somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় তরঙ্গ আসবে : আমরা কতটুকু সাবধান ?

২৭ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
করোনায় কাঁপছে সারাবিশ্ব।
এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় তরঙ্গ আসবে কোন কোন দেশে !




বিশেষজ্ঞরা সাবির্ক পরিস্হিতি বিবেচনা করে ৪৫টি দেশকে তিন ভাগে ভাগ করেছে৷
অন ট্র্যাক: অর্থাৎ সব কিছু স্বাভাবিক চলছে প্রায় ১৭টি দেশ,
দুই হল, ওয়ার্নিং সাইনস বা সতর্কতার লক্ষণ আছে এপর্যন্ত ১৩ টি দেশ ।
তিন নম্বরটি হল ডেঞ্জার জোন বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকি প্রবল , ১৫টি দেশ ৷
অন ট্র্যাক বা ঝুঁকি প্রায় নেই, এমন গোষ্ঠীতে রয়েছে, নিউজিল্যান্ড,অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশ সমূহ
ফ্রান্স, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলি ঝুঁকিপ্রবণ গোষ্ঠীতে রয়েছে৷
ওয়ার্নিং সাইনে আছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, ভারত,পাকিস্তানের মতো দেশগুলি।

দ্বিতীয় তরঙ্গ কখন ঘটবে?

এবার শীত কি আরও খারাপ সংবাদ আছে আমাদের জন্য ?
১৯১৮ সালে ভয়ংকর মহামারী স্প্যানিশ ফ্লুর দ্বিতীয় ধাপ অনেক বেশি ভয়াবহ ছিলো প্রথম ধাপের তুলনায়। সে হিসেবে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের হাত থেকে কীভাবে বাঁচা যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্বের সব দেশই।

ডাঃ টিল্ডসেলি বলেছিলেন যে, ব্যবস্থাগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল করা হলে আমরা আগস্টের শেষের দিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে দ্বিতীয় তরঙ্গ দিয়ে শেষ করতে পারি।যেহেতু শীতকালে অন্যান্য করোনভাইরাসগুলি আরও সহজেই ছড়িয়ে পড়ে, তাই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে পারে।নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর জোনাথন বলেছেন, "বসন্ত নিঃসন্দেহে আমাদের সহায়তা করেছিল।"

"দ্বিতীয় তরঙ্গ প্রায় অনিবার্য, বিশেষত আমরা শীতের মাসগুলিতে যাওয়ার সময়।"
"সরকারের পক্ষে চ্যালেঞ্জ হ'ল শিখরটি নিশ্চিত করা যে, এতটা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে এই অতিরিক্ত চাপ কিভাবে সামাল দেবে।"

অনেক দেশগুলির অনেকের মাঝে গা ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে, এন্টিবডি তৈরী , করোনার প্রকোপ কমে আসছে, কেউ কেউ
আবার বলছে, টিকার ও প্রয়োজন হবে না । অর্থনীতির ধাক্কা সামলাতে গিয়ে, কোন কোন দেশের সরকার এমন ভাব
দেখাচ্ছে যে, করোনা কিছুই না, যার শক্তি আছে বাচঁবে, যে মারা যাবার যাক, তাই বলে অর্থনীতির চাকা বন্ধ করা চলবে
না । স্বাস্হ্যবিধি মানতে হবে, যে বা যিনি মানবেন না , তার জন্য সরকারের কিছু করার নাই ।
বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্যর পর ব্রাজিল ও সেপথ অনুসরন করছে ।
ফলাফল আমরা চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি । ঐ দুদেশেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশী ।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল গত ৮ মার্চ।
সে হিসাবে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা চূড়ায় (পিক) যেতে আরো ৪২ দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চূড়ায় অবস্থানের স্থায়িত্ব একটা দীর্ঘ সময় ধরে হতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুন মাসের প্রথম দিন থেকেই গ্রাফটা খুব খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠছে। এটা সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়তে থাকবে।’
এরই মধ্যে করোনা শনাক্তের সংখ্যার দিক থেকে প্রথম ২০টি দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে বাংলাদেশ। ইতালি বা ব্রাজিলের কয়েকটি শহরে যেভাবে সংক্রমণের বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছিল, বাংলাদেশেও কোনো একটি জনপদে এমন সংক্রমণের বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরেকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে স্বল্প আয়ের মানুষরা খুব গাদাগাদি করে থাকে। এমন পরিবেশে আক্রান্তের সংখ্যায় বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।



আমাদের দেশে পিক টাইম কখন আসবে : ?
ইউরোপের দেশ ইতালিতে পিক টাইমের স্থায়িত্ব ছিল কম। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন দ্রুতগতিতে বেড়েছে, তেমনি দ্রুতগতিতে সেটা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে আবার বেশ দ্রুত নেমেও এসেছে। দেশটিতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৩০ জানুয়ারি। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার গ্রাফ হু হু করে ওপরের দিকেই উঠতে থাকে। মার্চের শেষের দিকে শনাক্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসতে থাকে। অর্থাৎ প্রথম কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে ধীরে ধীরে নেমে আসা, ইতালিতে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দুই মাসের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রথম শনাক্তের পর তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। আক্রান্তের হার কবে নাগাদ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে, সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।



.................Fearing second Covid-19 wave, Europe aims to train 'army' of medics ..............

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় কখন আসবে এবং সেটা কত সময় ধরে স্থায়ী হবে সেটা নির্ভর করবে, কত টেস্ট করা হচ্ছে, মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে, সরকার কতটা কঠোরতা আরোপ করছে এবং নজরদারি করছে—এসবের ওপর।
লকডাউনের কড়াকড়ি, যথাযথ আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার মাধ্যমে চীন ও ইতালি দ্রুত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দমন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সেই নীতি অনুসরণ করলে সংক্রমণের মাত্রা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আর এটা দক্ষ হাতে সফল হতে পারলে দ্বিতীয় দফা তরঙ্গ ধাক্কা সামলানো যাবে, এবং ততদিনে চীন বা ভারত থেকে আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব।




ভ্যাকসিনের অবস্হান কোথায় :

বিশ্বব্যাপী ভয়াল থাবা বিস্তার করা করোনা মহামারির কারণে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত মানবজাতি এখন উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছে একটা ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধকের। আপেক্ষায় আছেন কখন একটা সুখবর দেবেন বিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় কোটি ছুঁতে চলেছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মানুষের উপর প্রয়োগ করা হবে 'চ্যাডক্স' ভ্যাকসিন। এই পর্বে সফল হলেই ২০২০ সালের শেষ দিকে করোনার প্রতিষেধক বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
আর অক্সফোর্ডের এই ওষুধ উৎপাদন শুরু করার জন্য এরই মধ্যে নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে ভারতও। পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি হবে অক্সফোর্ডের করোনা প্রতিষেধক 'চ্যাডক্স'।
সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার দাবি, অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভাল ফল মিলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাইতেই কয়েক লক্ষ ভ্যাকসিন তারা তৈরি করে ফেলবে। প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ ডোজ তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে উৎপাদনের হার কয়েক লাখ হয়ে যাবে। গত ৩০ এপ্রিল কভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে চ্যাডক্সকে বাজি ধরেছিল অক্সফোর্ড এবং অস্ট্রাজেনেকো। দুই পর্বে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়। তখন দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ১৮ থেকে ৫৫ বছরের এক হাজার মানুষের উপর ট্রায়াল চলে। গবেষণায় জানা যাচ্ছে, এখনো পর্যন্ত তারা সকলেই সুস্থ। পরে ১০ হাজার ২৬০ জনের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই প্রতিষেধক। এই তালিকায় শিশু থেকে বয়স্ক – সকলেই ছিলেন। এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

এখন দেখা যাচ্ছে , আবুধাবি স্টেম সেল সেন্টার করোনা আক্রান্ত দুই হাজার রোগীর মধ্যে স্টেম সেল থেরাপি প্রয়োগ করার ফলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ২শ মানুষ।স্টেম সেল দিয়ে চিকিৎসা করা রোগীদের সাত দিনেরও কম সময়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৩.১ গুণ বেশি। যাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছে। যাদের ঝুঁকি মাঝারি থেকে বেশি রয়েছে তাদের বিনা মূল্যে এই চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দুবাই সরকার।

আরও কিছু আপডেট :
১) বিশ্বে প্রথমবারের মতো সম্ভাব্য করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হবে।
চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপের (সিএনবিজি) তৈরি এ ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ট্রায়াল হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার সিএনবিজি ও আমিরাতি গ্রুপ ৪২-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের এই ভ্যাকসিনের প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা সফল হয়েছে। তবে চীনে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় এবার বিদেশে এর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।তাদের ভ্যাকসিনটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে সফল হয়েছে। ব্যবহারকারীদের কারোরই তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং ২৮ দিনে দুটি ডোজ দেওয়ার পরই তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

২)অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি করা টিকাটি (ভ্যাকসিন) এবার ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। এ দেশ দুটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ বর্তমানে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকায় সেখানে টিকাটির পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত দুই হাজার এবং ব্রাজিলের সাওপাওলোতে দুই হাজার স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও রিও ডি জেনেইরোতে এক হাজার মানুষের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করা হবে।

আবার আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। করোনাভাইরাসের সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশটি।
দেশটির একদল বিজ্ঞানী কভিড-১৯ প্রতিরোধে সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন বলে শনিবার স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
দেশটির কভিড-১৯ রিসার্চ গ্রুপের প্রধান ডা. ওলাদিপো কোলাওলের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লিডারশিপ বলছে, এ ধরনের বৈশ্বিক মহামারির সমাধান প্রদানকারী হতে পারাটা আমাদের আবেগের। নাইজেরিয়ার এই চিকিৎসক বলেছেন, তাদের দলের আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিনটি এখন বাস্তবতা।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ওগবোমোশোর ট্রিনিটি ইমিউনোডিফিসিয়েন্ট ল্যাবরেটরি অ্যান্ড হেলিক্স বায়োজেন কনসাল্টের প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থায়নে এই ভ্যাকসিন গবেষণা প্রকল্পটির কাজ চলেছে।

পরিস্হিতি বিবেচনায় মনে হয় যে, চারিদিক থেকে করোনাকে কাবু করার ব্যবস্হা সম্পন্ন, তাইতো দেখলাম আজ ইংল্যান্ডে
ফুটবল (সকার) জিতে লিভার পুল দারুন উল্লসিত ।মনে হয় ঐ দেশের সরকার সকলের মানসিক স্বাস্হ্য মজবুত করার লক্ষ্যে
এভাবে অগ্রসর হচ্ছে, কিন্ত আমরা করোনার ভয়াবহতা ভুলে গেলে চলবে না , সে কারনে অবগত করার জন্য নীচের
ঘটনাটা না দিয়ে পারলাম না ।

সালমানের মৃত্যুতে ফেসবুকে এক হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর ডাক্তার মা শবনম তাহির।
সালমানের বাবাও প্রফেসর সালেম তাহিরও করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন।


পাকিস্তানের লাহোর হাসপাতালের গাইনোকোলজির অধ্যপক ডা. শবনম তাহির ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'গতকাল-আমাদের ডাক্তারি পড়ুয়া মাত্র ২১ বছরের প্রিয়তম সন্তানকে হারিয়েছি। এর চেয়ে বেদনার দিন কোনো মায়ের এই পৃথিবীতে নেই। প্রচণ্ড শোকের মাঝে অন্য সব মায়েদের এই বার্তা দেয়ার একমাত্র কারণ হলো- আর কোনো মাকে যেন এইভাবে তার সন্তানকে হারাতে না হয়। আমি শুধু মা না। আমি একজন ডাক্তার। আমার স্বামীও ডাক্তার। মাত্র ২১ বছরে আমাদের শোকের মাঝে রেখে চিরতরে চলে যাওয়া আমার ছেলেও মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।'
'আমার ছেলের শারীরিক কোনো সমস্যা ছিলো না। একজন স্বাস্থ্যবান তরতাজা যুবক ছিল। প্রচণ্ড মানসিক, শারীরিক শক্তি ছিল। বন্ধুবৎসল ছিল। সবসময় প্রাণোচ্ছল ছিল। পাশাপাশি সে তুখোড় মেধাবী একজন ছাত্র ছিল। মা-বাবার মতো ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে তার অধ্যয়নে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাঝে আমাদের জীবনের সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেল।'
'লকডাউনে সে কোথাও যায়নি। মাত্র দুবার পাঁচ মিনিটের জন্য নিজের গাড়িতে করে বাইরে যায়। আর ঘরে ফেরার সাথে-সাথে নিজের শরীরকে ভালো করে ধুয়েছে। সচেতনতার কোনো ঘাটতি ছিলো না-আমাদের পরিবারে। যেহেতু সে নিজেই ডাক্তারি পড়ছে আর আমরা ডাক্তারি পেশায় আছি। ঈদের আগের দিন রাতে সে দুই বন্ধুর সাথে - বড়জোড় দুই-আড়াই ঘণ্টার জন্য বাইরে যায়। এর পর ঘরে এসে গোসল করে শুতে যায়। পরদিন সকালে সে সামান্য মাথা ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে। আমি ওকে Panadol tablet খেতে দেই।'

'মাথা ব্যথা না কমলে- চারপাশে ঘটা বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আমি ওর শরীরের তাপমাত্রা নেই। দেখি ৯৯ ডিগ্রি। সাথে সাথে ওকে আমি অন্য একটা ঘরে আলাদা করে দেই। চব্বিশ ঘণ্টার ভেতরে ওর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে হয় ১০১ । আমি ওকে Panadol+Brufen দেই। সে তার ঘাড়েও ব্যথা অনুভব করে। আমার Pediatrician স্বামী মনে করেন -ছেলের হয়তোবা Meningitis হতে পারে। কিন্তু ওর কোনো বমি বা বমির কোনো ভাব নেই। আমরা দ্রুত টেস্টের জন্য ব্লাড স্যাম্পল পাঠাই এবং ডাক্তাররা বলেন -ওর Bacterial Meningitis হয়েছে এবং এন্টিবায়োটিকস দেয়া শুরু করি এবং আধ ঘণ্টার ভেতরে ওকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করি।'

'সবসময় আমি ওর সাথে ছিলাম। ওর কোনো ঠাণ্ডা, গলা ব্যথা, কাশি, বুক ব্যথা, পেট ব্যথা এসবের কিছুই ছিল না। ডাক্তাররা মনে করছেন Meningitis-ই হয়েছে। নিউরোসার্জন এসে দেখে গেলেন এবং সিটি স্ক্যান করা হলো নিশ্চিত হতে আমার ছেলের অন্য কোনো সমস্যা নেই। এ সময় লক্ষ করলাম ওর একটা চোখের কিছু অংশ ফোলা। বুকের এক্সরে করে দেখা যায় ছোট একটা দাগ। এরই মধ্যে কভিডের রেজাল্ট আসে। আমার ছেলে করোনায় আক্রান্ত। পরের ৮- ১০ ঘণ্টা ছিল জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণার দিন। ওর হার্ট রেট, রেসপাইরেটরি রেট বাড়ছেই, অক্সিজেন লেভেল ড্রপ করছে। প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে ছেলে আমাদের চোখের সামনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা কেউ কিছুই করতে পারছি না। কিছু বুঝে ওঠার আগে ছেলে চোখ বন্ধ করে। আমাদের ছেড়ে চলে যায়।'

'এরই মধ্যে আমার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাকেও আলাদা করা হয়। মেডিক্যাল প্রসিডিউর অনুযায়ী আমার সন্তান সালমানের জানাজা, দাফন হয়। কাউকে জড়িয়ে ধরে যে কাঁদবো -সেই সুযোগও হয়নি। কেউ হাসপাতালে ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। কেউ লাশের গাড়িতে করে সরাসরি কবরস্থান, শশ্মানে চলে যাচ্ছে। কারো পাশে কেউ নেই। আমার সন্তানকে তো আমরা হারিয়েছি। এই শোক এই পৃথিবীতে আর কোনোদিনও কাটিয়ে উঠতে পারবো না। তাই নিজের সন্তানকে হারানোর আগে দয়া করে আমার কথাগুলো শুনুন।'

'এক. ভুলেও মনে করবেন না যে- আপনার করোনা হবে না। আপনার নিজের না হলেও হয়তোবা আপনি করোনা ভাইরাসের বহনকারী হবেন। আমাদের যেটা মনে হচ্ছে, আমি আর আমার স্বামী প্রতিদিন নিজ নিজ কাজে গেছি। আর হয়তোবা আমরা নিজেরাই আমাদের সন্তানের জন্য বহন করে নিয়ে এসেছি। আর বেচারা ঘরে বসে থেকেই আমাদের কাছ থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

দুই. এখনো সময় আছে সতর্ক হোন। অধৈর্য্য হয়ে ঢিলেঢালা হয়ে চলাটা আপনার জন্য ঠিক মনে করলেও ভাইরাস কিন্তু সেটা মনে করছে না। তাই যাবতীয় জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। এখন জীবনের তাগিদে যদি কাউকে বাইরে যেতে হয়- সেক্ষেত্রে কি বলা দরকার সেটা আমার জানা নেই।

তিন. একজন ডাক্তার হিসাবে infertility treatment'র জন্য আমি প্রতিদিন ফোন কল পাচ্ছি। আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ দশবছর অপেক্ষা করতে পেরেছেন। সারা জীবন নিজের জন্য বাঁচতে এবং অন্যকে বাঁচাতে কেন মাত্র আরো ছয়টি মাস অপেক্ষা করতে পারছেন না। প্লিজ ধৈর্য্য ধরুন।

চার. সরকারের দেওয়া নির্দেশনা খুবই কড়াকড়িভাবে মেনে চলুন। একজন আরেক জনকে দোষারূপ করলে কিছুই হবে না। নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক না হলে এই মৃত্যু মহামারি আটকানো যাবে না। হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পেয়ে, নিজে ডাক্তার, নিজের স্বামী ডাক্তার হওয়ার পরও আমাদের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি।

পাঁচ. আপনাদের মাঝে যারা বলছেন- এসব মিথ্যা। শুধু টাকা আয় করবার কৌশল। তাদেরকে বলছি- আমাদের সব সম্পত্তি দিয়ে দিতে চাই। শুধু আমাদের সন্তানকে একটিবার ফিরিয়ে দিন।

ছয়. যারা মনে করছেন- আমাদের আর করোনা হবে না। হওয়ার থাকলে এতো দিনে হয়ে যেতো। বিশ্বাস করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন শেষ হয়ে যাবে। কিছুই বুঝতে পারবেন না। জীবন-মরণ আমাদের হাতে না। কিন্তু সাবধান থাকা আমাদের হাতে। তাই সতর্ক হোন, সাবধান হোন। আর কোনো মাকে যেনো আমার মতো হাহাকার করতে না হয়।'

সর্বশেষে একটি বিষ্য়কর ঘটনা বলছি :

কভিড-১৯ থেকে কিভাবে বেঁচে উঠে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বেলজিয়ামের ডাক্তার অ্যান্তয়নে সাসিনে। তিন সপ্তাহ পর কোমা থেকে ফিরেছেন। ব্রাসেলস এর ডেল্টা চিরেক হাসপাতালের এই চিকিৎসক বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছিলাম, আর কখনই জেগে উঠবো না।’
অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্যরকম পরিস্থিতি। আমার বাবা চারবছর আগে মারা গিয়েছিলেন। এখন আমি যখন প্রায় মারা যাচ্ছি, স্বপ্নে বাবা আসলেন। আমি অনেক সময় ধরে তার সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের সেবা করার মিশনের কথা স্বরণ করিয়ে দিলেন। এরপরই যেনো দ্রুত সুস্হ হয়ে নতুন আরেকটি জীবন নিয়ে ফিরে আসলাম।’


.................সমুদ্রতটে দাড়ালে দেখা যায়, প্রথম তরঙ্গর পর দ্বিতীয় তরঙ্গ আরও উচুঁ আর ভয়ণ্কর । ...........




......................... BBC News :2nd Wave .............................
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:০২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাঁচপোকা লাল টিপ অথবা ইচ্ছেপদ্ম...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২৯



‘হৃদয়ে ক্ষত- তা তোমার কারণেই
তাই, তুমিই সেলাই করে দেবে-
বিনা মজুরিতে।
কিছু নেই এমন যা দিতে পারি তোমাকে;
ঠান্ডা মাথায় দেখেছি অনেক ভেবে!
যদি নাও দাও তবে থাকুক এ ক্ষত
এ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে নিকাহে মুত'আ বা সাময়িক বিবাহের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৪৬

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অন্তর্জাল।

ইসলামে নিকাহে মুত'আ বা সাময়িক বিবাহের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

নিকাহে মুত'আ কাকে বলে?

আরবি: نكاح المتعة‎‎, English: 'wedlease'। নিকাহ মানে, বিয়ে, বিবাহ। আর মুত'আ অর্থ, উপকার ভোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বন্ধু, কি খবর বল...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০১


সময়ের হাওয়া গায়ে মেখে ভাসতে ভাসতে যখন এই অব্দি এসে পড়েছি, তখন কখনও কখনও পেছনে ফিরতে ইচ্ছে হয় বৈকি। কদাচিৎ ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতাগুলো বেশ উঞ্চ এক ওম ছড়িয়ে দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ যা পারেনি নেপাল তা করিয়ে দেখালো!

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ১২ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:২৭



ভারতীয় যত টিভি চ্যানেল আছে তা প্রায় সবগুলোই বাধাহীন ভাবে বাংলাদেশে সম্প্রাচারিত হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশে একটি টিভি চ্যানেলও ভারতে সম্প্রচার করতে দেওয়া হয়না। ভারতের কিছু কিছু চ্যানেলের মান অত্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যবধান

লিখেছেন মুক্তা নীল, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৭




পারুল আপা আমাদের সকলের একজন প্রিয় আপা। তিনি সকল ছোটদের খুবই স্নেহ আদর ও আবদার পূরণে একধাপ এগিয়ে থাকতেন। অতি নম্র ও ভদ্র তার কারণে বাড়ির গুরুজনদের কাছে এই আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×