অণুগল্প
আয়না
স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া
লোকটি কোনদিন আয়নায় তার মুখ তো দূরের কথা শরীরও দেখেনি। তার কাছে মনে হতো, সে তেমন স্মার্ট না। তার খালি ভাবনায় আসতো আমরা যেভাবে সিনেমার নায়কদের মতোন করে স্মার্ট নির্ণয় করি আর কি। মানুষের মুখ বা শরীর দেখতে আকর্ষণীয় না হলে যে সে মনে স্মার্ট হতে পারেন, এমন কিন্তু আমরা ভাবতে পারি না। আমরা সিনেমার মতো করে প্রেমিক প্রেমিকা নির্ণয় করি। অর্থাৎ সিনেমা দেখতে দেখতে যে নায়ক বা নায়িকাদের আমাদের ভালো লাগে তাদেরই মতো দেখতে মানুষদের আমরা ভালোবাসি। এখানে সেলুলয়েডের দেখা জীবনের একটা পরোক্ষ প্রভাব কাজ করে। অথচ আমরা নিজেরা নিজেদের আয়নায় প্রত্যেকেই নায়ক ছাড়া ভিলেন কখনোই ভাবতে পছন্দ করিনা। অথচ এই নায়ক নায়ক চেহারা নিয়েই বাস্তব জীবনে কত ভিলেন সুলভ কাজ করি তার কিন্তু খবরই রাখি না। অথচ প্রত্যেক মানুষেরই একটা লুকানো আয়না আছে, যেটাতে দেখে নেয়া যায় নিজের সবকিছু। সেই আয়নাটা হলো মন। আমরা মনের খবর ক’জন রাখি। অথচ বাস্তবের আয়নায় নিজেকে দেখে নিই প্রায় প্রত্যেক দিনই। আর অন্য আয়নাটা পড়ে থাকে তার মনের মানুষের খবর নেয়ার জন্য। আমরা কজনই বা তার খবর রাখি?। এইসব ভাবনা লোকটিকে প্রায় আকঁড়ে থাকতো। তাই লোকটি কোনদিন আর আয়নায় নিজের মুখ দেখেনি। কারণ তার কাছে আয়নার কোন মূল্য নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


