somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাওন সাফা
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অর্ন্তভূক্ত বৃত্তাকৃতির দ্বীপের মতন মতলব উত্তর উপজেলায় কোন এক অজপাড়া গাঁয়ে এক জনম দুঃখী মায়ের ঘরে আমার জন্ম।জন্মের আট মাস পর বাবা চলে গেলেন ফেরার দেশে। প্রতিকুল অবস্থার মধ্যেই মায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্ন মালা শিখে ..।

বাঙালী মুসলিম সমাজে "থার্টি-ফাস্ট নাইট"

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করে। ১লা জানুয়ারি পালনের ইতিহাস বাঙালী বা মুসলিম সংস্কৃতির বা কোন ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয়।তবুও সময়ের আবর্তে করতে হয় করব কিন্তুু নোংরামি করে নয়।

মধ্যযুগে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নববর্ষ শুরু হতো ২৫ মার্চ, তারা ধারণা করতো, এদিন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল যিশুমাতা মেরির কাছে যিশু খ্রিস্টের জন্মবার্তা জ্ঞাপন করে। অ্যাংলো-স্যাকসন ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে।

আজকে অনেক মুসলমান থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করছে। ইংরেজি নববর্ষ, বাংলা নববর্ষ ফসলী সনের নববর্ষসহ বিভিন্ন নববর্ষ পালন করছে। আর এতে করে তারা বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই সদৃশ্য রাখছে। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করছে।

আমরা অতি শীঘ্র ২০১৭তে পদার্পণ করতে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের জীবন থেকে পূর্ণ একটি বছর বিদায় নিতে যাচ্ছে। নতুন বছরকে নতুন চেতনায় গ্রহণ করতে হলে  মুহাসাবা ও আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই। অথচ এই সময় আত্মসমালোচনার পরিবর্তে আত্মবিস্মৃতির দৃষ্টান্তই প্রকটভাবে দেখা যায়।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশের শহর-নগরগুলোতে জমে ওঠে উদ্দাম নাচ-গানের আসর। আমাদের মিডিয়া একে আদর করে বলে ‘তারণ্যের উন্মাদনা’। যেন তরুণ মাত্রেরই উন্মাদ হওয়া অপরিহার্য।

এই উন্মাদনা এতটাই বাঁধভাঙ্গা রূপ ধারণ করে যে,রীতিমতো আইন্তশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। দৈনিক যুগান্তরের ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় এ সংক্রান্ত রিপোর্টের শিরোনাম ছিল-‘থার্টি ফার্স্ট নাইট : মাঠে ১২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী’। তাতে বলা হয়, ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে রাজধানীতে দূর্ভেদ্য নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলছে ঢাকা        মেট্রো পলিটন পুলিশ। এ রাতে উৎসবের নামে বেসামাল হয়ে পড়লেই জনসমাগমে‘জলকামান’ থেকে ছিটিয়ে দেওয়া হবে হিমশীতল পানি। ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশের পাশাপাশি এলিট ফোর্স র‌্যাবের পাঁচ হাজারেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীতেই থাকবেন দুই হাজার র‌্যাব সদস্য। প্রকাশ্যে মাতলামী করলেই অ্যাকশনে যাবে র‌্যাব। ক্লাব ও নামীদামী তারকা হোটেলগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ সবধরনের উন্মাদনা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি :নিয়েছে।’

এই উচ্ছৃঙ্খল পশ্চিমা কালচার বিগত দেড় দশক যাবত বাংলাদেশে চর্চিত হচ্ছে। এদেশের ঈমানদার নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী  হতে পারে?

মুসিলম পিতামাতার সন্তানরা এ রাতে ভেসে যায় আল্লাহর নাফরমানীর সয়লাবে। সর্বত্র ছেলেমেয়ের অবাধ মেলামেশা প্রকট রূপ ধারণ করে। তরুণ-তরুণীরা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়, রেস্তোরাঁ, পার্ক-উদ্যান, নাইট ক্লাব ইত্যাদিতে। বহু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে। গত কয়েক বছর আগে রাজধানী ঢাকার এক উদ্যানে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনার কথা তখন পত্র-পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হয়েছিল।

নাইট ক্লাব ও ‘অভিজাত’হোটেলগুলোতে বসে মদের আসর। তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করার জন্য থাকে নানা রকম আয়োজন। ফলে নারী ও মদে পঙ্কিল হয়ে ওঠে বছরের প্রথম দিনরাত্রিগুলো।

দৈনিক যুগান্তরের ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে-‘এ রাতে হোটেল সোনারগাও, শেরাটন, ঢাকা রিজেন্সি, রেডিসন ও হোটেল পূর্বাণীতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্লাব ও থ্রি স্টার হোটেলেও তরুণ-তরুণীদের দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় অফার। এসব অনুষ্ঠানে পানীয় ছাড়াও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। ইতিমধ্যেই এসব অনুষ্ঠানের টিকিট শেষ হয়ে গেছে।’

বলাবাহুল্য, পাপাচার ও  নাফরমানির  মধ্য দিয়ে যে বছরের সূচনা তা জাতির জীবনে কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা খুব সহজেই অনুমেয়।

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বুদ্ধিজীবী সমপ্রদায়

এই নোংরা কালচারটি আমদানী করেছেন এদেশেরই কিছু বুদ্ধিজীবী। এরা একটি শালীন সমাজের বুনিয়াদ গড়ার পরিবর্তে অশ্লীলতার ভাগাড় সৃষ্টি করতেই উৎসাহী। এরা একদিকে পহেলা বৈশাখের মাহাত্ম্য প্রচার করেন অন্যদিকে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’উদযাপনের উসকানী দিয়ে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তারাই আবার যুবশ্রেণীকে উপদেশ দেন্ত‘মাদক, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনকে না বলুন’।

প্রশ্ন এই যে, উচ্ছৃঙ্খলা ও পাপাচারের অসংখ্য উপলক্ষ তৈরি করে মাদক, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতন বন্ধ করা কি কোনোভাবেই সম্ভব?

একজন সাধারণ রুচিশীল মানুষও থার্টি ফার্স্ট নাইটের এই নোংরামি সমর্থন করতে পারেন না। এই ধরনের পাপাচার বন্ধ করতে সচেষ্ট হওয়া প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের অবশ্যকর্তব্য। আর একটি মুসলিম দেশের অভিভাবক হিসেবে দেশের সরকারের কর্তব্য এই ধরনের চরিত্রবিধ্বংসী বিজাতীয় উৎসব কঠোরহস্তেদমন করা। 



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×