somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃসংবাদ যখন আসে আন্ডা বাচ্চা এমন কি গোষ্টি শুদ্ধ এসে হাজির হয়

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিপদ যখন আসে তখন চারদিক দিয়েই আসে, আর দুঃসংবাদ যখন আসে আন্ডা বাচ্চা এমন কি গোষ্টি শুদ্ধ এসে হাজির হয়।
একটার পর একটা দুঃসংবাদ এসে হাজির হতেই থাকবে, শুনতে শুনতে কান জ্বালপোড়া হয়ে যায়।

গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম পানির লাইন অফ করা আছে, রাতে নাকি কিচেনের একটা ফিটিংস ফেটে পানি পরছিল তাই হাউজিং বোর্ডের লোক ডেকে আমাদের মেইন লাইন অফ করা হয়েছে। পরে প্লামভিং কোম্পানি ডেকে ফিটিংস ঠিক করলে তারপর পানির লাইন চালু করা হবে। মেজাজটা এখান থেকেই বিলা হওয়া শুরু।

৭.১৫ মিনিটে মোটর সাইকেল ওয়ার্ম আপ ক্লাশ তাই কোন রকম দৌড়ে বাস ষ্টপে গেলাম, কিন্তু যেই মাত্র বাসে উঠতে যাব দেখি ইজেড লিংক কার্ডে (বাস কার্ড) টাকা নাই। বাধ্য হয়ে টেক্সিতে উঠলাম, কপাল খারাপ থাকলে যা হয় এখনে পাইলাম বেন্জ মার্সেডিস এর টেক্সি যার ভাড়া অন্য টেক্সির প্রায় দ্বিগুন। সবশেষে ৬ ডলারের ভাড়া ১১.৬০ ডলার দিয়ে ড্রাইভিং স্কুলে নামলাম, হাতে এখনো অনেকটা সময় আছে তাই ক্যান্টিনে গিয়ে দুইটা কায়া টোষ্ট আর কফির অর্ডার দিলাম। দোকানি আমাকে ১৫ মিনিট পরে জানাল ব্রেড শেষ তাই কায়া টোষ্ট দিতে পারবেনা, বাধ্য হয়ে রাগে গিজ গিজ করতে করতে ক্লাশরুমে ডোকলাম।

ক্লাশে এসেই দেখলাম সুন্দরী তমা আর একজনের হাত দরে দাড়িয়ে আছে, আর ঐ ভদ্রলোক সুন্দরি তমার পেটে হাত দিয়ে মনে হয় চোলকাইতাছে। গতকাল মটরসাইকেল প্রেকটিস করতে এসে এই মায়াটারে দেইখা অনেক ভাল লাগছিল, নিজের কাজ ফালাইয়া ঐ মাায়ার টাইমিং ঠিক করে দিছি। গতকাল কত হাসিখুশিতেই না কথা বল্ল, ক্লাশ শেষে এক সাথে বাসষ্টপ পর্যন্ত গেল সাথ কত কোয়ারা আর নিটকানি। আজ চিনতেই পারেনা এমন একটা ভাব, শুধু একটু হাই বলেই আবার মজলুর সাথে ডলাডলি। মজলু বেটাও সুযোগে লিপিষ্টিক খাইয়া শেষ দিতাছে, যদি লিপিষ্টিক খারাপ ব্রেন্ডের হয় তাখলে আজকে মজলুর খবর আছে।

লাইলি মজলুর ডলাডলি দেখতে দেখতে রাইডিং এর সেফটি ইকুয়েবমেন্ট গুলি পরে নিলাম, এমন সময় ট্রেইনার এসে সবার প্রবেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স আর আইডিকার্ড জমা দিতে বল্ল আমিও দিলাম। কপাল খারাপ থাকলে কি আর বলতে হয়, নাম্বার টেক পাইলাম ২ অর্থাৎ আমাদের পরীক্ষা খুব কঠিক হবে বলতে গেলে প্রথম ১০ নাম্বার পর্যন্ত একজন একজন করে এন্ট্রি পয়েন্ট ছাড়তে হয়। পরে অবশ্যক ৫/১০ জন একসাথে যেতে পারে।

নাম্বার টেগ নিয়ে ট্রেনিং সার্কিটে গেলাম আমার ভাগ্য পরল ৪৩ নাম্বার বাইক, গতকাল এই বাইকে দেখলাম গিয়ার লিভার ভাল মতে কাজ করেনা। জাতা দিয়া দাড়াইয়া থাকলেও গিয়ার ২ থেকে ১ এ নামানো যায়না, নিউট্রালে গিয়া আটকাইয়া পরে। ফলাফল বারবার ইন্জিন ষ্টল হয়ে যাচ্ছে আর ওয়াচ পয়েন্ট থেকে চিল্লাফাল্লা করতাছে।
কোন রকম একটা রাউন্ড দিয়ে এসে যখন স্যারের কাছে বাইক জমা দিলাম, স্যার তখন আমারে আরো চিল্লান দিয়া কইলো ৪৩ নাম্বার বাইক নষ্ট গতকাল থেকে কেন আমি এই বাইক নিলাম। আমিতো শুনেই শেষ তাখলে নষ্ট বাইক নিয়েই আমি এক রাউন্ড শেষ করে আসলাম তারমানে আমি একজন পাক্কা রাইডার, নষ্ট বাইক দিয়েও এক্সাম সার্কিট কাভার করতে পরছি। এতো একেবারে বাঙ্গালির ষাড় থেকে দুধ দোখনের গল্পের মত হয়ে গেল।

যাক্কে অরিজিনাল টেষ্টের সময় আমি পাইলাম আমার প্রিয় ৬০-৬৯ সিরিয়ালের ৬৩ নাম্বার বাইক, যেই মাত্র ষ্টেশন পয়েন্ট থেকে মুভ করতে যামু তখন দেখি সুন্দরি তমা ৪৭ নাম্বার টেগ নিয়ে লাইনে দাড়িয়ে আছে কেমন জানি বুকের ভিতরে একটা চিং করে উঠল। ট্রাফিক পুলিশের সব নিয়মই কাভার করলাম সার্কিটে, এবং রোডে বাহিরে হয়ে দেখি একটা এক্সিডেন্ট একেবারে জাংশনের মধ্যে। পরে গেলাম একটা কনজিউশনে এখন কি করমু, কোথা থেকে শুরু করমু আর কোথয় শেষ করমু বুঝতে পারছিলাম না। কোন রকম অন্য গাড়ির সাথে সিগনাল শেষ করলাম কিন্তু ঝামেলার যা শুরু তাতে মনে হয় আমার সার্কিটে ফিরে আসতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে।
যায়হোক দশ মিনিটের রাস্তা প্রায় ৪৫ মিনিট লাগল শেষ করতে, সবটা টেষ্ট রোডেই ছিল জ্যাম।

সব ঝামেলা শেষ করে কোনরমন ইন্ড পয়েন্টে এসে বাইক জমা দিয়ে আমি ছোটলাম ওয়েটিং রুমে রেজাল্ট আনার জন্য, সেই ১০টা থেকে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১.৩০ শে রেজাল্ট দিল। সেই চিরচেনা নিয়মের রেজাল্ট, "ফেইল"

রেজাল্ট হাতে পেয়ে খুব বেশি দেড়ি করিনি, সোজা হাটা দিলাম আমার অফিসের দিকে। নিচে নেমে দেখি সুন্দরি তমা একটা অট্ট হাসি দিয়ে বলছ "গতকালের আপনার হেল্পের জন্য অনেক ধন্যবাদ"
মেজাজ খারাপের চরম পর্যায়ে পৌছলে যা হয় আমারো তাই হচ্ছিল কিন্তু তারপরও ক্লোজআপ ওয়ানের একটা এডের মত হাসি দিয়ে চলে আসতে চাইলে সুন্দরি হাত বাড়িয়ে বল্ল আপনার নাম্বারটা দিয়ে গেলে ভাল হত, মাঝে মাঝে কথা বলতে পারতাম। পকেটে কলমও নেই মানিব্যাগে দেখলাম কার্ডও নেই, সুন্দরি মোবাইলও আনেনি যে নাম্বারটা টুকে নিবে। সবসময় মানিব্যাগ ভর্তি কার্ড থাকে, আর আজকে একটাও নেই। মেজাজ খারাপ থেকে খারাপই হয়ে যাচ্ছে। কমার কোন লক্ষন নেই, বাধ্য হয়ে আমার বসের একটা কার্ড দিলাম যাতে অফিসের নাম দেয়া আছে।

এত কিছু শেষ করে দুপুর ১২.৩০ শে অফিসে এসে পৌছলাম, সবাইতো কত ঠাট্টা মশকরা করছে তারও কোন হিসাব নেই। সব কিছু ছোট্ট একটা হাসির মাধ্যমে গ্রহন করেই নিচ্ছিলাম।

কম্পিউটার অনকরতেই দেখলাম সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদটা অপেক্ষা করছে আমার জন্য, পিএসবি একাডেমি থেকে জানিয়েছে আমার ডিপ্লোমার সাবজেক্ট পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমানে "ডিপ্লোমা ইন ইন্ডাষ্টিয়াল ইন্জিনিয়ারিং" শেষ করলে সরাসরি "ব্যাচলর ইনভাইরনমেন্ট সেফটি এন্ড হেল্থ" কোর্স জয়েন করা গেছে যা অষ্ট্রেলিয়ার নিউকাষ্ট ইউনিভার্সিটির আন্ডারে হয়ে থাকে।
কিন্তু এখন "ডিপ্লোমা ইন ম্যাকানিকাল ইন্জিনিয়ারিং" করতে হবে যার মেয়াদ কাল ২ বছর এবং এর আগে একটা ব্রিজিং কোর্স করতে হবে যার জন্য সময় লাগবে আরো ৫ মাস। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ বছর লাগবে আমার ডিপ্লোমা শেষ করতে, যেখানে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইন্জিনিয়ারিং করতে সময় লাগতো মাত্র ১১ মাস।
ফোন করলাম আরো ডিটেলস জানার জন্য, এরা বল্ল আমি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইন্জিনিয়ারিং এর জন্য যে টাকা জমা দিছি তা আর ফেরত পাবনা এখন নতুন করে মেকানিকাল ইন্জিনিয়ারিং এর জন্য আবার টাকা দিতে হবে। সব টাকা একবারে দিতে হবেনা ৩টা কিস্তিতে দেওয়া যাবে। এদের কথা শুনে মনে হল, কোন একটা বাঙ্গালি ডোজ এদের মাঝে মিশে আছে, নাখলে এমন করতো না।
কি আর করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মেকানিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং এর জন্য টাকা জমা দিয়ে একটা একটা কফি বানাতে গেলাম তাখন দেখি অফিসের কোল্ড এন্ড হট ডিস্পেন্সর নষ্ট তাই রাগে ক্ষোভে নরমাল পানির সাথে কফি মিশাইয়া ডকডক করে গিলে ফেল্লাম।

আসলেই সব দিন সবার জন্য সমান যায়না, শত খারাপ খবরের মাঝেও অনেক ভাল খবর আমাদের জন্য অপেক্ষা করে। যেমন টি আমার জন্য অপেক্ষা করছিল ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে ঈদের উপহার হিসাবে একটি টি-শার্ট, যা আমাকে সারা দিনের রাগ অবিমান ভুলিয়ে দিয়েছে।
জীবনে ভাল খারাপ অনেক সময় আসবে, তাই বলে হতাশ হলে চলবেনা। ভালটাকে গ্রহন করে জীবনের মত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এটাই হোক জীবনের আসল মন্ত্র।


সবশেষে -
দেশে বিদেশে অবস্থানরত সকন মুসলমান ভাই বোন এবং বন্ধু মহল সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছে, ভাল থাকবেন সবাই অনেক ভাল।
ঈদের আনন্দ ভুলিয়ে দিক আমাদের পূর্বের দিনের শত কষ্ট এবং ব্যর্থতা, নতুনের বার্তা নিয়ে আসুক এবারের ঈদ।

ঈদ মোবারক
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:১৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×