ঘটনা দুটি ইস্যুর ডামাডোলে একটু পুরোনো হয়ে গেলেও বিষয়বস্তু সব সময়ই সমকালিন...
ইজরাইয়ের তেল আবিবের গোয়েল রাটজন নামের এক লোক ২১টি বিয়ে করে ৩০টি সন্তান জন্মদান করেছে। তার প্রতি অভিযোগ সে যৌন নিপীড়ন করেছে যেখানে কিনা নিজের মেয়েও অন্তর্ভূক্ত! ইজরাইল আদালত লোকটিকে ৩০ বছরের সাজা দিয়েছে। ঠিক কয়েকদিন আগেই মধ্যপাচ্যের ইসলামী দেশ ইরান রেহানা জাব্বারীকে ফাঁসি দিয়েছে তার ধর্ষককে হত্যার অভিযোগে। দুটোই ধর্মাশ্রিত রাষ্ট্র। ইজরাইল ইহুদী ধর্মগ্রন্থ অনুসারে তাদের আইন-আদালত চালায় না সেটা রায় দেখেই পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে। মধ্যপাচ্যের ইরানসহ সমস্ত রাষ্ট্র ইসলামী শরীয়া অনুসারে চলে। সেই অনুপ্রেরণায় পাকিস্তান, আফগানিস্থান বহু আগেই শরীয়া কবুল করে আছে। বাংলাদেশ শরীয়ার হাতছানি কতদিন এড়াতে সক্ষম হবে সেটা একটা প্রশ্ন। বাংলাদেশের জনগণ ইসলামপ্রেমি জনগণ। “ইসলামী পারিবারিক আইন” নামের একটা মিনি শরীয়া আগে থেকেই এখানে চালু আছে। কথা সেটা নয়, এখন দেখা যাক রেহানা যদি ইজরাইলের আদালতে তার ধর্ষণের চেষ্টার হোতার বিরুদ্ধে আর্জি জানাতো তাহলে কি হতো? আর ইসলামী আদালতে গোয়েল রাটজনের নামে অভিযোগ করা হতো তাহলে কি হতো? ইসলামী আইনে রেহানাকে তার ধর্ষণের অভিযোগকে প্রমাণিত করতে হলে দুইজন মুমিন মুসলমান পুরুষের সাক্ষি প্রয়োজন যারা কিনা ধর্ষণাটা চাক্ষুস দেখছে। একজন নারীকে ধর্ষণ করবে আর দুইজন লোক সেটা দেখবে- এভাবে দুনিয়ার কোথাও ধর্ষণ হয় কিনা একমাত্র ইসলামই বলতে পারবে। রেহানার উচিত ছিল ঘটনার সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা পুরুষটিকে বলা যে, আপনি একটু সবুর করুন, আমি বাইরে থেকে দুজন পুরুষকে ডেকে আনি যারা এখানে দাঁড়িয়ে থেকে মজাটা দেখবে এবং পরে আমার হয়ে আদালতে সাক্ষি দিবে। দুর্ভাগ্য রেহানার। একইভাবে ইজরাইয়ের গোয়েল রাটজনও নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারে কেন সে মুসলিম হলো না এবং দেশে ইসলামী আদালত গঠিত হলো না…।
গোয়েল রাটজনের ২১ বিয়ে ইসলামী আদলতে আলোচ্য বিষয়ই হবে না। মুসলিমরা যদিও দাবী করে তাদের ধর্ম ৪টি বিয়ে সর্বচ্চ একজন পুরুষকে বেধে দিয়েছে। এটি আসলে একটি শুভংকরের ফাঁকি। আসল ব্যাপার হচ্ছে একজন মুমিন একসঙ্গে ৪টি স্ত্রী রাখতে পারবে- মানে সে যদি ৪টি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে ফের ৪টি স্ত্রী গ্রহণ করতে বাধা নেই! এই কৌশলে একজন মুসলিম পুরুষ হাজার হাজার বিয়ে করতে পারেন তাতে তার কোনই পাপ হবে না! হযরত মুহাম্মদের নাতি ইমাম হাসান ৩০০টি (অনেকের মতে ৮০টি) বিয়ে করেছেন এই রীতিকে ফলো করে জানা যায়। এছাড়া তো দাসীবাদী রইলই হিসাব ছাড়া। আগের পোস্টে দাসীদের বিষয়ে বিস্তারিত বলেছি বলে এই পোস্টে সেটা এড়ানো হলো। গোয়েল রাটজনের বিরুদ্ধে বড় একটা অভিযোগ সে নারী নিপিড়ন করেছে, যৌন নিপিড়ন করেছে। ইসলামী আদালত এটাকে কেমন করে অপরাধ হিসেবে নিবে যেখানে হাদিস বলছে: “সুনান আবু দাউদ, বই ১১ হাদিস ২১৪২: ওমর বিন খাত্তাব বলেছেন: নবী (দঃ) বলেছেন, “কোন স্বামীকে (পরকালে) প্রশ্ন করা হবে না কেন সে বৌকে পিটিয়েছিল।”।
ইসলামী আদালতে নারী নিপিড়ন বা নারীর যৌন নিপিড়ন কিভাবে গ্রাহ্য হবে যেখানে ইসলাম বলছে: “সহিহ্ মুসলিম, বই ৮, হাদিস ৩৩৬৭: আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, নবী দঃ) বলেছেন: যাঁর হাতে আমার জীবন (আল্লাহ) তাঁর নামে বলছি, যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, আর সে স্ত্রী সাড়া না দেয়, তবে সে স্বামী খুশী না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। ইমাম গাজ্জালী, বই এহিয়া উলুম আল দীন, ভলুম ১ পৃষ্ঠা ২৩৫: নিজের সমস্ত আত্মীয়, এমন কি নিজের থেকেও স্বামীকে বেশী প্রাধান্য দিতে হবে। যখনই স্বামীর ইচ্ছে হবে তখনই সে যাতে স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে সে জন্য স্ত্রী নিজেকে সর্বদা পরিষ্কার এবং তৈরি রাখবে। ইমাম শাফি শারিয়া আইন (উমদাত আল সালিক) থেকে, পৃষ্ঠা ৫২৫ আইন নম্বর এম-৫-১: স্বামীর যৌন-আহ্বানে স্ত্রীকে অনতিবিলম্বে সাড়া দিতে হবে যখনই সে ডাকবে, যদি শারীরিকভাবে সে স্ত্রী সক্ষম হয়। স্বামীর আহ্বানকে স্ত্রী তিনদিনের বেশী দেরি করাতে পারবে না। শারিয়া আইন, পৃষ্ঠা ৯৪ আইন নম্বর -১৩-৫: স্ত্রী যদি বলে তার মাসিক হয়েছে আর স্বামী যদি তা বিশ্বাস না করে, তাহলে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য আইনত: সিদ্ধ ”।
গোয়েল রাটজন একটি পিশাচ তাতে সন্দেহ নাই। তার বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এইরকমই পিশাচীয় যৌন রীতি মুসলিমদের মধ্যে আরবে প্রচলিত ছিল যা কিনা হযরত ওমর বাতিল করেন। প্রশ্ন উঠতে পারে ওমর কেমন করে কিসের ভিত্তিতে এসবকে বাতিল করেন? তিনি কি ওহি পেতেন? মালিকের মুয়াত্তা হাদিস ২৮.১৪.৩৩: ইয়াহিয়া—মালিক—ইবনে শিহাব—ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ—ইবনে উতবা ইবনে মাসুদ-তাঁর পিতা থেকে। ইয়াহিয়া বর্ণনা করলেন: উমর আল খাত্তাবকে জিজ্ঞাসা করা হল: এক ব্যক্তির কাছে এক ক্রীতদাসী ও ক্রীতদাসীর কন্যা আছে। এখন ঐ ব্যক্তি কি পারবে ক্রীতদাসী ও তার কন্যার সাথে পরপর সহবাস করতে? উমর বললেন: “আমি এ রকম করা পছন্দ করি না”। কিন্তু স্বয়ং খলিফাদের উদাহরণও নেক্কারজনক! হযরত আলী তার চাচাতো ভাই নবী মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাকেই যে বিয়ে করেছিলেন তা না, তিনি মোট ৮টি বৈধ বিয়ে করেছিলেন, তারচেয়েও উল্লেখ যোগ্য হলো তিনি নবী মুহম্মদের বড় মেয়ে জয়নবের কন্যাকেও বিয়ে করেছিলেন! হযরত ওমর মোট ১০টি বিয়ে করেছিলেন। এরমধ্যে উম্মে কুলসুমকে তিনি ৪-৫ বছর বয়েসে বিয়ে করেন। আর নবী মুহাম্মদের কথা উহ্য রাখলাম “নবী অবমাননার” ভয়ে!
রেহানার জন্য দু:খ এ জন্য যে তার দুর্ভাগ্য সে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে যেখানে তার ধর্ষণকারীকে ধরার কোন উপায় ছিল না। আমাদের সৌভাগ্য যে গোয়েল রাটজনের মত পিশাচ মুসলিম নন এবং কোন ইসলামী রাষ্ট্রে তার বাস নয়। হলে এই পিশাচটিকে অপরাধী বলে গ্রাহ্যই করা হতো না! যেমন কোটি কোটি আরব মুসলিমদের মধ্যে গোয়েল রাটজনরা বেঁচে আছে। তাদের কিছুই হয় না...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


