somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবু তো রয়ে যায়

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা বছর চলে গেলো । আবার একটা চলেও এসেছে। এই সময়ে অনেকের সালতামামি পড়লাম। ইচ্ছে হয়েছিল লিখতে। কিন্তু কি লিখব? আমি যে ওইভাবে শেষ শুরুর হিসাব করতে পারি না। আমার সব মিলেমেশে একাকার হয়ে যায়। ছোটোবেলায় সবার ইচ্ছে থাকে বড় হওয়ার। কিন্তু ঠিক কোন তারিখ থেকে বড় হোলো তা বোধহয় , কেউই বলতে পারবে না। এই সব আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল আবার পরমুহূর্তেই তা আর পাওয়া যায় না। বর্তমানটা এক নিমেষে অতীত হয়ে যায়। এই সত্যি, এই মিথ্যে। সবই যেন ভ্রম।
আসলে মৃত্যুটাই জীবনের সবচেয়ে মহৎ ঘটনা। সত্যি বলতে, আমি যে একদিন মারা যাব, ওপরওয়ালা তো ওই একটা কথাই আমাদের পরিষ্কার বলেছেন যে মৃত্যু আসবেই। জীবন সম্বন্ধে আর কিছুই খোলসা করেননি। অথচ দেখুন, যেটা নিশ্চিত ঘটবে, সেটাকেই ভুলে অন্য সব কিছুর জন্য আমরা লড়াই করে যাচ্ছি।
সারা ক্ষণ এই ভাবনায় বুঁদ হয়ে আছি যে আরও কত দিন বাঁচব, কত সুস্থভাবে বাঁচব। শেষে যে সব চেষ্টাই মিথ্যে হয়ে যাবে ভাবছিই না! এই যে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই অবশ্যম্ভাবী নয় জীবনে, ওপরওয়ালার এটা কিন্তু একটা গোপন বার্তা। যেন বলতে চাইছেন যত দিন আছ, যা, যা করার করে নাওরিস্ক নাও, ভুল করো। কারণ মাঝে মাঝে একটা ভুলও না করে কোনও কোনও জীবন শেষ হয়ে যায়। বড় সাবধানী সে সব জীবন। তাই ভুলও করো, ঠিকও করো। সুযোগ নাও। হোঁচট খাও। আর সারাক্ষণ মাথায় রাখো এর কোনওটাই তোমার সঙ্গে চিরদিন থাকবে না। দেখি তো এ সব ঘটতে। জীবনে একটা ভুল কাজ করলে, আমায় আবার সেই কাজটাই করতে হবে। কারন আমিএকটা কাজ ভুল করতেই পারি। তবু আবার সেই কাজটাই করব। এবং এবার হয়ত ঠিক করব।আশাগুলো অনেকটা ফিনিক্স পাখীর মতো ছাই থেকে আবার জন্মায়। কিংবা ক্যালেন্ডার। শেষ হয়, আবার হয়ও না।
ফুরোয়, কিন্তু আসলে বয়ে চলে অনন্তকাল।
শেষ হয়তো হয়, কিন্তু আসলে হয় না। একটা ছোট্ট আলোর বল যেন, আসলে তারই মধ্যে অনন্তের ছোঁয়া! পৃথিবীর সমস্ত স্থান সেখানে আছে। পৃথিবীর সমস্ত সময় সেখানে আছে। তার এক দিকে রাত্রি হয়। এক দিকে সকাল। কোথাও মেঘ করে বৃষ্টি এল তো কোনওখানে ঝলমলে রোদ। কেউ হেসে উঠল তো কারও চোখে গভীর বিষাদ।
তাই তো কোনো কিছু ভোলার চেষ্টা যতই করি না কেনো, পরিশেষে ভোলা যায় না। ঠিক যেমন তুমি বলেছিলে তোমায় নাকি ভুলেই যাবো ! তা হয়ত ঠিকই বলেছিলে। কারন মনে রাখারও কোনো যুক্তি নেই। বড়যোড় মনে পড়লে ঘৃণার উদ্রেক হওয়ার কথা। না ঘৃণাও করতে পারি নি। কেনো জানো? প্রকৃত বন্ধু সেই, যে হাত ধরে অন্ধকার খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তে হাত ছেড়ে দেয়। জীবনের আলোয় ফিরিয়ে দেয়।
তাই তুমিও রয়ে যাবে, আরও অনেক কিছুর মতো। এই বহমানতায়।
আসলে জীবনটা অনেকটা ছোটো গল্পের মতো। এখানে সব কিছু যেন, শেষ হয়েও হয় না। তবু রয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৫৫
৩১টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×