somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ব্লগার(!)" দ্য ইলিউশনিস্ট

২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেশ কিছুদিন হল প্রথম পাতায় একসেস পেলাম। প্রায় ৩ মাস পর।

ফেসবুককে লেখালেখি করার একটা মাধ্যম হিসেবে তৈরী করতে চেয়েছলাম। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। অনেক সময় নিয়ে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে কোন লেখা স্ট্যাটাস দেয়ার পর কারো সাড়া না পেলে যেই অনুভূতিটা হয় তা আর আলাদা করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন বোধ করছি না। ফেসবুকে অপরিচিত কোন মানুষের বড় লেখা পড়ার ক্ষেত্রে মানুষের আলসেমি বেশি কাজ করে। ব্লগে হয়তো মানুষ লেখা পড়ার উদ্দেশ্যে আসে বলে এমন হয় না। তাছাড়া ফেসবুকে লেখালেখি করার উৎসাহ না পাওয়ার আরো একটা কারন আছে। ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার স্কুল বদলানোর ফলে আমার বন্ধুর সংখ্যা প্রচুর। যদিও খুব কাছের বন্ধু যতটুকু সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করি। বন্ধুর সংখ্যা প্রচুর হলেও তারা সবাই ইংলিশ ভার্সনের। সাহিত্যের রসকষ কিছুই বোঝে না। কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই জীবনে একটা উপন্যাসও পড়েছে কিনা সন্দেহ। আমি বাংলাই স্ট্যাটাস দেই দেখেই তাদের কত অভিযোগ। পড়তে বিরক্ত লাগে, মুবাইলে বাংলা সাপোর্ট করে না, হাবিজাবি, এই সেই। আবার কারো কারো ভাল লাগলে বলে, ইংলিশে দিস, শেয়ার করব। আমি নীরবে শুনে যায়। ফেসবুকে লেখালেখি করার জন্য একটু হলেও জনপ্রিয়তা লাগে। এভাবেই কিছুটা হলেও বুঝতে পারি আমার মত মানুষদের জন্য ফেসবুক লেখালেখি করার মাধ্যম হতে পারে না।

লেখালেখি করার ইচ্ছা দিন দিন বাড়তে থাকে। লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। সে স্বপ্ন রাতের স্বপ্নের মত অর্থহীন নয়। কারন এই স্বপ্ন আমি দেখি চোখ খোলা রেখে- কখনো পড়ার টেবিলে, আবার কখনো টয়লেটের ইংলিশ কমোডে বসে। যত দিন যায় স্বপ্ন বাস্তবায়নের ইচ্ছা তত তীব্র হতে থাকে। মাঝে মাঝে টেবিলে খাতা কলম নিয়ে লেখতে বসে যায়। মন খারাপ থাকলে কিংবা ক্রোধের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন থাকলে লেখার মুড আপনা আপনি চলে আসে। মাথায় নানা ধরনের, নানা রঙের চিন্তাভাবনা খেলা করে রিকশায় বাতাসের স্পর্শে, নীরবে ক্লাসের এক কোণে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকার সময়, দিনশেষে জীবনের হিসাব নিকাস কষে ছাদে তারা ভরা আকাশের নিচে কিংবা বিকেলের মেঘলা আকাশের নিচে হেটে আশেপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করার সময়। আমি এইসব চিন্তাভাবনা এলোমেলো ভাবে ডাইরিতে শব্দবন্দি করার চেষ্টা করি ঠিক যেরকম অগোছালো ভাবে লিখে যাচ্ছি এই পোস্ট। না কাউকে কখনো সে লেখা গুলো দেখিয়েছি না কোথাও প্রকাশ করেছি। মাধ্যমও অবশ্য ছিল না। তাই ভাল লেখি নাকি খারাপ লেখি বেশীর ভাগ সময় বুঝতে কষ্ট হয়। নিজেকে নিয়ে কে কি ভাবল না ভাবল তা নিয়ে মাথা ঘামাতে না পারাই সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা যা আমার পক্ষে আজ পর্যন্ত অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেজন্য আমার অখাদ্য লেখা গুলো পড়ে কে কি ভাববে না ভাববে এই ভেবে সেগুলো আর ফেসবুকেও দেয়া হত না। মনে কেমনে জানি 'আমি লেখালেখি করতে পারি না, ভ্যা ভ্যা' টাইপের একটা ধারনা সৃষ্টি হয়। আবার মাঝে মাঝে এই ধারনা ভুলও মনে হয়। ইদানিং প্রথম পাতায় একসেস পাওয়ার পর থেকে ব্লগে প্রায় যাওয়া আসা করা হচ্ছে। অনেক ব্লগারদের গল্প পড়ে আবার মনে হয় আমার ধারনাই ঠিক। তাদের তুলনায় আমাকে লেখালেখি জগতের মুর্গি বললেও বেশি হয়ে যাবে।

আমার মতে ব্লগের আসল মজাই কমেন্ট বক্সে। আমি যেহেতু আগে কখনো কারো মুখে নিজের লেখা সম্পর্কে কোন কথা শুনিনি, আমার কাছে প্রথম পাতায় একসেস পাওয়া কতটা আনন্দের বিষয় তা প্রকাশ করতে গেলে অনেক হাবিজাবি কথাবার্তা চলে আসবে। ফেসবুকের ২০০ টা লাইকের চেয়ে নিজের লেখা সম্পর্কে ১০ জনের ১০ টা মন্তব্য পড়ার অনুভূতিতে অনেক গুণ বেশী ভালো লাগা মিশে থাকে বলে মনে হয়। তাছাড়া আজকাল এডমি পাবলিক আর লাইক ব্যাক ভিক্ষুকরা ফেসবুকের সুন্দর পরিবেশ দুষিত করার ক্ষেত্রে ভালই ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অনেকে গুড মর্নিং লেখে ২০০ লাইক পায় আর অনেকে ভাল লেখে ২০ টা লাইকও পায় না। ব্লগে এই ছাগলামি করার সুযোগ নেই। যারা মন্তব্য করছে তারা সকলেই নিজ যোগ্যতায় সে ক্ষমতা অর্জন করে নিয়েছে। এত এত অসাধারন ব্লগার! অল্প কয়েকদিনেই সামুর প্রতি এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়ে গেল। ফেসবুকে অনেক সময় দেখি কুয়ালিটি ছাড়া পোস্টেও কুয়ান্টিটির অভাব নাই। আর ব্লগে কুয়ালিটির ছড়াছড়ি। এন্ড কুয়ালিটি বিটস কুয়ান্টিটি অল দ্য টাইম।

আমার লেখালেখি করার প্রবল ইচ্ছা থেকে সামুতে আসা। লেখা খারাপ হলেও প্রকাশ করতে তো সমস্যা নেই। তখন আমি ব্লগ সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। একাউন্ট খুলার পর ধাক্কাটা খেলাম। লেখা প্রথম পাতায় প্রকাশ হবে না, প্রথম পাতায় একসেস না পাওয়া পর্যন্ত নিজের পোস্ট ছাড়া অন্য কোন পোস্টে মন্তব্য করা যাবে না। অতঃপর অপেক্ষা, অপেক্ষা, অপেক্ষা। একসময় ধৈর্য হাড়িয়ে সামুর আশাও ছেড়ে দেই। সেইদিন মেইলে ঢুকে প্রথম পাতায় একসেস পাওয়ার খবর পেয়ে, এই কয়েকদিন ব্লগের আসল মজা বুঝতে পেরে, আবেগে আপ্লুত হয়ে কিছু সুখের অনুভূতি লেখতে বসে অনেক কিছুই বলে ফেললাম। এখন আর কাটা ছিড়াও করতে ইচ্ছা করছে না। জ্বী, আমি প্রচন্ড অলস। আপনারা ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে নিবেন। আমি লেখালেখির ভুবনে নতুন, পিউর কাঁচা। পাকা হওয়ার প্রত্যাশায় শেষ করছি। ধন্যবাদ!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩০
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×