somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শূন্য মন,অদ্ভূত ভাবন !

০৬ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শূন্য মন,অদ্ভূত ভাবন !

আট’টা মাস গেল।কোন সুখকর মুহূর্তের দেখা নাই।একে একে বন্ধুদের সবাই বিদায় নিল।বন্ধু?না না বন্ধু হতে পারে না।যে সম্পর্ক জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধে থাকে তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক।আর এ সম্পর্কের পাত্র-পাত্রী একে-অপরের বন্ধু।কিন্তু তারা তো সংকীর্ণতার ঊর্ধে উঠতে পারেনি।তাহলে ইমরোজ কেন বন্ধু বলতে যাব?আবার কাঁচ জাতীয় কিছু ভাঙলে যেমন জোড়া লাগলেও দাগ মোচা যায় না ঠিক তেমন যে সম্পর্ক হৃদয়ে একবার দাগ কেটেছে ইমরোজ সে সম্পর্ককে অস্বীকার করে কিভাবে?

যায় হোক,কিছু বন্ধুকে খুঁজছে ইমরোজ’র শূন্য মন।ছেলে হোক কিংবা মেয়ে।চায় শুধু কিছু বন্ধু,যারা ওদের মত জীবনে চলার পথে কোন কঠিন সময়ে চলে যাবে না।যাদের সব কিছু খুলে বলতে পারবে ইমরোজ।এ বলাতে থাকবেনা কোন ভয়-ভীতি কিংবা শঙ্কা।হয়ত তারা শোনা ছাড়া কিছুই করতে পারবেনা।কিন্তু তবুও ইমরোজ বলতে চায়।সে শুধু শ্রোতা চায় আর কিছু না।

না ইমরোজ কোন বন্ধু পায়নি।কেনই বা পাবে?ইমরোজের কি আছে?না জানে নিজে হাঁসতে কিংবা না পারে কাউকে হাঁসাতে।না আছে অর্থকড়ি কিংবা মুখে কথার ফুলঝুড়ি।না আছে মডার্নেস কিংবা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা।আছে শুধু একরোখা ভাব আর ভাবগম্ভীর হয়ে বসে থাকার বদ-অভ্যেসটা।

ইমরোজ’র সাথে কেউ আসলে হয়ত তাকে শুধুই দুঃখের ভাগী হতে হবে।তাই কেউ আসে না।

এদিকে ইমরোজ’র এইসএসসি পরীক্ষা আসন্ন।সে কোন কোচিং সেন্টারে কোচিংও করেনি আবার কোন প্রাইভেট টিউটরের কাছেও পড়েনি।আবার সে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার আগের রাতে ফেসবুক থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে তা সলভ্ড করে পরীক্ষার হলে যায়নি।তাই নির্ভার হয়ে অন্য ছাত্রদের মত সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।আবার পারেনি মেধা প্রকাশে সহায়ক ঔদ্ধত্যপূর্ণ কোন অঙ্গভঙ্গি করতে।

এখন ইমরোজ’র চিন্তাকাশে ঘন কাল মেঘের আনাগোনা।একদিকে ভাল একটা জায়গায় ভর্তির চিন্তা অন্যদিকে রেজাল্ট পরবর্তী সময়ে সমালোচনার ধকল সহ্যের চিন্তা।এ নিয়ে ইমরোজ’র মাথাটা সারাদিন ঝিম হয়ে ধরে থাকে।কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছেনা সে।

কিন্তু চিপ্পিকে দেখার সময় ঠিকই তার মাথা থেকে সমস্ত চিন্তা উধাও।ও হ্যাঁ!চিপ্পি হচ্ছে ইমরোজ’র মনের মানুষ।যাকে সে তার খারাপ সময় শুরু হওয়ার পর থেকেই ফলো করে আসছে।অবশ্য শুধু ফলো-ই করে আসছে।কিছু বলা এখনো হয়নি।হবে কিনা তাও জানা নেই।কিভাবে বলবে?বলতে গেলে যে,ইমরোজ’কে খারাপ হতে হবে।ইমরোজ ছেলে হিসেবে খারাপ না।আবার বলছি না,কাউকে ফলো করা খারাপ কিছু না।তবে ইমরোজ শুধু ফলো করে আসছে।এ ফলো করার কিছু কারণও আছে।১.চিপ্পি চশমা পরে।চশমা পরা মেয়েদের প্রতি ইমরোজ’র কিঞ্চিত দুর্বলতা রয়েছে।২.কোন এক অজানা কারণে তাদের কাজের টাইমিং মিলে যাচ্ছে।এ যেমন,চিপ্পি কাপড় শুকাতে দেয়ার জন্যে চাঁদে আসল ইমরোজও কোন কাজে জানালার পাশে এসে হাজির।এভবে প্রথম দেখা।তারপর এভাবে দু-তিন দিন।অতঃপর ইমরোজ’র মনে ভাবনা।

অথবা রাস্তায়ও কোন কোন সময় কয়েক সেকেন্ডের দেখা।একদিন ইমরোজ যে দোকানের ক্রেতা চিপ্পিও সে দোকানের ক্রেতা।বাবা’র কাছে চিপ্স’র জন্যে বায়না।অতঃপর বাবা’র নিঃস্বার্থ আত্নসমর্পণ।এবং ইমরোজ’র অবাক তাকিয়ে থাকা।ইমরোজও চিপ্স খুব পছন্দ করে।কথিত আছে,ইমরোজ’র এক বছর বয়সে ওর মায়ের সিরিয়াস ডায়রিয়া হয়েছিল।প্রায় পনের দিন ইমরোজ চিপ্স খেয়ে বেঁচেছিল।এজন্যে এটা ইমরোজ’র কাছে অনেকদিন পর খুব উপভোগ্য ঘটনা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওর একটা নাম দেওয়া।অবশ্যই চিপ্স সংক্রান্ত হতে হবে।অতঃপর কিছুক্ষণ ভাবা।এবং চিপ্পি শব্দের আগমন।চিপ্স থেকে চিপ্পি।বাহ্!সুন্দর তো!এই শব্দের অর্থের কোন তোয়াক্কা নেই।প্রথম ভাবনাতেই আসা শব্দ এবং ভাললাগা।সুতরাং অর্থ যায় হোক ইমরোজ এ নামেই ডাকবে তাকে!ও এক কথা থেকে দু’বার বিচ্যুত হলাম।বলছিলাম ইমরোজ শুধু ফলো করে আসছে।এছাড়া অন্যকিছু বলা/করার কথা মাথায়ও আনতে পারছেনা।কারণ তার চিপ্পি অনুরুপ কিছু থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে রাস্তায় পুরো শরীর মুড়ে(বোরখা পড়ে)বের হয়।অতএব পথঘাটে কিছু বলা যাবেনা।এবং ছাদ থেকে দেখাদেখি শুধু ইমরোজ’র

পক্ষ থেকে একতরফা।তবে দু’বার চিপ্পির চোখাচোখি হয় তার।কিন্তু ইমরোজ তো পারেনা,ঐ সময় তার দিকে চেয়ে থাকতে।কিন্তু যখন চিপ্পির ছাদে আসার সময় হয় তখন ইমরোজ ঠিকই জানালার পাশে ঘুরাঘুরি করে।কি হবে ইমরোজ’র এ অযথা পাগলামির?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×