somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর সব থেকে গোপনীয় মিটিং "বিল্ডারবার্গ মিটিং"

১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাশীলদের মিটিং এটি। সর্বোচ্চ ক্ষমতাশীল বলতে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন-জাপানের কোন প্রেসিডেন্ট নয়। বরং তারা যাদের কথা মতো নিয়মিত ওঠাবসা করে তাদের মিটিং এটি।
বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো দেশগুলো যেভাবে পর্দার আড়ালে থেকে কোন পরাশক্তি পরিচালনা করে, তদ্রুপ বিশ্বের কথিত পরাশক্তি দেশগুলোও তথা সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, কূটনীতি, যুদ্ধ-মৈত্রী ইত্যাদি পরিচালিত হয় ঐ মিটিং সদস্যদের ইচ্ছামতো।
চেনা পরিচিত ধনীদের মধ্যে শুধুমাত্র বিল গেটস ২০১০ সালে একবার অংশগ্রহণ করেছিল। বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে একবার অংশগ্রহণ করেছিলো।
---
প্রশ্ন জাগছে যে কারা এখানে অংশগ্রহণ করে?
একমাত্র বিল্ডারবার্গ ক্লাবের সদস্যরাই এই মিটিং এ অংশ নিতে পারে। পৃথিবীর সবথেকে বড় বড় ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক, বড় বড় কোম্পানির CEO, পৃথিবীর সবথেকে বড় বড় রাজ পরিবারের সদস্য অর্থাৎ পেছন থেকে পুরো পৃথিবী যারা কন্ট্রোল করতেছে এমন ১৫০-২০০ জন মানুষ এই মিটিং এ পার্টিসিপেট করে।
এই বছরের জুন মাসে ৬৩ তম বিল্ডারবার্গ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে অষ্ট্রিয়াতে একদম পাহাড়ের মধ্যে একটা ক্যাসেলে। পাহাড়ের আশেপাশের ৬ মাইল ব্যাসার্ধের এরিয়া ৭ দিন আগে থেকে পুরোপুরি সিল করা হয়েছিলো, কোন গাড়িঘোড়া ঢুকতে দেয়া হয়নি।
মোট ২ হাজার পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছিলো শেখানে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বছরে প্রথমবারের মতো বিল্ডারবার্গ গ্রুপ তাদের মিটিং এ যারা পার্টিসিপেট করেছে তার একটা ফুল লিস্ট তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এবং গেজ হোয়াট? বারাক অবামা আমন্ত্রিত হয়নি। এরা অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টরে গোনেই না।
বর্তমান বিশ্ব যেসব সুপার এলিটরা পরিচালনা করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রকারফেলার পরিবার। ১৮শ শতাব্দীর শেষের দিকে তারা তেলের ব্যবসা করে একদম ফুলে ফেপে ওঠে। তখন পুরো পৃথিবীর তেলের ব্যবসায় তাদের একরকম একাধিপত্য ছিল বলা যায়। জানা যায় রকারফেলার পরিবারের অন্যতম সদস্য জন ডি রকারফেলারের একার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণই ছিল সেই আমলের টাকায় ৪০০ বিলিওন ডলার।
---
অনেকের মতে পুরো রকারফেলার পরিবারের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ নাকি এখন ৩০০ ট্রিলিওন ডলারের কাছাকাছি।
অবশ্য তাদের টাকার পরিমাণ হিসাব করা বোকামি, কারণ তারাই টাকা বানায়। পৃথিবীর সব বড় বড় ব্যাংকের মালিকানা এদেরই। আর ব্যাংক কীভাবে পরিচালিত হয় তার ব্যাসিক আইডিয়া কারোর থাকলেই জানার কথা যে ব্যাংকই টাকা তৈরি করে।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আচ্ছা পৃথিবীর সবথেকে বড় কোম্পানির CEO’রা যদি এই মিটিং এ অংশগ্রহণ করে তাহলে তো গুগোল আর ফেসবুকের CEOদের শেখানে নিয়মিত পাওয়া উচিৎ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে অনেকেই জানেনা গুগল ফেসবুক এরা পৃথিবীর টপ ৫০টা কোম্পানির মধ্যে নাই। Exxon Mobil নামে একটি কোম্পানি আছে।
এদের সম্পর্কে মজা করে বলা হয় Exxon Mobil চাইলে গুগোল-মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিকে পেটি ক্যাস দিয়ে কিনে নিতে পারে। এই Exxon Mobil, Shell, Chevron সহ পৃথিবীর টপ প্রায় ৮-১০ টা কোম্পানির ডিরেক্ট মালিক এই রকারফেলার ফ্যামিলি।
যাই হোক, ১৯ শতকের মাঝামাঝি এসে এই পরিবার এই অর্থবিত্তের উপর ভর করে এতো ক্ষমতাবান হয়ে গিয়েছিলো যে তারা UN এবং মার্কিন সরকারের সব বড় বড় মাথাকে টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছিলো।
তখন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, এই রকারফেলার পরিবার তাদের ক্ষমতা দিয়ে নিজেদের অনুশাসনে একটি গোপন Invisible Government তৈরি করতে চাচ্ছে যাদের টার্গেট অদৃশ্য থেকে পুরো পৃথিবী শাসন করা।
তার কিছুদিন পরেই রকারফেলাররা তখনকার পৃথিবীর সবথেকে ক্ষমতাবান ৪টা পরিবার রকারফেলার, রথসচাইল্ড, মরগান এবং বুশ পরিবারের প্রত্যক্ষ ফান্ডিং এবং তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর সব সুপার এলিটদের সাথে নিয়ে গড়ে তোলে বিল্ডারবার্গ ক্লাব।
প্রথম বিল্ডারবার্গ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে। এটাকেই রুজভেল্টের সতর্ক করে দেয়া Invisible Government এর প্রথম সংসদ বলা চলে। এরপর আরও ৬২টা মিটিং হয়ে গেছে কিন্তু এরা ঠিক ৭০ বছর আগে যেমন সিক্রেট ছিল এখনও তেমনই সিক্রেট। এদের নিয়ে কোন মিডিয়া ঘাটায় না। ঘাটাবে কি?
---
এরাই তো মিডিয়ার মালিক। তাদের মিডিয়া তারা নিজেদের মতো করে কন্ট্রোল করে। পৃথিবী আগামী ১০ বছর কেমন চলবে, ভালো না খারাপ, কার সাথে যুদ্ধ হবে, কার সাথে মৈত্রী হবে সব ডিসিশন এরাই নেয়। প্রেসিডেন্টরা সব পাপেট (খেলার পুতুল), এদের নেয়া ডিসিশনই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক্সিকিউট করাই প্রেসিডেন্টের কাজ।
যেমন- ওদের মিটিং-এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- সারা বিশ্বে মুসলমানদের কোনঠাসা করতে হবে, টেরোরিস্ট হিসেবে সাব্যস্ত করতে হবে। কিভাবে করতে হবে সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হলো আমেরিকা।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৩
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×