somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিন্দিতা ও একটি কবিতা।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যখন অফিসে প্রথম অনিন্দিতাকে দেখি তখন তার সৌন্দর্যে একদম মুগ্ধ বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম। পরে যখন জানতে পারি তার ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া একটি মেয়ে আছে তখন বিস্ময়ের মাএা আরো বেড়ে গিয়েছিলো। ছিপছিপে লম্বা, ফর্সা,টিকালো নাক আর একদম সোজা, ঘন কালো কোমর ছারানো চুলে তাকে দেখাতো ঠিক ফিল্মের নায়িকার মত। তার মেদহীন সুন্দর দেহে একরঙ্গা সিল্কের শাড়িগুলো আরোবেশি অভিজাত হয়ে ধরা দিত। কম্পিটারের মনিটরে যখন একটানা তাকিয়ে কাজ করে যেত, তখন দেখলে মনে হত, অভিমানে দূর দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া কোন রাজকন্যা। ভিতরের বিষন্নতাটা প্রায়ই হাসিখুশি মুখকে ফাঁকি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইতো। কি করে জানিনা আমরা খুব ঘনিষ্ট হয়ে গেলাম। একসঙ্গে লান্চ করা দিয়ে শুরু তারপর একসঙ্গে বাসায় ফেরা। ওর আর আমার বাসা ছিল একই এলাকাতে উত্তরায়।মাঝে মাঝে ট্রেনে চরে যখন যেতাম মনে হত এই ট্রেন যেন আমাদের পৃথীবির শেষ প্রান্ত সীমায় নিয়ে যাবে। আসলে আমরা দুজনেই হারিয়ে যেতে চাইতাম।
একদিন এক বিষন্ন বিকেলে আমরা বসেছি অফিস ক্যান্টিনে চা খেতে। এ সময়টাতে কেউ আসেনা বলেই আমরা প্রায়ই এখানে এসে কিছুটা সময় চা খেয়ে গল্প করে কাটাতাম। অনেক সময়ই আমার প্রিয় কোন কবিতার লাইনও তাকে শোনাতে হত। সেদিনও ও শুনছিল হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি তার মুখটা একদম ব্লটিংপেপার দিয়ে শুষে নেয়া বিবর্ন সুখনো পাতার মত দেখাচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই আাস্তে আস্তে বললো, তার একটা স্বপ্ন ছিলো যে,তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে সময়ে অসময়ে তাকে কবিতা আবৃতি করে শোনাবে। তার বিখ্যাত প্রফেসর স্বামী কোনদিনও তার স্বপ্নের খোঁজ রাখেনি। তার ভালো লাগা মন্দ লাগার কোন দামও তার স্বামীর কাছে ছিলো না। তার স্বামীর রুক্ষ স্বভাবের কাছে কবিতা আবৃতি করে শোনানোর আশা করাটাও বাতুলতা মাএ। সেটাও না হয় সে মেনে নিয়েছিলো। কিন্তু কোন এক রাতে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় কবিতা আবৃতির শব্দে। শব্দটা আসছে পাশের স্ট্যাডিরুম থেকে। সেখানে গিয়ে খুব অবাক হয়ে সে দেখে , তার স্বামী তার ছাএির হাত ধরে উদাত্ব কন্ঠে কবিতা আবৃতি করছে
আমাকে একটি কথা দাও যা আকাশের মতো
সহজ মহৎ বিশাল,
গভীর; – সমস্ত ক্লান্ত হতাহত গৃহবলিভুকদের রক্তে
মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন,
আমি যাকে আবহমান কাল ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর।
সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো:
সেই দিনের – আলোর অন্তহীন এঞ্জিন চঞ্চল ডানার মতন
সেই উজ্জ্বল পাখিনীর – পাখির সমস্ত পিপাসাকে যে
অগ্নির মতো প্রদীপ্ত দেখে অন্তিমশরীরিণী মোমের মতন।
আর ছাএি প্রশ্রয়ের হাসি দিয়ে প্রায় গা ঘেঁষে বসে সে আবৃতি উপভোগ করছে। দৃশ্যটা তাকে এতই ব্যথিত করেছিলো যে, আজও যেন সে তার বুকের ভিতর ভাঙ্গনের শব্দটা স্পষ্ট শুনতে পায়। আমি এত রাতে ছাএির উপস্হিতি নিয়ে অন্যরকম কিছুর ইঙ্গিত দিলাম। সে জানালো প্রায়ই নাকি ছাএিরা থিসিস পেপারের জন্য অনেক রাত পর্যন্ত থাকে। ভিতরে কি হয় সেটা জানার চেষ্টা সে কখনোই করেনি। এসবে সে নির্লিপ্ত। এসব নিয়ে কষ্ট পাওয়ার চিন্তা সে অনেক আগেই সে ছেড়ে দিয়েছে ,দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে কোনরকম শারীরিক সংসর্গও নেই। সেই নিয়ে তার তেমন কোন দুঃখবোধও নেই। তার যাবতীয় কষ্ট যেন আটকে আছে ঐ একটা মাএ কবিতা আবৃতিতেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×