somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবচেয়ে পুরনো সৃতি.. 8-| :-B

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখ দুটো বন্ধ করে নীরবে গভীর মনোযোগ দিয়ে, কিসের যেন আওয়াজ শোনার চেষ্টা করছি ।

প্রতিনিয়ত বাতাস মুখে এসে বারী খাচ্ছে, কেমন জানি অদ্ভুত একটা অনুভুতি ।

হাল্কা চোখ খুললেই অতি দ্রুত পাশকাটিয়ে যাওয়া ল্যাম্পপোষ্টের আলো চোখে লাগছে, আলসেমির দরুন আপ্নাআপ্নি চোখটা বন্ধ করে নিচ্ছি ।

বিশ্ব বিচিত্রার সবকিছুর যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুভুত হচ্ছে, কানে বাজছে। গাড়ির ইঞ্জিনের হুংকার, পায়ের শিরশিরানি, বাতাসের সাথে ধেয়ে আশা বালুকণা, গ্লাসের একে অপরের সাথে সংঘর্ষ, মাথার ভিতরে অদ্ভুত রকমের একটা চাপ, যেন দেহের তুলনায় মাথাটা খুব ভারী হয়ে গেছে । অনুভব করতে করতেই অবচেতন মনে প্রবেশ করলাম, মনে হচ্ছে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি।

সত্যি কি? সত্যি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিনাতো ?

“আম্মু, এই আম্মু, আম্মু, শুনতে পাচ্ছ ? আমার না খুব খারাপ লাগছে, আম্মু, এই আম্মু, আম্মুউউউ”

খুব বলতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আওয়াজ বের হচ্ছেনা কেন ? ঠোঁট নরছে না, মাথাটা আরও ভারী হয়ে আসছে ।

উফফ! খুব ব্যাথা করছে, ধীরেধীরে যেন পুরো শরীরটা নিথর হয়ে যাচ্ছে ।আছতে আছতে চোখের সামনে সব কিছু ঘোলা হয়ে যাচ্ছে, নিরব, নিথর, নিছতব্ধ ।

আধো আধো চোখটা খোলার চেষ্টা করছি, তলপেটের নীচটা কিছুতেই অনুভব করতে পারছি না;

মাথার উপরে তাকাতেই টের পেলাম আমি কোন বাড়িতে আছি, বিছানায় শুয়ে আছি।

বাহিরে কে যেন কথা বলছে, আম্মু না!! হ্যাঁ, আম্মুই তো । গায়ের সমস্থ শক্তি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করলাম ।

কিন্তু পুরো দেহটা কে যেন বিছানার সাথে চেপে ধরে আছে; নাহ! পারছি না ।

খুব কষ্টে বাম হাতটা তলপেটের নীচে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম, গোপন অঙ্গে হাতটা লাগতেই অসম্ভব ব্যাথা বিদ্যুৎ বেগে মাথায় আঘাত করলো ।

মাথাটা তুলে দেখি জায়গাটায়, জায়গাটায় অনেক রক্ত, জমাট বেঁধে আছে, শক্ত হয়ে দানা বেঁধেছে । ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম ।

হকচকিতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো; সূর্যের আলো মুখে লাগতেই বিরক্তিতে চোখটা বন্ধ করে ফেললাম, সকাল হয়ে গেছে । ধুর ছ্যাই ! স্বপ্ন দেখছিলাম এতক্ষণ ।

।

পাশ ফিরে দেখি আম্মু এখনও ঘুমচ্ছে, এত্ত কিছু হয়ে গেল,আর তুমি টেরই পেলেনা মা? মনে মনে অভিমান নিয়ে ভাবলাম যাক, বেঁচে আছি তাহলে । বাসের সীটে আবার হেলান দিয়ে শুয়ে পরলাম, গন্তব্য এখনও অনেক দেরী । এই প্রথম নানু বাড়িতে যাচ্ছি, ওখানকার মানুষজন যে কেমন কি হবে তাই ভাবছি মনে মনে । কিন্তু ভয় হচ্ছে, একটু আগে যে স্বপ্নটা দেখলাম, তা যদি সত্যি হয় ?

জানালার কার্নিশে মাথাটা এলিয়ে দিলাম, থুঁতি রেখে আছতে আছতে বাহিরে তাকাতে চেষ্টা করলাম। আবছা আবছা থেকে সোনালি সকালটা স্পষ্ট হতে শুরু করলো, হাত রেখে ভালো করে জায়গাটা তৈরি করে নিলাম ।

আজ এতো দিন পরে সুযোগ হয়েছে, সেই জিনিসটা দেখার, এতো দিন যার গল্প শুনে এসেছি মার কাছে। মা বলেছিল সেটি দেখতে নাকি, অনেএএএএএএক সুন্দর, বিশাল বড়, এত্ত উঁচু যে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখাই যায়না। আর ঠিক তার নিচ দিয়ে বয়ে গেছে এক বিশাল নদী, সেই নদীতে আছে অনেক দৈত্য দানব আর মানুষ খেকো বিশাল বিশাল মাছ।

কিন্তু, এখনও সেটা আসছেনা কেন ? মার কাছে কতদিন শুনেছি, নদীর গল্প, সমুদ্রের গল্প, ইয়া বড় বড় মাছের গল্প, বিশাল বিশাল নৌকার গল্প । আজ কতদিন পর সেই স্বপ্ন পুরন হতে যাচ্ছে কিন্তু কই? কই সেই দৈবিক বস্তু?

কই সেই ‘যমুনা সেতু’ ?

মা বলেছিল, নানু বাড়ি যাওয়ার পথেই যমুনা সেতু পরবে, আমাদের সেতুর উপর দিয়ে পার হতে হবে। কিন্তু সেতু এখনও আসছেনা কেন ? আচ্ছা, ঘুমের মধ্যে সেতু পার হয়ে যাইনি তো?

আম্মু, এই আম্মু, আম্মু, আর কত দেরী মা, সেতু আসতে? আমরা কি সেতু পার হয়ে গেছি ?

মা চোখ খুলল, আলতো হাঁসি দিয়ে মা আমাকে কাছে টেনে নিল । ইশসসস, কি মমতা মাখানো সে হাঁসি, যে হাসিটা আমার সব চেয়ে বেশি ভালো লাগে, যার জন্য মাকে আমি এত্ত ভালবাসি। আর থাকতে পারলাম না,মার গলাটা জোরায় ধরলাম ।

বলনা, কখন আসবে সেতুটা ?

মা বলল; এইতো বাবা, আর কিছুক্ষণ, তার পরেই সেতু এসে পরবে । :-B :-B
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×