মিউজিয়ামে প্রায় শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ ছবিতেই নারী ছিলো বিস্ত্র .....।কারন কি কে জানে। শুধু মিউজিয়ামের ভেতরে না সারা শহরে জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই রকম অনেক ভাস্কর্য । শিল্প আর শিল্পীর চোখে এর অন্য কোন অর্থ থাকতে পারে যা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব না কারন আমার এই বেপারে কোন ধরনা নাই ।বেশি কিছু দিলাম না....... ভয় লাগে
আজ এই পর্যন্ত ।বাকি টা পরবর্তী পোস্টে দেবো............।কেমন লাগলো
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


