somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুখ ০১৭০৩৩০৬৩৬৬

০৩ রা জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুখ
সাদ্দাম ও তুষার একত্রে তাঁদের এলাকার বাস স্ট্যান্ডে হেটে হেটে যাচ্ছে । এমন সময় এক ছেলে সাদ্দামকে ডাক দিল “এই যে ভাই,ফয়সাল ভাই কি কাজটা ঠিক করছে?”
সাদ্দাম বলল, কি কাজ ?
আমি তাঁর জন্য ‘ক’ ও ‘খ’ বাস কোম্পানিতে চাকরীর জন্য সুপারিশ করছিলাম । ‘ক’ কোম্পানিতে চাকরী হইছে সে ট্রেনিং করতাছিল। আমি তাকে ট্রেনিং করার অবস্থায় তার বেতনের ব্যবস্থা করছি। ভাইতো কথা দিয়া কথা রাখে না ।
সাদ্দাম বলল,আমিও তাঁর জন্য সুপারিশ করছিলাম । তাঁর এ ধরনের আচরণের জন্য হতাশ হয়ে আর তাকে সাহায্য করতে পারি নাই ।
ছেলেটি তুষারের দিকে তাকিয়ে বলছে,ভাই শোনেন, যে গাছ ফল দেয় ঐ গাছ কাইটা গোরাতে পানি দিলে ঐ গাছ কি হইবো ?
তুষার মাথা নাড়িয়ে বলল “না” ।
সাদ্দাম বলল,ফয়সালের জন্য আমি কয়েক জনের কাছে কথা দিয়া কথা রাখতে পারি নাই । সে এমন কাজও করছিল যে তাঁর শালীর ও লাভারের গেঞ্জাম আমার মিটমাট করতে হইছে । তাঁর বন্ধুর বন্ধু মাইর খায় আর আমাকে বলে সে মাইর খাইছে । এ কথা শুনে আমি মারপিট করছি ।
ঐ ছেলে বলল, যার দরকার তাঁর গুরুত্ব দেওয়া উচিত না যাকে দিয়া স্বার্থ আদায় করব তাঁর গুরুত্ব দেয়া উচিত ?
সাদ্দাম বলল, ওর মাথা নষ্ট, আমরা যারা বন্ধু ছিলাম কারও ওর সাথে সম্পর্ক নাই । ওর জবানের ঠিক নাই । আমাদের এলাকার সমবয়সী সবাই তাকে ভয় পাইত। কারণ সে যদি একটা ফোন করত ৬০-৮০ জন ছেলে আইসা ভইরা যাইত । আর এখন সম্পূর্ণ ঊল্টা । যার কোনো জবানের মূল্য নাই তাকে কেঊ পছন্দ করে না ।
তুষার বলল, এটাই স্বাভাবিক ।
ঐ ছেলে বলল, ও নাকি র্যা।বের লাত্থানি খাইছে ।
সাদ্দাম হেসে বলল,এটা সত্য ।
আমরাও কি কম খাইছি। ১০-১২ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তবুও কাজ করছি,কথা দিয়া কথা রাখছি। আচ্ছা ধরে নিলাম
সে অসুস্থ্য । মোবাইলে আমাকে বলছে ঔষুধ খাইয়া শুইয়া আছে কিন্তু আমি যখন তাঁর বাসার সামনে গেলাম সে পুরি নিয়া বাসায় ঢুকতাছিল। প্যাকেটের সাইজ দেইখা মনে হল ২০-২৫ টা পুরি । সে আমাকে বলছিল তাঁর নাকি টাকা নাই ।
তাঁরা লক্ষ করল ছেলেটির হাতে সাদা কাগজ দ্বারা মোড়ান কোন এক বস্তু ।
ঐ ছেলেটি বলল,গতকাল বাস স্ট্যান্ডে দুইটা মোবাইল ঠেক দিছি (ছিন্তাই) । আর কলেজের সামনে একটা মেয়ের ঘারে সুই দুকাইছি আর মাঠে নিয়া আকাম করছি ।
তুষার জিজ্ঞেস করল, মেয়েটা কি সুন্দরী ছিল ?
সাদ্দাম বলল, ওদের যখন মাথার তাঁর ছিরে তখন সুন্দরী-অসুন্দরী বোঝে না । যা পায় তাই ধরে ।
তাঁরা হেটে যেতে যেতে ছেলেটি হাতের শুই ফেলে দিল। বাস স্ট্যান্ডের চায়ের দোকানে গিয়ে বসল ।
চা পান প্রায় শেষ,এমন সময় লম্বা ও কাল একটি ছেলে এসে একটু দূরে দারাল । সাদ্দাম তাঁকে হাত উঠিয়ে সালাম দিল । সাদ্দাম তাঁর কাছে গিয়ে কথা বলছে ।
ঐ ছেলেটি বলল,আমার বড় ভাই অপু আর আমার নাম সীমান্ত।
তুষার বলল, দুই জনের চেহারায় অনেক মিল আছে ।
সীমান্ত বলল, সাদ্দাম ভাইদের বন্ধু-বান্ধবের জবানের ঠিক নাই । আজকে সকালে আমরা দুই ভাই চাপাটি নিয়া একজন আরেক জনকে খুন করতে চাইছিলাম । মাঝখানে আম্মা আইছে আর কিছু করতে পারলাম না ।
তাঁর মানে আপনারা মা’কে অনেক ভালোবাসেন ও সম্মান করেন।
না,রাগ উঠলে আবার ছারি না ।
আপনার ভাইয়ের সাথে চাপাটি দিয়ে মারপিট করতে চেয়েও করলেন না । কারন আপনাদের মা বাধা দিল । আর মারপিট না করে আপনারা আপনাদের মা’কে সম্মান করেছেন।
সীমান্ত তুষারের কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ হয়ে ছিল । হঠাৎ করে সুমন চায়ের দোকানের বেঞ্চের নিচে বসে গেল । ঠিক পালাতক আসামীর মত ।
তুষার বলল,কি হল?
আব্বা যাইতাছে,সম্ভবত খাইতে আইছিল ।
বাবাকে দেখার সাথে সাথে তাঁর ভাইকেও আড়াল হতে বলল ।
বুঝতে পেরে তুষার আর কথা বলল না । কঠিন সমস্যা তাই সে এমন করেছে ।
বাবা চলে যাওয়ার পর সে আবার ঠিক ভাবে বসল ।
সীমান্ত ও অপু দেখতে কাল । সীমান্ত নীল রঙের টি-শার্ট আর অপু কাল রঙের টি-শার্ট ও কাল জিন্স পরা ছিল আর পায়ে ছিল পুরনো স্যান্ডেল ।
আমি খুব খারাপ । ইন্ডিয়ায় আমাদের বাড়ী আছে । বাড়ীর কারণে আমি আমার মামাকে জবাই দিছিলাম । ঐ রাত্রে আমরা ছিলাম তিন জন । দুই জন দুই হাতে ধরছে আর আমি জবাই দিছি । মামার ভাগ্য খুব ভাল যে ঐ মুহূর্তে আমি আমার মা’র মুখ মামার চেহারায় দেখছি । দেখার পর আর ভাল করে কাটতে পারলাম না । চলে আসলাম । হাসপাতালে নেওয়ার পর বাইচ্ছা গেছে ।
মনে মনে তুষার বলছিল,আমাকে ভয় দেখাচ্ছে না নিজের পরিচয় দিচ্ছে সে যে একটা অমানুষ ।



সীমান্ত অমানুষ হলেও সে কিন্তু তাঁর মাকে অনেক বেশী ভালোবাসে ও সম্মান করে । এর প্রমাণ হল মামার মুখে মায়ের ছবি দেখতে পেয়ে সম্পূর্ণ জবাই না করা । আমরা যারা ভাল মানুষ আছি আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা প্রতিনিয়ত মা’র সাথে কম বেশী খারাপ আচরণ করি । আমি মনে করি মায়ের সাথে খারাপ আচরণ সীমান্তের অসম্পূর্ণ জবাই থেকেও অধিকতর খারাপ ।



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×