somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখ ১৪২২, কিংবা ১৪ এপ্রিল ২০১৫- বাঙালি সংস্কৃতির সূর্যাস্ত

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Death Note to Bangladeshi Culture

"আমরা বাঙালি, আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি" - এই পরিচয় টা খুব সম্ভবত আর স্থায়ী থাকছে না । ক্রমশ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো দেখলে এমনই এক আশংকা কাজ করে ।

Blogging - শব্দটার সাথে আমার ফ্রেন্ড লিস্টের বন্ধুদের ইম্প্রেশন কেমন তা জানি না । ২০১২ তে ব্লগিং জগতে যখন সর্বপ্রথম পদচারণ করি তখন "Somewhereinblog" ছিল বাংলাদেশের "চিন্তাশীল" মানুষদের প্রকাশক্ষেত্র । তথ্যনির্ভর লেখা, জ্ঞানী ব্যক্তিদের যুক্তির ঝংকার, আর লেখালেখির বহুমাত্রিকতা , এগুলো ছিল নেশা ধরানো

ব্যাপার । শুধু কি তাই ! সেখানকার গল্প গুলো পড়ে, মিডিয়া রিভিউ জাদুমন্ত্রের মত মোহিত করে রাখত ।

ভার্সিটির বড় ভাইদের কথায়, " চিন্তাটাকে ছড়িয়ে দে" এই নীতিতে মেনে ব্লগিং রাজ্যে আমিও প্রবেশ করি, ভিকারুন্নিসা স্কুলের একজন ছাত্রীর গাড়ি ভাংচুরে আহত হওয়া বিষয়ক পোস্ট নিয়ে প্রথম লেখাতেই বড় ভাইদের উৎসাহ পেয়ে সামু তে সময় দিতে থাকি ।

সে সময় কিছু ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার সেখানে পাই । "ধর্মবিদ্বেষী ফ্যানাটিক" তবে এরা ছিল খুবই হাতে গোণা ।
এটেনশন সিকার ছাড়া তাদেরকে কিছুই মনে হয় নি । কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল এটা স্ব প্রণোদিত না, বরং ইশারায় চালিত

এডমিশন সংক্রান্ত ব্যস্ততা আর মেডিকেলে আসার পর প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে ফেরবো, এ সময় এলো এক আকস্মিক ব্যাপার ।

আনলাকি ২০১৩ তে "চিন্তাশীলদের অভয়ারণ্য" আস্তে আস্তে খরায় পড়লো । "নাস্তিক ব্লগার" উপাধি দিয়ে বাংলাদেশে অনলাইন এক্টিভিস্ট খুনের সূচনা হলো । ব্লগ কী, তা একটা শিক্ষিত জিনিসে সীমাবদ্ধ ছিল ।

অতঃপর সমগ্র দেশব্যাপী জনসাধারণের কাছে কৌশলে সেটা ছড়িয়ে দেওয়া হলো " নাস্তিকদের আখড়া " হিসেবে ।

ব্লগিং এর জায়গা দখল করলো ফেসবুক, উন্মেষ ঘটলো "ফেসবুক সেলিব্রিটি" নামক এক সম্প্রদায়ের । হয়তো সেটাই ছিল যুগের দাবি

Facebooking আর Blogging এর ভেতর কিছু পার্থক্য আছে । ফেসবুকে ব্যাক্তিই মুখ্য, বিষয়বস্তু গৌণ হয়ে যায় অনেক সময় । কিন্তু ব্লগিং এ তা নয় । সেখানেই লেখার মান আর বিষয়বস্তুই প্রধান ।

বর্তমানের যে ঘটনায় এই লেখাটা লিখতে বসলাম, সেটায় এখন আসি । বাংলাদেশী মানুষের কাছে যদি একটা উৎসব ছিল, যেটা ছিল সার্বজনীন, তা ছিল পহেলা বৈশাখ । সবাইকে "শুভ নববর্ষ" বলার মাঝে যে তৃপ্তি টা পাওয়া যায়, সেটার এক আলাদা স্থান আছে । তাই ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এই দিন টিকে কম গুরুত্ব দেওয়ার কোন অবকাশ ছিল না ।

এ দেশে কোন এক শক্তি অতি সক্রিয়, যারা আমাদের সংস্কৃতি কে পাল্টে দেওয়ার জন্য সদা তৎপর । নববর্ষে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এ ঘটে যাওয়া ঘটনা তে এটার কিছু যোগসূত্র পাচ্ছি, আমি । এখন থেকে আগামীতে হয়ত পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশী মানুষের জন্য " সার্বজনীন উৎসব" থাকবে না, বিশেষত নারী সমাজের কাছে তা হয়ে যাবে "আতঙ্কের দিন" ।

পহেলা বৈশাখ এ কলঙ্ক লেপন কোন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর সাময়িক উন্মত্ততা আমি মনে করি না , বরং "Its a part of a masterplan" . এটা সেই পরিকল্পনারই অংশ, যে পরিকল্পনার প্রথম Blow এসেছিল ২০১৩ সালে । যে পরিকল্পনায় "চিন্তাশীল মানুষদের মিলনমেলাকে" আখ্যায়িত করা হয়েছে "ইসলামের শত্রুদের আখড়া" হিসেবে ।

এটা কে আমি কোন রাজনৈতিক (ক্ষমতাসীন, বিরোধী, ৩য় শক্তি) দলের কর্ম ভাবতে চাই না । এ এমন রহস্যজনক শক্তি, যাদের গুপ্তচর প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই মিশে আছে

মজার বিষয় কী , আমাদের মুসলিম সমাজে প্রচলিত কিছু "জাল হাদিসের" সন্ধান প্রথম পেয়েছিলাম ব্লগথেকেই । তাই বলবো, ব্লগ আমাকে "নাস্তিক" বানায় নি, বরং আমার ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধিই করেছে ।

Death Note (Anime Series) এর রেফারেন্স দিয়ে শেষ করছি । " If there is a Kira, there will be an L "
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×