somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় সুচিস্মিতা...

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুচিস্মিতা,
তোমার ফিনফিনে কেশতুল্য কোমল কায়াখানি কলমের কালিতে রুপ দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করেছি বহুবার। কি আশ্চর্য জানো? হয়তো কপল থেকে চিবুকে নামতে আমার কলমের কালি ফুরিয়েছে। হয়তো তোমার চোখের কাজলের সাথে আমার কলমের কালি লেপ্টে গিয়ে সে কি বিশ্রী কান্ড ঘটেছে। হয়তো ঠোটের কোনে লেগে থাকা কারও ভালোবাসা আমার দৃষ্টি আটকে দিয়েছে, বিমর্ষ মনে আর কলম চালাতে পারিনি। কাকচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে তোমার কাধ থেকে বুকের ওপরের ভাজে কল্পনায় আমার কয়েকফোটা ঘাম পড়েছে সত্য। তারপরেও না আমি তোমার রক্তবর্ন কানের অবয়ব একটুকু ব্যখ্যা করতে গিয়ে চেষ্টা করেই যাচ্ছি।

হয়তো তোমার নখের স্পর্শ আমার হাতে কতটা দাগ ফেলবে ভাবতে ভাবতে ঘুম পেয়ে বসেছে কত। পাতলা কাপড়ের ফাঁক দিয়ে পেট থেকে কোমরের ভাজ অব্দি ব্যক্ত করতে গিয়ে হয়তো একটা দমকা বাতাস বাতি নিভিয়ে দিয়েছে কতবার। তারপরেও না আমি তোমার কাধের স্পষ্ট তিলকটার অকল্পনীয় আকর্ষনের ব্যখ্যা লিখেই চলেছি।

শব্দহীনা,
ঝড়ো বাতাসের ধুলো ময়লাগুলোও তোমার ঈষৎ রক্ত জমাট বাধা গোড়ালী থেকে আমার চোখ সরাতে পারেনি। বহুবার, ঠিক বহুবার আমার কলম আটকে রয়েছে তোমার শব্দহীন পদে পদে। তোমার ডানহাতের তর্জনীর নখের লাল রঙটা ব্যক্ত করতে গিয়ে একবার কি কান্ডটাই না ঘটেছিলো জানো? তাহলে শোনো!

নাহ থাক। সামান্য রঙকে অসামান্য করে তুললে পাছে আমি তোমার নির্লিপ্ততায় ডুবে যাই। আমি হারিয়ে যাই বয়সের মাঝে। আমি ভুলে যাই আমার তৈরি শেকলে আমি বহুকাল আবদ্ধ।



এই যে এত রস, এত প্রেম কোথেকে আসে জানো তো? জানবে কিভাবে? তোমার চশমার ফাঁকে আড়চোখা দৃষ্টি যে কোনকালেই আমার দিকে ছিলোনা সে বিষয়ে কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিতই থাকি। পরম আনন্দে তোমার চোখের কোনের ভাজগুলোও না আমার গোনা হয়েছে হাজারবার। ডানপাশে তৃতীয় ভাজে ঈশ্বর লুকিয়ে আছেন। শ্রীমতি মঙ্গলাদেবী আমায় হাত ইশারা করে ডাকে। আমি কলম থামিয়ে দিয়ে আবারও চুপ হয়ে রই। কাধ বরাবর এলো কেশের একাংশ যখন সামনে মাড়িয়ে দাও, পিঠের ওপরে কাধের রঙচটা লোমগুলোও তখন হাহাকার করে ডাকে আমায়। সে কি মোহ, সে কি উন্মাদনা।

মিথ্যে বলবোনা, কোমরের নিম্নাংশ রচনায় বেশ উৎফুল্ল সাড়া দিয়েছিল কলমটা। কারন কি জানো? আর বাকি দশজন প্রকৃতির অলংকারের মত তুমি নও। কলমির ডালের মত তোমার নিতম্ব এমন অদ্ভুত কুৎসাকর্ষনীয় দোল খায়না। বরং সেটা উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয় শিরায় শিরায়, প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাঝে মাঝে কেন জানি মনে হয় হঠাৎ করেই একটা ঝড়ো বাতাসের ভার সহ্য করতে না পেরে তুমি আমার কোলে আছড়ে পড়বে। আমি ডানে বায়ে না ভেবে তোমায় কোমল আদরে আচ্ছাদিত করবো আমার ছায়ায়।

মেধাবিনী,
তোমাকে ব্যক্ত করার ব্যর্থ প্রয়াস চলছে সেই জনম জনম থেকেই। তোমার উত্তরসূরীদের কিঞ্চিত প্রকাশ না করতে পেরেও রবি দা হয়ে গেলেন কবিগুরু, মহাকবির খেতাব পেলেন আলাওল। এ কি! তুমি হাসছো? ভেবে দেখো তো এই অধম যদি একবারের জন্য হলেও তোমার বদনের মলিনতা রচনার মাঝে আবদ্ধ করতে পারে- কি অঘটনটাই না ঘটবে সেদিন?

মোহময়ী,
এতটুকু পরিষ্কার করে যাই। একদিন এই খেলা শেষ হবে, এই মেলা শেষ হবে। আমাদের গড়া নিয়মেই হয়তো তুমি আগেই মুক্তি পাবে। পৃথিবীর পরিসর এতটা ক্ষুদ্র হওয়া সত্বেও হয়তো দেখা হবেনা, হবেনা কোন কথা। হয়তো এই মোহ ভুলে আমি মন দেবো অন্য মোহে, হবেনা তাকিয়েও না তাকানোর ছলে তোমাকে দেখা। জগতের চিরাচরিত নিয়মানুসারে নতুন রচনার জন্য উৎসুক আমি আবারও কলম ধরবো। তবে আমার চাওয়া একটাই- আগামিতেও যেনো প্রথম অন্তরায় তুমিই থাকো, প্রথম সুরেও যেন দুটি অক্ষরই থাকে। বিশ্বাস করো, কামোদ্দীপ্ত চোখে তোমায় রচনা করার জোয়ারহীন ভালোবাসা আমার ভেতরে কোনকালেই কাজ করেনি। বরং আমি তোমায় ব্যক্ত করতে চেয়েছি অন্যভাবে। কারন আমি তোমাকে ভালোবাসি।।

-হয়তো!!!

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:০২
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

লিখেছেন মৌরি হক দোলা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×