somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার এসব নোংরামি বন্ধ হবে কি ?

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
দুনিয়া আজ নোংরামিতে ভরাডুবি।


ফটো সূএ: জীবন ভাই
ময়মনসিংহ জয়নুল আবেদীন পাকে থেকে ছবি তোলা।
ভালবাস বাস্তব (নোংরা হলেও) কথা পৃথিবীতে এসেছি, চিহ্ন রেখে যেতে চাই ...... নোংরা হলেও বাস্তব ।আজকাল অনেক ছেলে মেয়েদের মাঝে ভালবাসা মানে শারিরিক চাহিটা মেটানো। ২/৩মাসের সর্ম্পকের পরই নাকি এটা প্রয়োজন হয়ে দাড়ায় । কিছু মাস বা ১/২বছর পর
এমন এক পরিস্থিতি দাড়ায় , এক জিনিস কয়দিন ভাললাগে ? নতুন স্বাদের আশায় ভিন্ন মানুষ । কিন্তু এটা চরম ৯৯% ক্ষেত্রেএটা সত্য যে
কোন স্বার্থ ছাড়া শারীরিক সর্ম্পকের পর কোন ছেলে ঐ মেয়েকে তার ঘরের বউ হিসেবে
চায়না ।

প্রচলিত ধারায় আমাদের চারপাশের তরুণ তরুণীদের ভাবালুতামার্কা বোধহীন আবেগের
নাম যে ভালোবাসা নয় সে বিষয়ে অবশ্য আমার কোন সন্দেহ নেই। চারপাশের মানুষগুলোর ভালোবাসা নামের অতি পবিত্র বিষয়টা নিয়ে
অবিশ্বাস্য রকম অর্থহীন, জঘন্য এবং জোর করে মাথায় ঢুকানো সস্তা আবেগে মিশে যাওয়া দেখে অবাক লাগে। ভালোবাসা যেখানে একটা অনুভূতির ব্যাপার সেখানে আমরা আচরণ করি
রোবটের মত, অন্ধ- কানা- বোবার মত। ভোগবাদী , সেকুলার এই সমাজে অন্য
সবকিছুর মতই মানুষের অন্তরের একান্ত আপন অনুভূতিও আজ যেন ফর্মালিটি মেইনটেইন করা। ভালবাসতেই হবে, একটা বয়ফ্রেন্ড/ গার্লফ্রেন্ড লাগবেই, এই করতে হবে, সেই করতে হবে......হবে...হবে......হবেই হবে! ভালোবাসা না আসলে ভালোবাসা জোর করে আনতে হবে!
কি বুঝে আসলে ??

স্কুল ড্রেস পরে মামাতো খালাতো ফুফাতো কিংবা হাউজ টিউটর না হয় বন্ধুদের কারো সাথে বাবা মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেম প্রেম খেলা করে বেড়ানো মেয়েটা আসলে কি বোঝে? হঠাৎ করে দেখা কোন মেয়েকে পটিয়ে গার্লফ্রেন্ড বানানোর পেছনে অকালপক্ব প্রতিভার সবটুকু খরচ করা, রাতের পর রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা আর অর্ধেক মাসেই বাড়ীতে মাস খরচের টাকা চাওয়া ছেলেটার কাছে ভালোবাসা আসলে কি? চারপাশের এই ছেলেমেয়ে গুলো আসলে চলে ভাড়া করা মগজ দিয়ে।
হিন্দি সিরিয়ালের পরকিয়া প্রেম দেখে এরা প্রেম করতে শেখে, 'আমি তুমি- তুমি আমি' গান কবিতায় এরা আবেগের রসদ খোঁজে। গল্প উপন্যাস পড়ে নিজেদেরকে নায়ক নায়িকার আসনে বসিয়ে 'কল্পনা' আর 'বাস্তবতা' গুলিয়ে জীবনে রং লাগায়। সেলুলয়েডের রঙিন পর্দায় নায়ক নায়িকাদের চিত্রনাট্যের আবেগি উপস্থাপন দেখে প্রেমের স্বরূপ বোঝে! ইমরান হাশমি- মল্লিকাদের অর্ধনগ্ন শরীরের ভাষা থেকে সহজলভ্য পর্ণগ্রাফিতে জৈবিকতার আদিম রীতিতে এরা 'ভালোবাসা'টাকে 'শরীর' দিয়ে replace করে।
এরা বোঝে শরীর শরীর খেলায় বিদ্যুৎ চমকের মত হঠাৎ হঠাৎ পাওয়া ফ্যান্টাসিটুকুই ভালোবাসা! তাদের কাছে তাই ভালোবাসা মানে
প্লেটোর ভাষায়, "love is a serious mental
disease."!! wrong! সিরিয়াসলি it's wrong! এই ধরণের ভাড়া করা মগজপ্রসুত ভালোবাসা কোন অন্তরের রোগ নয়, এটা প্রবৃত্তিপূজা। স্রেফ desire. ভালোবাসা মানে যদি অন্তরের
সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া, বিধ্বস্ত হওয়া, কোন কাজে মন বসাতে না পারা, জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করা বোঝায় তাহলে সেটা ভালোবাসা নয়। আমরা এসবকে ভালোবাসা মনে
করলেও আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে এটাকে hawa বলেছেন।
মেয়েদের বলছি , আধুনিক যুগে মন দিয়েছো বুঝলাম , একবার ভেবে দেখো তোমাকে বিয়ে করতে একটা ছেলের চাকরি জোগাড় ,পরিবারকে রাজি করানো ,মোহরানা ,বিয়ের খরচ ইত্যাদি
কত ঝামেলা আর টাকার ব্যাপার , এর পর সে তোমাকে পাবে , এখন তুমি যদি তার আগেই তাকে সব দিয়ে দাও আর এত ঝামেলা করতে কি তার মন চাবে ? বিয়ে না করে ২টা মিষ্টি কথায় সব
হলে পাগলেও বিয়ে করবে না তোমাকে ।
নোংরা না নগ্ন বাস্তবতা যা তুমি এখন দেখতে চাচ্ছনা । নিজেকে সস্তা করো না ।
ছেলেদের বলছি , যে মেয়েটার ক্ষতি করছো , করো । একবার ভাবো , তোমার আদরের লক্ষি
বোনটা কে যে কিনা আজ আবদার ধরেছে ভাইয়া আমার জন্য চটপটি আনিস , অনেক কষ্ট করে খুজে এক ভাল পাএ জোগার করলে তাকে সুখি দেখতে চাও । এখন সে এসে বললো ভাইয়া নেটে আমার ভিডিও আসছে । কেমন লাগবে
তোমার ? তুমি ভাল না হলে আস্থা রাখো বিধাতার উপর তিনি তোমাকে ভাল কিছু
দিবেন না । তিনি তো সব জানেন তাই না ।
কথা গুলো কে নিয়ে একবার ভাবো সবাই ।
আমরা সমাজে চলমান ভদ্রলোক গুলো ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে কতটা নোংরা মানসিকতার
অধিকারী, তা নিজের চেয়ে ভালো আর কে বলতে পারে? আপনি যে ছেলেটিকে নিয়ে গুরে বেড়াচ্ছেন অথবা যে মেয়েটিকে নিয়ে জনলোকেররসামনেই উম্মাদ-নগ্ন প্রেম লীলায় মেতে উঠছেন। তার সাথে কি প্রকৃতই প্রেম-ভালোবাসায় আছেন নাকি শুধুই পুতুল খেলায় মেতে আছেন! তা আপনার চেয়ে ভালো আর কে বলত পারে।
যে নারী তাকে উৎসাহ দেয়, জনলোকালয়ে যে নারীর কোন লজ্জা নেই। সে নারী নামের
কলঙ্ক! বিবেহীন দের বিবেক জাগ্রত
হোক, সৌন্দর্য্য গুলো দেহ ছাড়িয়ে মন পর্যন্ত পৌছে যাক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:২৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×